নাগিন নাচে ফেঁসে গেলেন সিলেটের ৫ শিক্ষক

Print
নাগিন নাচে ফেঁসে গেলেন সিলেটের ৫ শিক্ষক

উচ্চ স্বরে বাজছে ‘নাগিন, নাগিন…’ গান। তালে তালে ফণা তুলে নাচছেন সিলেটের নাম করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাঁচ শিক্ষক। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। তারা এ নিয়ে প্রতিবাদী হয়ে ওঠায় পাঠদান কার্যক্রম থেকে ওই পাঁচ শিক্ষককে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হোসনে আরা বলেন, শিক্ষকদের নাচের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আমার সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ করেন। এরপর ওই পাঁচ শিক্ষককে পাঠদান থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা জানান, গত ১২ অক্টোবর ব্লু-বার্ড স্কুলের পাঁচজন শিক্ষক নিজেদের ব্যক্তিগত আয়োজনের নাচের একটি ভিডিও ‘লিটমাস পেপার -Bangla TV’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করেন। ১ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডের ভিডিওটিকে ‘ফরমালিনমুক্ত ড্যান্স’ শিরোনাম দেয়া হয়। তাদের এ কাণ্ড দেখে ক্ষুব্ধ হন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। এতে বর্তমান শিক্ষার্থীরাও বিব্রত।

ভিডিওতে ‘নাগিন, নাগিন…’ হিন্দি গানের সঙ্গে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে নাচে মত্ত থাকতে দেখা যায় সহকারী শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া, হাবিবুর রহমান বাপ্পা, সুমন চন্দ্র দে ও মো. মিজানুর রহমান এবং হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আতাউর রহমান ভুঁইয়াকে। ভিডিওটি আপলোড করেন সহকারী শিক্ষক ও এই নাচের অন্যতম পারফর্মার হাবিবুর রহমান বাপ্পা। যে চ্যানেলে এই ভিডিওটি আপলোড করা হয়েছে সেই চ্যানেলে স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন টিউটোরিয়াল ভিডিও ইতিপূর্বে আপলোড করা হয়েছে ।

ভিডিওটি অশ্লীল আখ্যা দিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কয়েকজন অভিভাবকও। তারা জানান, ইউটিউব চ্যানেলটি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষণীয় ভিডিও আপলোড করতে দেখেছেন। যে শিক্ষকেরা চ্যানেলে শিক্ষণীয় বিষয় প্রচার করতেন, তারা নাচের ভিডিওটি আপলোড করে চরম অনৈতিকতার পরিচয় দিয়েছেন।

তবে এ নিয়ে নেতিবাচক সমালোচনার মুখে শিক্ষকরা ভিডিওটি অপসারণ করে নেন। কিন্তু এরই মধ্যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে গেছে।

ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বলেন, একজন শিক্ষককে শিক্ষার্থীরা আদর্শ মেনে অনুসরণ করে থাকে। অথচ প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষক যে ভিডিও আপলোড করেছেন, তা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রী ও নারী উদ্যোগতা সায়মা রহমান সুমি ফেসবুকে লিখেছেন, এরা টিচার! টিচার আসছেন শুনলে ক্লাসে পিনপতন নিরবতা নেমে আসতো । এরা কেমন টিচার?

সাংস্কৃতিক কর্মী ও স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রী নবেরা আক্তার লিখেছেন, আহা! আমাদের স্কুল্টা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 73 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com