নাটোরের সিংড়ায় স্কুল শিক্ষকের নামে যৌন হয়রানির অভিযোগ

Print
জেলা প্রতিনিধি, নাটোরঃ নাটোরের সিংড়ার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের গণিত শিক্ষক ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যৌনহয়রানী, ভোগান্তি, হুমকি প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন (বিএইসআরসি) সিংড়া উপজেলা শাখা, সিংড়া উপজেলা প্রেসক্লাব, পরিবেশবাদী সংগঠন চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন। অপরদিকে একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষক ফজলুর রহমানকে চরিত্রহীন আখ্যায়িত  করে বলেন-সম্প্রতি নৃসংসতার শিকার ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতের মতো পরিণতি আর যেন কারো না হয়।
সূত্রে জানা যায়, গত ১১এপ্রিল নাটোরের সিংড়ার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের গণিত শিক্ষক ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌনহয়রানী, ভোগান্তি, হুমকি প্রদান সহ মোট ১২টি অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ কয়েকটি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন ওই প্রতিষ্ঠানের ১৩জন শিক্ষার্থী এবং ১১জন অভিভাবক। আর অভিযুক্ত শিক্ষক ফজলুর রহমানকে দ্রুত অপসারনের পাশাপাশি কঠোর শাস্তির দাবীও করেন তারা। অভিযোগে বলা হয়, সিংড়ার বিয়াম স্কুলের গণিত বিভাগের শিক্ষক ফজলুর রহমান তার বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের রাতে ফোন করে কুপ্রস্তাব দেন। আর তার কুপ্রস্তাবে রাজি হলে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বেশি নম্বর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তার কাছে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করেন। এছাড়া পাইভেট পড়ানো অবস্থায় একাধিক শিক্ষার্থীর স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেওয়াসহ যৌন হয়রানি করেন তিনি
আর এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১২ এপ্রিল শুক্রবার যুগান্তরের নগর-মহানগর পাতায় “ সিংড়ার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ-আতঙ্কে অভিভাবকরা” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা ব্যাপি তোলপাড় শুরু হয়েছে। ফেইসবুকে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে ঝড় ওঠে।
এবিষয়ে স্কুলের অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, যে ছাত্র দুটো এই পত্রিকা পুড়ানোর কাজে জড়িত। তারা দশম শ্রেণির ছাত্র স্বাধীন ও পরশ। তারা পত্রিকা পুড়ানোর বিষয়টি বুঝতে পারি নাই। আর আপনাদের এলাকার এক সাংবাদিক এই পেপার এনে দিয়ে আগুন দিতে বলেছে। তাদেরকে ছোট ভাই মনে করে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন। তা না হলে ইউএনও স্যারও তাদেরকে ক্ষমা করবেন বলে জানান তিনি।
তদন্ত কমিটির প্রধান এসিল্যান্ড বিপুল কুমার বলেন, তদন্তর ফলাফল এখন জানানো যাচ্ছে না। তবে লিখিত তদন্ত শেষ হয়েছে। এখন রিপোর্ট তৈরি করতে যে সময়টুকু লাগবে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন (বিএইসআরসি) সিংড়া উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক তাইফুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়া হলে মানববন্ধন কর্মসুচিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দেয়া হবে।
এবিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, যুগান্তর পত্রিকায় আগুন দেয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। তবে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শুনে এর যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। আর ইতিমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের তদন্ত শেষ হয়েছে। এখন প্রতিবেদন হাতে পেলেই প্রকাশ করা হবে।
[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 92 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com