নারী ও সংসার

Print

সাদিকুর রহমান।

 

আমাদের সমাজে এমন একটা সময় ছিল, যখন নারীর ঘর ছেড়ে সংসারের বাইরে যাওয়াটা ছিল ট্যাবু।তখন মনে করা হত যে নারী ঘরে থাকার জিনিস;তাই তারা বাইরে কেন যাবে? তারা প্রয়োজনে পিতা,স্বামী, সন্তানের সহায়তা নিবে। তবু তার ঘরে থাকা চাই।বাইরে যাওয়া মানেই নারীর নারীত্বে প্রশ্ন উটা।কী অদ্ভুত ছিল সেই সমাজ!

কিন্তু একটা সময় মানুষ বুঝতে শিখল আসলে নারী আমাদের মতই রক্তে মাংসে গড়া দেহ মন নিয়ে তৈরি একজন। তার আছে আলাদা সত্তা। সে চিন্তা করতে পারে,সে নিজেকে নিজের মত করে গড়ে তুলতে চায়।

আর সে চাওয়াটা অবশ্য পরিবারের ঐতিহ্যের বাইরে গিয়ে নয়;বরং নিদ্রিষ্ট একটা ট্যাবুর ভিতরে থেকেই।

অথচ এই সমাজেই নারীর পাশের পুরুষটি চিন্তা করে যেমন স্বাধীন ভাবে তেমনি কাজও করে স্বাধীন ভাবে।

আর তার কাজ মন্দ হলেও কিছু যায় আসেনা। কারন সে পুরুষ। আর পুরুষ অন্যায় বৈ কিছু করতেই পারে।যেন তার বেলায় সাত খুন মাফ।এভাবে সমাজ চলেছে অনেক দিন।একটা সময় নারী সংসার ঠিক রেখেই সমাজের উন্নয়নে, পরিবারের স্বার্থে কাজে যোগ দিল।আর তখনই দেখা গেল তাদের উপর ধর্মীয় খড়গহস্ত।

এভাবে সব কিছুকে জয় করে নারী তার পথে অবিরাম এগিয়ে চলল।একটা সময় তারা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে শুরু করল।কিন্তু সেই শিক্ষাকে কাজে লাগতে গিয়েও বাধা! যেন নারীর সার্টিফিকেটের সাথে তার বুদ্ধিমত্তা কেও আলমারিতে ভরে রেখে তার কাঁধে জোয়াল রেখে সমাজের নেতৃত্ব পুরুষের হাতে রাখা।

তারপর সব কিছুকে জয় করে নারী একসময় কর্মক্ষেতে এল।তখন সে যেন হয়ে গেল কাজের মেশিন। সে অফিসে কাজ করবে, আর বাসায় ফিরেও সংসারের কাজ করবে।অথচ এই সংসারে সে গৌণ।

আমাদের এই শহুরে জীবনে সবচেয়ে বেশি কষ্টের শিকার বিভিন্ন গার্মেন্টসে কর্মরত কর্মজীবী নারীরা।

তাদের পরিশ্রম করতে হয় দ্বিগুণ। একদিকে চোখে ঘুম নিয়ে সকাল বেলায় রান্নাবান্নার কাজ অন্যদিকে সূর্য তার আলো পৃথিবীতে ছড়িয়ে না দিতেই অফিসের উদ্দেশ্যে বেড় হয়ে যাওয়া।এদিকে পরিবারের প্রধান কর্তা কিন্তু তখন পর্যন্ত ঘুমে বিভোর। আর নারী রাজ্যের কাজ সেরে পরিবারের উন্নতিতে অফিসের কাজে ব্যস্ত। কিন্তু কথা হল এই কাজগুলোই যদি দুই জনে মিলে করা হয় তাহলে সংসার জীবনে নারীর যেমন কষ্ট কম হয় ; তেমনি পরিবারে বিরাজ করে অনাবিল ভালবাসা। আর সে জন্য নারীকে যেমন জাগতে হবে ;তেমনি সচেতন হতে হবে আমাদের সমাজের পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের।সংসারের কাজে পুরুষের সহায়তাই মূলত নারীকে কাজে আরো বেশি বেগবান করে তুলতে পারে।

তাই প্রত্যেক পুরুষই নারীর কাজে সহায়তা করে সমাজ কে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে এই হোক আমাদের প্রত্যাশা।

[ সাদিকুর রহমান,জাহাংীরন বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার , ঢাকা]

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 699 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com