পাঁচ মাসে পুলিশের ওপর তিন সন্ত্রাসী হামলা

Print

গত পাঁচ মাসে রাজধানী ঢাকায় পুলিশকে লক্ষ্য করে অন্তত তিনটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটছে। এতে কেউ প্রাণ না হারালেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন।

প্রতিটি হামলাই হয়েছে আচমকা, সন্ধ্যা বা রাতে। কিছু বুঝে উঠার আগেই পালিয়েছে হামলাকারী। কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আর হামলার পর অনলাইনে দায় স্বীকার করার ঘোষণা এসেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী আই এসের নামে।

অবশ্য সরকার বা পুলিশ বলছে, এগুলো আইএসের কাজ নয়। এগুলো স্থানীয় সন্ত্রাসীদের কাজ। জঙ্গি বা অপরাধীদের ‘দুর্গ’ ধ্বংস করে দেওয়ায় তারা পুলিশকে প্রতিপক্ষ ভাবছে। আর বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য এসব হামলা চালানো হচ্ছে।

সবশেষ শনিবার রাত সোয়া নয়টার দিকে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের গাড়িবহরের দায়িত্বে থাকা পুলিশের এএসআই শাহাবুদ্দিন ও ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল আমিনুল হাতবোমা হামলায় আহত হন। বোমাটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা অন্ধকারে ছেয়ে যায়। পাশে থাকা পুলিশ সদস্যরা ছুটে এসে দুইজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এর আগে ২৯ এপ্রিল গুলিস্তানে পুলিশের ওপর বোমা হামলা চালানো হয়। সেদিনও ট্রাফিক পুলিশের দুই জন সদস্য ও একজন কমিউনিটি পুলিশ সদস্য আহত হন। হামলার শুরুতে ককটেল নিক্ষেপ বলে ধারণা করেছিল পুলিশ। পরে জঙ্গি নির্মূলে ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, এগুলো শক্তিশালী বোমা। বোমায় যুদ্ধে ব্যবহারের ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) ব্যবহার করা হয়েছিল।

ঘটনার পর ২৪ মে মামলাটি তদন্তে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। মামলাটি তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে ঘটনার সময় বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ এর পেছনে বিদ্যুৎ বিভাগের কেউ সম্পৃক্ত কি না, এটি অনুসন্ধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু কাজ আগায়নি বলার মতো।

এই ঘটনার ২৮ দিন পর ২৬ মে রাত পৌনে নয়টার দিকে রাজধানীর মালিবাগের পলওয়েল ফিলিং স্টেশনের বিপরীতে ফ্লাইওভারের নিচে রাখা পুলিশের বিশেষ শাখার একটি পিক-আপভ্যানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। ট্রাফিক পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রাশেদা আক্তার এবং রিকশাচালক লাল মিয়া ও পথচারী শাহনাজ শারমিন সে সময় আহত হন।

এ ছাড়া গত ২৩ জুলাই রাতে রাজধানীর পল্টন ও খামাড়বাড়ি পুলিশ বক্সের কাছে ফেলে রাখা বোমা উদ্ধার করা হয়। তখনও দায় স্বীকার করে বিবৃতি এসেছিল আইএসের নামে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘হলি আর্টিজানে হামলার (২০১৬ সালে) পর আমরা জঙ্গিদের গ্রেপ্তার, তাদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছি। মোটাদাগে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। এই কারণে তারা পুলিশ বাহিনীকে প্রতিপক্ষ মনে করছে। তাই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।’

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 22 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com