পুরুষেরা যে পাঁচ উপসর্গ অবহেলা করবেন না

Print

চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষেরা নারীদের চেয়ে বেশি উদাসীন। এর অন্যতম কারণ হলো পুরুষদের কর্মব্যস্ততা। কিন্তু সকল উপসর্গকে অবহেলা করা যায় না, কিছু কিছু উপসর্গকে অবহেলা করার মানে হলো অকালে মৃত্যুকে ডেকে আনা। কখনো কখনো কোনো চুলকানি হতে পারে সাধারণ চুলকানি অথবা মাংসপেশির ব্যথা হতে পারে সাধারণ মাংসপেশির ব্যথা।কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গ অথবা উপসর্গের নির্দিষ্ট প্যাটার্ন ইঙ্গিত দিতে পারে যে আপনার শরীরে মারাত্মক সমস্যা হয়েছে অথবা মারাত্মক কিছু বিকশিত হচ্ছে। এখানে পুরুষদের অবহেলা করা উচিত নয় এমন পাঁচটি উপসর্গ উল্লেখ করা হলো।

  • যে পিণ্ড চলে যাচ্ছে না

আপনার মুখমণ্ডলের ত্বকে আবির্ভূত বাম্প বা পিণ্ডকে আপনি হয়তো পিম্পল বা আঁচিল মনে করতে পারেন এবং কিছু পুরুষ রেজার দিয়ে এটিকে আঘাত করে রক্ত ঝরায়, বলেন নিউ ইয়র্ক সিটিতে অবস্থিত মাউন্ট সিনাই হসপিটালের ডার্মাটোলজিস্ট হুইটনি বোভি। তিনি যোগ করেন, ‘অনেক পুরুষেরা নতুন স্ক্র্যাচ অথবা স্কার (ক্ষতচিহ্ন) নিয়েও ত্বক বিশেষজ্ঞের কাছে ছুটেন।’ এই রহস্যময় পিম্পল হতে পারে ব্যাসাল সেল কার্সিনোমা। ব্যাসাল সেল কার্সিনোমা হলো স্কিন ক্যানসারের একটি চিকিৎসাযোগ্য ধরন- এটি নারীদের চেয়ে পুরুষদেরকে বেশি আক্রমণ করে, সম্ভবত দুই গুণ বেশি, আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি অনুসারে। অন্যান্য হট স্পটও চেক করুন, বিশেষ করে আপনি সূর্যের নিচে বেশি সময় কাটালে, যেমন- মাথার ত্বক, চোখের পাতা, কানের শীর্ষাংশ ও পিঠ। মেলানোমা যতটা দ্রুত ছড়ায়, ব্যাসাল সেল ততটা দ্রুত ছড়ায় না। কিন্তু আপনি চিকিৎসা নিতে দেরি করলে স্কারটি আপনার মুখকে আরো বেশি বিকৃত করতে পারে। ডা. বোভি বলেন, ‘সাধারণত পুরুষেরা বিস্তৃত স্কার নিয়ে আমাদের কাছে আসেন, কারণ তারা এটি চলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে।’

  • বাথরুম সমস্যা

আপনি হঠাৎ করে একাধিকবার মূত্রত্যাগের জন্য রাতে জেগে ওঠলে অথবা সারাদিন জুড়ে ঘনঘন মূত্রত্যাগ করলে অথবা মূত্রের প্রবাহ কমে গেলে অথবা মূত্রত্যাগ অসম্পূর্ণ থেকে গেলে অথবা মূত্রত্যাগ করতে যন্ত্রণা বা জ্বালাপোড়া হলে এর জন্য বর্ধিত প্রোস্টেট দায়ী হতে পারে। সকল পুরুষের মধ্যে প্রায় অর্ধেক পুরুষের এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। কিছু পুরুষ চিকিৎসা না নিলেও একসময় মূত্রত্যাগের সমস্যা চলে যায়, কিন্তু অস্বস্তি দূর করতে অন্য পুরুষদের ওষুধের প্রয়োজন রয়েছে। কিডনি ড্যামেজ অথবা অন্যান্য জটিলতা এড়াতে বর্ধিত প্রোস্টেটের পুরুষদের সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে, বলেন ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের ইউরোলজিস্ট রায়ান বারগ্লুন্ড। সমস্যাপূর্ণ মূত্রের প্রবাহ ডায়াবেটিস অথবা বিরলক্ষেত্রে প্রোস্টেট ক্যানসারেরও আভাস দিতে পারে।

  • বেডরুম সমস্যা

হঠাৎ করে আপনার প্রজননাঙ্গ বিশেষ মুহূর্তে সচরাচরের তুলনায় নিস্তেজ হয়ে পড়লে চিকিৎসককে দেখানো উচিত, নিজে নিজে ভায়াগ্রা সেবন করতে যাবেন না, বলেন ডা. বারগুন্ড। বয়স ৪০- পুরুষদের এক-চতুর্থাংশই ইরেক্টাইল ডিসফাংশনে (যৌনমিলনের সময় পুরুষাঙ্গ যথেষ্ট খাড়া না হওয়া) ভুগে থাকেন। এটা ঠিক যে মদপান বা ধূমপানের মতো ক্ষতিকারক অভ্যাস অথবা মানসিক চাপেও ইরেক্টাইল ডিসফাংশন হয়, কিন্তু লাইফস্টাইলের কারণে আপনার সঙ্গিনীকে সুখ দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন মনে করে ঘরে বসে থেকে যৌন উত্তেজক ওষুধ বা হার্বাল সেবন করা ভালো আইডিয়া নয়। এটা মনে রাখা ভালো যে, ইরেক্টাইল ডিসফাংশন কার্ডিওভাসকুলার অথবা হার্ট ও রক্তনালি সমস্যার একটি প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। রক্তনালিতে প্রতিবন্ধকতা হলে হার্টে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। তাই বেডরুমে আপনার সঙ্গিনী নাখোশ হলে এ সমস্যার মূল কারণ শনাক্ত করতে চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন এবং সম্ভাব্য হার্ট অ্যাটাক অথবা স্ট্রোক প্রতিরোধ করেন।

  • মেজাজের অবনতি

ইদানিং আপনি কি সহজে রেগে যাচ্ছেন? আপনার মেজাজ কি খিটখিটে হয়ে গেছে? আপনার মধ্যে কি আগ্রাসী ভাব রয়েছে? আপনি কি ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে ধাবিত হচ্ছেন? পুরুষদের মধ্যে এভাবে বিষণ্নতার প্রকাশ ঘটে থাকে। অনেক বিষণ্ন পুরুষ বাজে অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ে। বিষণ্নতার সাধারণ উপসর্গগুলো পুরুষদের ক্ষেত্রে ভিন্নভাবে প্রকাশ পেতে পারে, যেমন- আপনি নির্জনে চলে যাওয়া অথবা দুঃখ অনুভবের পরিবর্তে রাগে ফেটে পড়তে পারেন অথবা আপনি বেশি করে ড্রিংক করতে পারেন, সচরাচরের চেয়ে দ্রুত গাড়ি চালাতে পারেন অথবা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিযুক্ত হতে পারেন, বলেন ম্যাসাচুসেটসের ওরচেস্টারে অবস্থিত ক্লার্ক ইউনিভার্সিটির সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মাইকেল অ্যাডিস। পুরুষেরা বিষণ্নতা থেকে মুক্তির উপায় তেমন একটা খুঁজেন না অথবা অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্টও তেমন একটা সেবন করেন না। যদি আপনি এ ধরনের উপসর্গে ভুগেন, তাহলে শারীরিক পরীক্ষা দিয়ে শুরু করুন। আপনার চিকিৎসক বিষণ্নতার শারীরিক কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসা করতে পারেন, যার ফলে আপনার সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। মজার বিষয় হলো, ভিটামিন বি১২ ও ভিটামিন ডি ঘাটতির সঙ্গে বিষণ্নতার যোগসূত্র পাওয়া গেছে, বলেন ডা. অ্যাডিস। ক্রনিক ব্যথা ও রোগও (যেমন- ডায়াবেটিস) বিষণ্নতার কারণ হতে পারে। একজন মেডিক্যাল ডাক্তার আপনার চিকিৎসা করতে পারেন অথবা থেরাপিস্টের কাছে রেফার করতে পারেন।

  • যে কাশি লেগে আছে

চার সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে অনবরত শুষ্ক কাশি অথবা ঘনঘন কর্কশ কণ্ঠস্বর হতে পারে গ্যাস্ট্রোএসোফ্যাজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজের (জিইআরডি) গোপন লক্ষণ, বলেন এনওয়াইইউ ল্যানগোন মেডিক্যাল সেন্টারের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট সেথ এ. গ্রস। এ রোগে মনে হতে পারে যে গলায় খাবার আটকে আছে অথবা খাবার গিলতে কষ্ট হতে পারে। বছরের পর বছর জিইআরডি অনির্ণীত থেকে গেলে খাদ্যনালিতে ক্যানসার হতে পারে- এ সম্ভাবনা নারীদের তুলনায় পুরুষদের তিনগুণ বেশি। দীর্ঘস্থায়ী কাশি হাঁপানি, পোস্ট নাজাল ড্রিপ বা নাকে উৎপাদিত অত্যধিক শ্লেষ্মার গলায় অবতরণ, ফুসফুস ক্যানসার ও হার্ট ফেইলিউরেরও লক্ষণ হতে পারে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 59 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com