পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশীবার কোন মেয়েটির ঠোঁটে চুমু পড়েছে বলুনতো?

Print

পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশীবার কোন মেয়েটির ঠোঁটে চুমু পড়েছে বলুনতো? পারছেন না? আমি বলে দিচ্ছি! পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশীবার যে মেয়েটির ঠোঁটে চুমু খাওয়া হয়েছে বলে কথিত আছে, সেই মেয়েটির নাম কেউ জানেনা। তাকে ডাকা হয় ‘সেইন নদীর মেয়ে’। সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে সারা পৃথিবীতে এনাটমি ক্লাসের জন্য যে কৃত্রিম ডামি বানানো হয় সেই ডামির মুখ বানানো হয় এই মেয়েটির মুখের আদলে! পানিতে পড়া রোগীর চিকিৎসায় যে শ্বাস প্রশ্বাস চালু করার ট্রেনিং তা’ও দেয়া হয় এই ডামি দিয়েই। ডাক্তারেরা মজা করে বলে- পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী চুমু পড়েছে নিঃসন্দেহে সেইন নদীতে একদিন ভেসে আসা এই মেয়েটির ঠোঁটে!


একটি ভেসে আসা মৃতমুখের হাসি


 

১৮৮০ সাল।ফ্রান্সের সেইন নদীতে ভেসে আসে এক মৃতদেহ।এক মেয়ের মৃতদেহ।মৃতদেহ ভেসে আসা বিস্ময়কর কিছু না।কিন্তু একটু বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছিল।কারন মেয়েটির শরীরে কোন ক্ষত চিহ্ন ছিল না।মুখটা ছিল হাসি হাসি।এমন হাসি হাসি মুখে কেউ মরতে পারে তা মোটামোটি এক বিরাট বিস্ময়। ফ্রান্সের বেদ্বীন মেয়ে, বাঙালী মুসলমান হলে না হয় বলা যেত নেককার মেয়ে ছিল, তাই হাসতে হাসতে মারা গেছে।বাঙালী মুসলমান বড়ই আজিব জাতি।একটা বদ লোক যদি হাসিমুখে মারা যায় তাহলে আফসুস করে বলবে, বড়ই নেককার বান্দা ছিল।আর একটা ভাল লোক যদি হার্ট এট্যাকে মারা যায়, মুখে রক্ত জমে কাল হয়ে যায় তাহলে পিছনে বলবে, লোকটা বদ ছিল। হুজুর সাহেবরা ওয়াজ ফরমাবেন, আপনারা রাতে আয়না দেখবেন না।রাতে আয়না দেখলে মরার সময় মুখ কাল হয়।

যাইহোক, মেয়েটাকে পাওয়া গেল ভাসমান অবস্থায়।উইকি থেকে জনা গেল সেইন একটা বিরাট নদী।ফ্রান্সের প্রধান একটা নদী।৭৭৪ কিমি বা ৪৮৬ মাইল লম্বা।কথিত আছে জোয়ান অব আর্ক কে পুড়িয়ে এই নদীতে তার ছাই ফেলা হয়েছিল।

{জোয়ান অব আর্ক – ১৬০৪ সালে ইংল্যান্ডের রাজা কিং জেমস witch craft act নামে একটা আইন প্রনয়ন করেন।এই আইনে যারা কালোশক্তি মানে ব্ল্যাক ম্যাজিক ব্যবহার করবে তাদের মৃত্যুদন্ড দেয়ার বিধান রাখা হয়।সাধারনত যারা কৃষ্ণশক্তি বা এই ব্ল্যাকম্যাজিক ব্যবহার করত তাদের বলা হত ডাইনি।ডাইনিদের পুড়িয়ে মারা হত,যদিও বিধান ছিল ফাসিতে ঝুলিয়ে মারা।এই আইনের আয়তায় প্রায় ৭০ হাজার মানুষকে মারা হয়।ফ্রান্সের সেই বিখ্যাত জোয়ান অব আর্ক কে এই আইনের অধীনেই পুড়িয়ে মারা হয়েছিল।তিনি ফ্রান্সকে ইংল্যান্ডের শাসন থেকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন।১৯৫১ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এই আইন বাতিল করে দেয়।}

সম্রাট নেপোলিয়ন(পাচঁ ফুট দুই ইঞ্চি ভদ্রলোক,যার নামে অনেক কিছুই হয়েছে,এমনকি একটা রোগের নাম ও নেপোলিয়ন কমপ্লেক্স) ও চেয়েছিলেন তার সমাধি যেন এই নদীর পাড়েই হয়।

তো মেয়েটিকে পাওয়া পর নিয়ে যাওয়া হল হাসপাতালে।পরীক্ষা করা হল।ক্ষত চিহ্ন টিহ্ন পাওয়া গেল না।এ পর্যন্ত সব ভালই ছিল। কিন্তু সকল সমস্যার সৃষ্টি করলেন এক ডাক্তার সাহেব। তিনি আমাদের দেশের কমিশন খাওয়া ডাক্তার না, ফ্রান্সের ডাক্তার। মর্গে অপরিচিত এই মেয়ের রূপ সৌন্দর্যে তো তিনি মুগ্ধ।একেবারে টাশকি খাওয়ার মত অবস্থা।তিনি রাতে লুকিয়ে মর্গে ঢুকে মেয়েটির মুখে প্লাস্টার বসিয়ে মুখের ছাঁচ তৈরী করে রাখলেন!

তারপর থেকে ছাঁচ তৈরী কারক ডাক্তারের এক সাংবাদিক বন্ধুর মাধ্যমে এটি বিশ্ব মিডিয়ায় আসে।হাজার হাজার কপি তৈরী হতে থাকে এর।মানুষজন এই মাস্ক ঝুলিয়ে রাখতে থাকে বাড়িতে দোকানে অফিসে। মোটামোটি এই মাস্ক নিয়ে হই চই শুরু হয়ে যায়!

সাহিত্যিক সমাজ ও এই মেয়ের হাসিতে অনুপ্রানিত হয়ে কবিতা উপন্যাস লেখেন কিছু। যেমনঃ

জার্মানঃ

Die Unbekannte-Reinhold Conrad Muschler

Eine Unbekannte aus der Seine-Ödön von Horváth

Die Unbekannte aus der Seine-Claire Goll

Die Aufzeichnungen des Malte Laurids Brigge -Rainer Maria Rilke

(They washed her neck

And because they knew nothing of

her fate,

They made another one up together,

Washing all the while…)

রাশিয়ানঃ

L’Inconnue de la Seine-Vladimir Nabokov

আমেরিকানঃ

Haunted -Chuck Palahniuk

ইংলিশঃ

the Worshipper of the Image -Richard Le Gallienne

A Habit Of Dying -DJ Wiseman.

এবং আরো অনেক।

মানুষের হৃতপিন্ড কাজকর্ম ভূলে গেলে ডাক্তাররা নাকী এক বিশেষ প্রক্রিয়ায় রোগীর মুখে মুখ দিয়ে বাতাস সঞ্চালন করে হৃতপিন্ড পুনরায় চালু করেন।এটা শিখানোর জন্য মানুষের মত ডল বানানোর যখন প্রয়োজন হয় তখন সবাই সর্সম্মতভাবে ডলের মুখ এই ভেসে আসা মেয়েটির ছাচেঁর মত দেয়।এটা দিয়ে শিক্ষার্থীরা শিখে।ফলে এই মুখকে বলা হয় the most kissed face” of all time।হাসিমুখে মরে ও মেয়েটার শান্তি নাই!

এই সেই মেয়েঃ

এই সেই ডল মাস্কঃ

পেইন্টিং আলেকজান্ডার জি সাহেবের আকাঁ>

তথ্য সুত্রঃ

সেইন নদীর মেয়ে ও নেপোলিয়নের সমাধি- বরেন চক্রবর্তী।

উইকিপিডিয়া L’Inconnue de la Seine

The unknown woman of the Seine

Anne Story: An Unknown From the Seine

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 289 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com