প্রতিদিন কুসুমসহ ডিম খাওয়া কি ঠিক

Print

ডিমকে বলা হয় পুষ্টির শক্তির ঘর। প্রাণিজ প্রোটিনের মধ্যে ডিম হলো আদর্শ প্রোটিন। এখানে সব ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব কানেকটিকাটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ডিমের কুসুম বরং রক্তে খারাপ চর্বি বা এলডিএল কমাতে ও ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএল বাড়াতে সাহায্য করে।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, যাদের রক্তে কোলেস্টেরল ও এলডিএলের মাত্রা ঠিক থাকে, তাদের জন্য দৈনিক কোলেস্টেরল গ্রহণের পরিমাণ ২৫০ থেকে ৩০০ মিলিগ্রাম।

সাধারণত একটি ডিমের কুসুম থেকে ১৮৫ থেকে ১৮৭ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল পাওয়া যায়। তবে যাদের পরিবারে হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে তাদের অবশ্যই পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে ডিমের কুসুম খেতে হবে।

আজকাল চিকিৎসকরাও প্রতিদিন একটি কুসুমসহ ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে আসলে কি রোজ একটি কুসুমসহ ডিম আপনি খাবেন?

ডিমের কুসুমের গুণ বিচার করলে, রোজ একটি ডিম কুসুমসহ খাওয়া হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়বে না বরং এতে রক্তে কোলেস্টেরল কমবে, এটা সত্য।

তবে যাদের রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বেশি বা যাদের বংশে এর ঝুঁকি রয়েছে, তারা যদি এই গবেষণার ফলাফল মেনে রোজ ডিমের কুসুম খান তবে কি খুব ক্ষতি? আসলে, গবেষণাগুলো শুধু ডিমের ওপর ভিত্তি করে এর একটি ফলাফল তুলে ধরেছে।

তবে কেউ যদি ভাবেন, কুসুম হলো ওষুধের মতো রক্তে কোলেস্টেরল কমাবে বা কোলেস্টেরল বাড়বে না, তাদের জন্য বলছি, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ, সম্পৃক্ত চর্বি বর্জন, দৈনিক হাঁটা বা ব্যায়াম করা, ট্রান্সফ্যাট বর্জন, শাক সবজি গ্রহণ ইত্যাদি না মেনে চললে, যদি গবেষণা অনুযায়ী একটি ডিম কুসুমসহ রোজ খায়, তাদের হৃদরোগ বা কোলেস্টেলের ঝুঁকি বাড়বে।

এটা ঠিক ডিমের কোলেস্টেরল আর কতটুকু, তবে ডিমকে বেশি তেল দিয়ে ভেজে খেলে বা তার সঙ্গে মাখন মিশিয়ে খাবার প্রস্তুত করে খেলে, সেটি অবশ্যই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াবে। একজন মানুষ যদি তার সারা দিনের খাবারের ফাস্টফুড গ্রহণ করে, কলিজা, মগজ, লাল মাংস, ভাজা মাছসহ ভাজা মাংস ইত্যাদি গ্রহণ করে, আর তার পাশাপাশি যদি একটি ডিম কুসুমসহ খায়, তবে সে তার হৃদরোগের ঝুঁকি বা কোলেস্টেরল বাড়ার ঝুঁকি কোনোভাবে কমাতে পারবে না।

খাদ্যের অভ্যাস পরিবর্তন না করে যদি ডিমসহ অন্যান্য কোলেস্টেরল যুক্ত খাদ্য গ্রহণ করা হয়, তখনই বিপদ ঘটার আশঙ্কা থাকে। যেমন : সকালে একটি ডিম খেয়ে আবার যদি বিকেলে একটি ডিম দিয়ে তৈরি নুডলস খায় তবে সেই অতিরিক্ত পরিমাণ থেকেই সমস্যা হতে পারে।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ডিম পরিমিত পরিমাণে খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। অর্থাৎ সবাইকে এই পরিমাণ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। একটি খাবার অনেক স্বাস্থ্যকর হলেও সেটি অতিরিক্ত গ্রহণ উপকারের পাশাপাশি অপকারও করে থাকে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 32 বার)


Print
bdsaradin24.com