প্রতিশ্রুতি রাখেনি ৩১ ব্যাংক

Print

প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েও কথা রাখেননি বসরকারি ব্যাংকের মালিকরা। এর বিনিময়ে অবশ্য তারা বেশ কিছু সুবিধা আদায় করে নিয়েছেন।

প্রতিমাসের ব্যাংকের আমানত ও ঋণের সুদহার নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া নথি বলছে, ব্যাংকগুলোর আমানত ও ঋণের সুদহার কাক্সিক্ষত পর্যায়ে কমেনি। জুলাই মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেসরকারি ও বিদেশি মিলে ৩১টি ব্যাংক ঋণের এক অঙ্ক সুদহার কার্যকর করেনি। অনেক ব্যাংকের গড় ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার এখনো প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে।

বেসরকারি ব্যাংকের মালিকরা ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এর বিপরীতে বেশ কয়েকটি সুবিধা নেন। এগুলো হলো- নগদ জমা সংরক্ষণ (সিআরআর) কমানো, রেপো রেট কমানো ও মেয়াদ বৃদ্ধি, সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা এবং মুনাফার ওপর কর কমানো।

এরপর গত বছরের জুলাই থেকে তাঁরা ঋণে সর্বোচ্চ নয় শতাংশ ও আমানতে সর্বোচ্চ ছয় শতাংশ (নয়-ছয়) সুদ হার কার্যকরের ঘোষণা দেন। কিন্তু এক বছর পার হয়ে গেলেও তাঁরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামেনি।

গত জুলাই মাসের শেষ দিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকেও নয়-ছয় সুদহার কার্যকর করার নির্দেশ দেন গভর্নর ফজলে কবির। তবে গ্রাহক পর্যায়ে ছয় শতাংশ সুদে আমানত মিলছে না। এমনকি সরকারি সংস্থার আমানতও এই হারে পাওয়া যাচ্ছে না।

এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার তার উষ্মা প্রকাশ করেছেন। গতকালও জাতীয় রপ্তানি ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানে বিষয়টি তুলেছেন তিনি। বলেছেন, এত বেশি সুদহার থাকাও খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির একটি কারণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘অর্থনীতির কার্যক্রমের স্বার্থে সুদের হারের ‘নয়-ছয় সিদ্ধান্ত’ বাদ দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যাংকগুলোর এখন তারল্য সংকটে। তাই জোর করে আমানতের সুদহারে খবরদারি করলে আমানত আসবে না। এ কারণে ব্যাংকগুলো চাইলেও এটি বাস্তবায়ন সম্ভব না।’

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 20 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com