প্রেসক্রিপশনে নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে বিএমডিসি আইনে ব্যবস্থা

Print

সম্প্রতি ফার্মেসি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা জারি করেছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এতে বলা বলা হয়েছে, কোনো চিকিৎসক রোগীর ব্যবস্থাপত্রে (প্রেসক্রিপশন) নিবন্ধনবিহীন (আনরেজিস্টার্ড) ওষুধের নাম লিখলে তার কপি সংগ্রহ করে তা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। পরবর্তীতে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিএমডিসি আইন ২০১০ অনুযায়ী, নিবন্ধনবিহীন ওষুধ বিক্রি, মজুদ, প্রদর্শন বা রোগীর ব্যবস্থাপত্রে লেখা হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আইনের ৩০ ধারার উপধারা (১) এ বলা হয়েছে, নিবন্ধনকৃত কোনো মেডিকেল বা ডেন্টাল চিকিৎসক কোনো রোগীর জন্য সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ কোনো ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে লিখতে পারবে না। কোনো ব্যক্তি এই বিধান লঙ্ঘন করলে তিন বছরের কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গুণগত মানসম্মত বৈধ ওষুধ ক্রয়, বিক্রয়, সংরক্ষণ, ডিসপেন্সিং এবং পরামর্শের জন্য ফার্মেসি ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে। ফার্মেসি ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো: ফার্মেসির সুস্পষ্ট স্থানে ড্রাগ লাইসেন্স প্রদর্শিত অবস্থায় থাকতে হবে। ফার্মাসিস্টের অনুপস্থিতিতে কোনো ওষুধ বিক্রি করা যাবে না। ওষুধের মোড়কে নির্দেশিত তাপমাত্রায় ওষুধ সংরক্ষণ করতে হবে। তাপ সংবেদনশীল ওষুধ রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করতে হবে এবং তা ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে হবে। ফার্মেসিতে নিবন্ধনবিহীন, নকল, কাউন্টারফিট, মিসব্র্যান্ডেড ওষুধ সংরক্ষণ করা যাবে না, ফুড সাপ্লিমেন্ট রাখা যাবে না, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ করা যাবে না। তবে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রয়ের জন্য নয়— এ মর্মে লাল কালি দিয়ে আলমারিতে লেবেল সংযোজন এবং রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ করতে হবে, ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হলে তা এক মাসের মধ্যে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ফেরত দিতে হবে। তা সম্ভব না হলে ধ্বংসের ব্যবস্থা করতে হবে। আমদানিকৃত ওষুধের মোড়কে ডিআর নম্বর, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য মুদ্রিত না থাকলে সেটি অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব ওষুধ ফার্মেসিতে রাখা যাবে না। সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের স্টিকার বা ওভার প্রিন্টিং গ্রহণযোগ্য হবে না।

নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, ওষুধ ক্রয়-বিক্রয়ের রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে এবং বিক্রির পর ক্যাশ মেমো প্রদান করতে হবে। বিক্রয়কৃত ওষুধের সেবনবিধি সম্পর্কে ক্রেতাকে বুঝিয়ে দিতে হবে। পূর্ণ কোর্সে ব্যবস্থাপত্রে নির্দেশিত নিয়মে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পরামর্শ প্রদান করতে হবে। কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বা ঔষধ প্রশাসনকে জানাতে হবে।

নীতিমালায় বলা হয়, প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার ফার্মেসিতে সংরক্ষিত সব ওষুধ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ বা নষ্ট হয়ে গেলে তা শেলফ থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। পরিচালিত অডিট সম্পর্কে রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে। বৈধ উৎস থেকে ওষুধ সংগ্রহ করতে হবে। অবৈধ বা ভাসমান কারো কাছ থেকে ওষুধ ক্রয় করা যাবে না।

দেশে ফার্মেসি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা থাকলেও দেশের ৯০-৯৫ শতাংশ ফার্মেসি তা মানছে না। রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ডের বেশকিছু দোকান ঘুরে ফার্মেসি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা লঙ্ঘনের চিত্র দেখা গেছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে ড্রাগ লাইসেন্স প্রদর্শন করা নেই। ওষুধ ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও কোনো রেকর্ড সংরক্ষণ করতে দেখা যায়নি। ওষুধ ক্রয়ের পর তা ক্রেতাকে সেবনবিধি সম্পর্কে কোনো পরামর্শ দেয়া হচ্ছে না। ফার্মাসিস্টের অনুপস্থিতিতেই ওষুধ ক্রয়-বিক্রয় চলছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। নিবন্ধনবিহীন ওষুধের ব্যবস্থাপত্র এলেও নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থে কপি সংরক্ষণ করছে না ফার্মেসি প্রতিনিধিরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের একজন সহকারী পরিচালক বণিক বার্তাকে বলেন, নিবন্ধনবিহীন ওষুধ লেখা ব্যবস্থাপত্র পাওয়া গেলে তা বিএমডিসিতে পাঠানো হবে, যাতে বিএমডিসি আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়। তবে ব্যবস্থাপত্রে নিবন্ধনহীন ওষুধ লেখা থাকলেও ফার্মেসি থেকে তা ঔষধ প্রশাসনে পাঠানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 281 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com