ফরিদগঞ্জে বাসার ছাদে শখের টার্কি পালন করে সফল রাহেদ পাটওয়ারী

Print

জাকির হোসেন সৈকত,ফরিদগঞ্জ,চাঁদপুর:
ফরিদগঞ্জে বাসার ছাদে শখের টার্কি খামারে পালন করে সাড়া ফেলেছে রাহেদ নামে এক যুবক। ফরিদগঞ্জ দক্ষিন উত্তর চরবড়ালী গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির রায়েদ তাদের নিজেদের দোতালা বাসার ছাদে শখের টার্কি পালন করে অনেকটা স্বাবলম্বী পথে এগিয়ে যাচ্ছে রাহেদ।
সরেজমিনে দেখা যায়, ছাদে শখের টার্কি খামারে চারপাশে জালের বেড়া দিয়ে টার্কি পালন করছেন তিনি। ২০১৭ সালে শখের বশে ১০টি টার্কি মুরগি দিয়ে তার খামারটি প্রথমে শুরু করেন। ২০ হাজার টাকায় ১০টি টার্কি ক্রয় করেন। বর্তমানে তার খামারে বাচ্চা সহকারে ৮০টি টার্কি রয়েছে। খরচ বাদে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা এই খামার থেকে লাভ হয় বলে জানা গেছে।
টার্কি খামারের ব্যাপারে রায়েদ বলেন, একটি টার্কি মুরগি বছরে ৮০ থেকে ১২০টি ডিম দেয়। ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর একটি মেশিনও ক্রয় করছি। বাচ্চা টার্কি ও বড় টার্কি মুরগির জন্য আলাদা আলাদা জায়গা করা হয়েছে। এসব টার্কি মুরগিদের খাদ্য হিসেবে দেয়া হয় কচুরিপানা, গম ও ভুট্টা ও পিড। এখানে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো দেশি মুরগি ব্যবহার করে ছিলাম। এক দিন বয়সী টার্কি মুরগি ২৫০ টাকায় এবং ১ মাস বয়সী টার্কি মূল্য ৬০০ টাকায় বিক্রয় করা হয়। ফরিদগঞ্জ বাজারগুলোতে কেজি প্রতি ৭০০ টাকা করে টার্কির মাংস বিক্রি করা হয়। বর্তমানে তার খামারে ৩ লাখ টাকারও বেশি মূলধন রয়েছে।
রায়েদ জানান, আমার খামারে ঢুকতে হলে প্রত্যেকের ডেটল স্যাভলন দিয়ে রোগ জীবাণু মুক্ত হয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে। পরতে হবে খামারের রোগ জীবাণুমুক্ত নিজস্ব জুতা। তবে টার্কির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যান্য মুরগির চেয়ে অনেক বেশি। দেখা যায়, বার্ড ফ্লু আঘাত হানলেই মুরগি সব মারা যায়। কিন্তু টার্কির কিছু হয় না। আমাদের দেশে অন্যান্য মহামারি রোগ যেমন রাণিক্ষেত হলে দেশের সব হাঁস-মুরগি মারা যায়। কিন্তু টার্কির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এত বেশি যে এদের জ্বর-ঠা-া ছাড়া আর কোনো রোগ আক্রান্ত করতে পারে না।’
অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় টার্কির উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি। প্রতি ২০ সপ্তাহ বয়স থেকে টার্কি ডিম পাড়া শুরু করে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর ১০০টি ডিম পাড়ে। ডিম পাড়ার মাত্র ২৮ দিনের মাথায় ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। আমাদের এখানে সাধারণত ২৬ সপ্তাহ বয়স থেকে টার্কিগুলো ডিম দেয়া শুরু করে। প্রয়োজনীয় আলো বাতাসের ব্যবস্থা থাকায় বছরে একেকটি টার্কি ৯০টিরও বেশি ডিম দিয়ে থাকে। তবে বেশিরভাগ টার্কি বিকেল থেকে সন্ধ্যায় ডিম দেয়। তার খামারে প্রায় সব জাতের টার্কি রয়েছে। এরমধ্যে উল্যেখযোগ্য হলো ব্যাক, রাঙিন সেট, স্টে, ব্রোঞ্জ, রয়েল পাম্প ইত্যাদি। এর মধ্যে রয়েল পাম্পের দাম সবচেয়ে বেশি। যা বিক্রি হচ্ছে জোড়া প্রতি ২০ হাজার টাকা। এগুলো আকারে বেশ বড় হয়ে থাকে।
বাসায় পালনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপক জানান, টার্কি এখনও ঘরে পালার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বাসার বাইরে কিংবা ছাদে পালনের ক্ষেত্রে প্রথমে একটি শেড বানাতে হবে। শেডের ভেতরে নরম ফোম দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। শীতপ্রধান দেশগুলোতে এদের আদি জন্ম থাকায় এরা সহজে গরম সহ্য করতে পারে না। তাই ফোম দিলে গরম কিছুটা কম লাগবে। আর যে কাজটি বেশি গুরুত্বের সাহায্যে করতে হবে তা হলো জীবাণুমুক্ত রাখা। এর পাশাপাশি খাদ্যের জন্য রাখতে হবে কলমি, হেলেঞ্চা, সরিষা, পালংকসহ বিভিন্ন ধরনের শাকও পিড। আর বার্ষিকভাবে রোগ থেকে মুক্ত রাখার জন্য প্রথম আড়াই মাসে চারটি ভ্যাকসিন দিয়ে রাখতে হবে। ভ্যাকসিন না দিলেও রোগবালাই সহজে আক্রান্ত করতে পারে না। অর্থাৎ এই ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করলেই বাসার বাইরে কিংবা ছাদে সহজেই টার্কি পালন করা যাবে।
তিনি বলেন, পড়া লেখার পাশাপাশি আমি এ টার্কি খামার করছি। এ খামার থেকে এখন আমি ভালো একটা আয় হচ্ছে। যা দিয়ে আমি নিজের লেখাপড়ার খরচের চাহিদা মিটিয়েও বাড়তি টাকা সঞ্চয় করতে পারছি। এ ছাড়া এ মুরগি পালন দেশি ও ফাম্রের মুরগির চেয়ে সহজ। দুর্গন্ধও কম হয়। প্রথমে ভেবে ছিলাম ছাদে টার্কি খামার করা যাবে না। কিন্তু পরিচর্যায় খামার খুব ভালো হয়েছে। খামারের কাজে আমাকে সহযোগিতা করে আমার পরিবারের সদস্যরা।
তিনি বেকার যুবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা অল্প কিছু টাকা বিনিয়োগ করে এই টার্কি ব্যবসা গড়ে তুলুন। কারণ এগুলোর রোগ, খাদ্য, বাসস্থানের জন্য বেশি অর্থ খাটানোর প্রয়োজন পড়ে না। অল্প কিছু জায়গায় টার্কি খামার দিলে আপনি বছর শেষে কয়েকগুণ বেশি লাভ করতে পারবেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জোতিরময় ভূমি জানান, পড়ালেখার পাশাপাশি তার (রায়েদ) টার্কি মুরগির খামার করা ভালো একটি উদ্যোগ। তার খামারের উন্নয়ন হয়েছে ভবিষ্যতেও আরও সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা সব সময়ই তাদের সহায়তা করছি। সুষ্ঠুভাবে খামার পরিচালনা করার জন্য টার্কি মুরগিকে ভ্যাকসিন ও খামারিদের উপদেশ দেয়া হয় বলে তিনি জানান। এ মাংসে চর্বি নাই পুষ্টিগুণও অনেক ভালো।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 985 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com