ফাইভ স্টারের টাকা দিয়ে মেলে সাধারণ হোটেল

Print

গেল হজ মৌসুমে মেসার্স মুনমুন ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের মাধ্যমে স্ত্রীসহ সৌদি আরব যান মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। তাদের দুজনের কাছ থেকে সাড়ে ১০ লাখ টাকা নিয়ে ফাইভ স্টার হোটেলে রাখার চুক্তি করে এজেন্সিটি। কিন্তু সৌদি আরবে নিয়ে রাখা হয় নি¤œমানের হোটেলে। মডার্ন এয়ার ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে হজ করতে যান হারুনুর রশীদ, হাফেজ শোয়াইব মাহমুদ ও জহিরুল আলম। তবে হজ পালনকালীন বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির পাশাপাশি তাদের কোরবানির টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মক্কায় হজ মিশনে অভিযোগ করেন তারা। শুধু এ দুটির বিরুদ্ধেই নয়, বেশ কিছু হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রতারণা, অনিয়ম, দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ জমা পড়েছে। আর এসবের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত নামে সরকার। তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়।হজ অফিসের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের ৯০ শতাংশের বেশি হজযাত্রীই সৌদি আরব যান বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। ফলে অনেক হজ এজেন্সি মালিকই প্রতারণার আশ্রয় নেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, টাকা নেওয়ার পরও ভিসার আবেদন না করা, বিমানের টিকিট না দেওয়া, চুক্তিহীন বাড়িতে রাখা, নির্দিষ্ট পরিমাণ থেকে বেশি দূরে রাখা, একই বাড়িতে হাজিদের গাদাগাদি করে রাখা, নি¤œমানের খাবার দেওয়া, মাহরাম ছাড়া অসুস্থজনকে হজে পাঠানো, হজযাত্রীকে না জানিয়ে রিপ্লেসমেন্ট দেওয়া, অতিরিক্ত টাকা নেওয়া, কোরবানির টাকা আত্মসাৎ, মক্কা-মদিনায় সহযোগিতা না করা, মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে যেতে ও আরাফাত থেকে মুজদালিফায় যাওয়ার জন্য কোনো গাড়ি ব্যবস্থা না রাখা, বিমানের টিকিট পরিবর্তনের নামে টাকা আত্মসাৎ। আর এবার এসব অভিযোগ জমা পড়েছে ৯০টি হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে। ২০১৮ সালে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসহ ১ লাখ ২৭ হাজার ২৯৮ বাংলাদেশি হজ করতে যান। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ১ লাখ ২০ হাজার জন। এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিল ৫২৮টি হজ এজেন্সি।এদিকে তদন্ত কমিটিতে উপস্থাপিত অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আকবর হজ গ্রæপ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব অভিযোগ করেন। তিনি জানান, টাকা নিয়েও প্রতিষ্ঠানটি হজে পাঠায়নি। এয়ার ফিলিস্তিন ইন্টারন্যাশনাল ও আকাশ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের বিরুদ্ধে মো. মাহবুবুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন জানান, তাদের পাহাড়ের ওপর রাখা হয় এবং নিয়মিত খাবার দেওয়া হয়নি। আল-বেলাল ওভারসিজ ও আল হাজী ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ নুরুল আমিনসহ আরও কয়েকজনের অভিযোগ, টাকা জমা নিয়েও তাদের হজে পাঠানো হয়নি। দিগন্ত ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের বিরুদ্ধে মো. কবির হোসেনের অভিযোগ, হাজিকে না জানিয়েই রিপ্লেসমেন্ট করা হয়।খুলনা বিশ্ব¦দ্যালয়ের শিক্ষক মো. আজমল হুদার অভিযোগ, তিনি এক্সেলসর ট্রাভেলস সার্ভিসের মাধ্যমে সৌদি আরব যান। তার কাছ থেকে অতিরিক্ত মোয়াল্লেম ফি আদায়, মদিনায় খাবারের জন্য অতিরিক্ত এবং বাড়তি বিমানভাড়া নেওয়া হয়। আর নির্দিষ্ট হোটেলে না রাখা, অন্য জায়গায় রেখে হাজিদের কষ্ট দেওয়া এবং ২০ থেকে ২৫ জনের জন্য একটি বাথরুমের ব্যবস্থা রাখার অভিযোগ ডিবিএইচ ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে। ময়ুরী এয়ার ইন্টারন্যাশনাল এবং মেরাজ এয়ার ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে নি¤œমানের বাসস্থান ও খাওয়ার ব্যবস্থা, রান্না করা খাবারে দুর্গন্ধ এবং খাবার পানি সরবরাহ না করার অভিযোগ। সেই সঙ্গে হাজিদের সঙ্গে ছিল কর্তৃপক্ষের ঔদ্ধ্যতপূর্ণ আচরণ। নিউ এয়ার বাংলাদেশের মো. আবদুর রহিমসহ ১২ জনের অভিযোগ, নির্ধারিত দূরত্বের চেয়ে অনেক বেশি দূরে রাখা ও নি¤œমানের খাবার সরবরাহসহ সীমাহীন কষ্ট দেওয়া হয়েছে তাদের। একই অভিযোগ আবাবিল ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস অ্যান্ড হজ এজেন্টের বিরুদ্ধেও।ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘হজ এজেন্সির অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি কাজ করছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই অভিযুক্ত এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 158 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com