ফারাক্কার পানিতে বন্যা

Print

ভারত ফারাক্কার সব গেট খুলে দেয়ায় ফুঁসে উঠেছে পদ্মা। ডুবে গেছে মধ্য চরের ঘরবাড়ি। আশ্রয়ের আশায় চলে যাচ্ছে অনেকে -ফরিদ আক্তার পরাগ

হঠাৎ করে ফারাক্কার সবকটি গেট খুলে দেয়ায় ভাটির দেশ বাংলাদেশে পদ্মা ও তার শাখা নদীতে পানি বাড়ছেই। ইতোমধ্যে কয়েকটি নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। আবার কোথাও কোথাও ছুঁই ছুঁই করছে সীমা রেখা। ১৬ বছর পর পাবনার পাকশী হার্ডিঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করে সাত সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুষ্টিয়ায় পদ্মার পানি অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধ্বসে পড়েছে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁধ। ফলে হুমকিতে রয়েছে শিলাইদহের কুঠিবাড়ী। পদ্মার অব্যাহত তান্ডবে ভাঙনের মুখে দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাট একিসাথে বিঘ্ন হচ্ছে ফেরি চলাচল। অসময়ের এমন বন্যায় সীমাহীন দূর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। নতুন করে বোনা ফসলী জমি এখন পানির নিচে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সঙ্কট। কয়েকটি জায়গায় ত্রাণ বিতরণ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় একদমই অপ্রতুল। আমাদের সংবাদদাতা রেজাউল করিম রাজু, মুরশাদ সুবহানী, মো. নজরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়া, এস এম আলী আহসান পান্না, মো. মাহফুজুল আলমের পাঠানো প্রতিবেদনে বন্যার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে :

রাজশাহী : রাজশাহীর বড়কুঠি পয়েন্টে গতকাল সন্ধ্যায় পানির উচ্চতা ছিল ১৮ দশমিক ১৮ মিটার। সকাল ছয়টায় ১৮ দশমিক ১৪ মিটার, দুপুর বারোটায় ১৮ দশমিক ১৭ মিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক এনামুল হক বলেন, ফারক্কার গেট খুলে দেয়ায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় পানি বাড়ছে।

ইতোমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হতে পাবনা পর্যন্ত নদী তীরবর্তী এলাকা বন্যা কবলিত হয়েছে। ভারত থেকে আসা পানি প্রথমে আঘাত হানছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাংখা পয়েন্টে। মহানন্দার পানি বেড়েছে। যদিও নদী দুটি বিপদসীমার ত্রিশ ও ২৭ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার দশ ইউনিয়নের পঞ্চাশ হাজার মানুষ বন্যা কবলিত হয়েছে। সাত হাজার হেক্টরের বেশী জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশী ভাঙন চলছে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নে।

রাজশাহীর আরো নতুন এলাকা নতুন করে ডুবেছে। গতকাল জেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্যে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হচ্ছে বাঘা, পবা, ও গোদাগাড়ী। এছাড়াও নগরীর পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় পানি উঠেছে। সব মিলিয়ে প্রায় কুড়ি হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। রাজশাহী জেলা প্রশাসন চরাঞ্চলের ছয়শো পরিবারকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে। পানি বন্দী এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে এপারের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাখা হয়েছে। গবাদি পশুর ঠাঁই হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্টো দিকে বেতার স¤প্রচার কেন্দ্রের মাঠে। পদ্মায় পানি বাড়ায় হুমকীর মুখে পড়েছে শহর রক্ষার মূলগ্রোয়েন টি বাঁধে। সেখানে বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে রক্ষা চেষ্টা চলছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন প্রকৌশলী বলেন, পদ্মায় পানি বাড়লেও আতঙ্কেরর কিছু নেই। তাদের ভাষ্য কয়েকদিন ধরে গঙ্গা ও পদ্মা অববাহিকায় অতিবৃষ্টির কারনে পানি বাড়ছে। ফলে ভারতের উত্তরপ্রদেশ ও বিহার রাজ্যে বন্যা দেখা দিয়েছে। সেই পানি এপারে আসছে। ফারাক্কার সবকটি গেট খুলে দেয়ার ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। আর পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, নদীর পানি বাড়ছে বৃষ্টিতে। ফারাক্কার বাঁধের কারণে নয়। এদিকে পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় রাজশাহী মহানগরীর তেরটি সুইসগেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 30 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com