ফুলপুরে কুরবানীর চামড়ার দাম কম হওয়ায় অধিকার বঞ্চিত গরিবরা

Print

মোঃ খলিলুর রহমানঃ
কুরবানীর চামড়ার টাকাটা সাধারণত: পায় গরিবরা। কুরবানীর চামড়ার দাম কমিয়ে দেওয়ায় অধিকারবঞ্চিত হচ্ছে তারা। গরিবরা এবার কাঙ্খিত পরিমাণ দান পাবে না। কুরবানীকে সামনে রেখে সমাজের হত দরিদ্র নি:স্ব ও গরিবরা মনে মনে যে স্বপ্ন এঁকেছিল, চামড়ার দাম কমায় তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধাপ্রাপ্ত হবে। কারণ, চামড়ার দাম এবার যতটা না কমেছে তারচে বেশি মৌসূমী পাইকারদের কাছে ধোকাপ্রাপ্ত হয়েছে খুচরা বিক্রেতারা। তারা বলছে, সরকার চামড়ার দাম কমিয়ে দিয়েছে। প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকা। এসব কথা গ্রাম থেকে অতি সস্তামূল্যে এবার চামড়া ক্রয় করা হয়েছে। আগে যে চামড়ার দাম ছিল ১২শ থেকে ১৪শ টাকা এবার সেটার দাম আনুমানিক ৬শ থেকে ৭শ টাকা। বলা যায় পুরা অর্ধেকমূল্যে তারা চামড়াগুলো কিনেছে। সে হিসেবে গ্রামে আগে যে গরিব কুরবানীর চামড়ার টাকা কালেকশন করে পেত ১০০ টাকা এবার সে পাবে মাত্র ৫০ টাকা। তবে চামড়ার দাম কমেছে এটা সত্য। কিন্তু কমেও বাজারে যে মূল্যটা ছিল গ্রামের মানুষ তা পায়নি।
ঈদের দিন ময়মনসিংহের ফুলপুরে ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকায় অস্থায়ী চামড়ার হাট বসেছিল। বিকাল থেকে  গভিররাত পর্যন্ত চলেছে চামড়া বেচা-কেনা।
ফুলপুর  ব্যবসায়ীদের অস্থায়ী বাজার ঘুরে বুধবার রাতে আমুয়াকান্দা ব্রিজের কোণায় আব্দুল আলী নামে এক চামড়া ব্যবসায়ীকে মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। জিজ্ঞেস করলে সে বলে, এবার চামড়া কিনে লসে আছি আমরা। যে চামড়া এলাকা ঘুরে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় কিনে এনেছি, সেই চামড়া এখন দাম হচ্ছে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। এরশাদ নামে একজন চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিটি চামড়া ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকায় কিনছি আমরা। আবুল কালাম ও সুশীল ফুলপুর বাসস্ট্যান্ডে সন্ধ্যার পর চামড়া কিনছিলেন। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা প্রতিটি গরুর চামড়া ১২০ থেকে ৫০০ টাকায় কিনছেন। আর ছাগল ও খাসীর চামড়া কিনছেন ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। দাম এত কম কেন জানতে চাইলে তারা জানান, সরকার দাম কমিয়ে দিয়েছে। আমরা বেশি দিয়ে কিনব কেমনে? হালুয়াঘাটের মাছাইল গ্রামের রহমত আলী নামে একজন কৃষক জানান, তারা ৪জনে মিলে ৩০ হাজার টাকায় একটা গরু কুরবানী দিয়েছেন। ওই গরুর চামড়া পাইকার আবুলের কাছে জোরাজুরি করলেও ১০০ টাকার বেশি লওয়া যাচ্ছে না। একই উপজেলার নড়াইল গ্রামের ব্যবসায়ী মুশাররফ হোসেন জানান, তারা ৭ জনে মিলে ৮২ হাজার ৫শ টাকায় একটি গরু কুরবানী দিয়েছেন। ওই গরুর চামড়া দিনব্যাপী নিয়ে বসে থাকলেও কোন পাইকার আগের সেই মূল্যে নিতে চাচ্ছে না। অবশেষে অনেক বলে কয়ে ৭শ টাকায় বিক্রি করা হয় চামড়াটি। নড়াইল গ্রামের রুস্তুম আলী বলেন, বকরির চামড়াডা ২০ টেহা বিক্রি করছি। এই কয়ডা টেহা কারে দেয়াম কারে দিতাম না বুঝতাছি না। এই মাদরাসা, হেই মাদরাসা আরো কত জনে যে কইয়া থইছে, কইবার নাই। মহাবিপদে আছি।
খবর নিয়ে জানা যায়,এ বছর সরকার ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ফুট প্রতি ৪৫ থেকে ৫০, ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০, খাসি ১৮ থেকে ২০ এবং বকরির চামড়ার দাম ১৩ থেকে ১৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। কিন্তু বর্গফুট নয় আকারের ওপর নির্ভর করে ফুলপুরে চামড়া বিক্রি হয়েছে।
এর সুযোগ নিয়ে গ্রাম্য মৌসূমী পাইকাররা চামড়ার বাজার পড়ে গেছে প্রচার করে এবং টেকনিক হিসেবে চামড়া কিনতে বেশি আগ্রহ না দেখিয়ে কুরবানীদাতাদের বিপাকে ফেলেছেন। একটা করে চামড়া তারা কোথায় নিয়ে যাবেন? ফলে বলতে গেলে পানির দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে মূলত: অধিকারবঞ্চিত হচ্ছেন গরিবরা।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 207 বার)


Print
bdsaradin24.com