প্রাকৃতিক দূর্যোগ বজ্রপাত অতঃপর আমাদের করণীয়

Print

ষড়ঋতুর দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ, গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত। দুই মাস পরপর ঋতু বদল হয়। এই পড়াগুলো পড়েছি তখন প্রথম অথবা দ্বিতীয় শ্রেণিতে অনেক ছোট বেলাই অনেকেরই স্মরণ আছে বলে আমি বিশ্বাস করি।

গ্রীষ্ম, ও বর্ষা এই দুই ঋতুতে প্রাকৃতিক দূর্যোগ অধিকাংশে বেশি। শিলা, বৃষ্টি, ঝড় এবং বজ্রপাত এগুলো হলো প্রাকৃতিক দূর্যোগ। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে হঠাৎ আক্রান্ত হয় মানুষ, অনেকটা ভূমিকম্পের মত। এই দুই ঋতুতে অধিক প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে মানুষ অতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বিশ্বে অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের বাংলাদেশে প্রতি বছর বজ্রপাতে অনেক বেশি মানুষ মারা যায়। একটি দেশে অক্সিজেনের স্বল্পতা হতে রক্ষা ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিস্কাশনে প্রাকৃতিক দূর্যোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রত্যেক দেশের জন্য ২৫ শতাংশের অধিক গাছ-পালা থাকার প্রয়োজন তার কোন বিকল্প নেই কিন্তু আমাদের দেশে গাছ-পালা যা রয়েছে তা যথেষ্ট নয়। আবার গাছ-পালা যা রয়েছে তা পরিকল্পনা ছাড়ায় নির্বিচারে কেঁটে নিধন করে ফেলা হচ্ছে। যার মধ্যে থাকা অধিক পরিমাণে পাহাড়ি গাছগুলোও কাঁটা পড়ে যাচ্ছে। যার ফলে আকাশ থেকে যে বৃষ্টিপাত হচ্ছে, বজ্রপাত পড়ছে আমাদের পাহাড়ি গাছ-পালা না থাকায় সেই বজ্রপাতগুলো ভূমিতে এসে পড়ছে, ভূমিতে বজ্রপাত পড়ে মানুষ ক্ষতি সাধিত হচ্ছে, এমনকি বজ্রপাতে কত মানুষ যাচ্ছে মারা। তাই বর্তমান সরকার একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। পাহাড়ি গাছের মধ্যে তাল গাছও পড়ে তাই আমাদের রাস্তা, নদী, পুকুর ধারে ধারে পর্যাপ্ত পরিমাণে তাল গাছ লাগাতে হবে। এই পাহাড়ি গাছের জন্য প্রাকৃতিক দূর্যোগ বজ্রপাতের হাত থেকে একটু হলেও রক্ষা পেতে পারি। এখানে বলা রয়েছে আমরা একটি গাছ কাটলে দুটি গাছ লাগানোর কথা। তাই এই জন-সচেতনতাই আমাদের প্রাকৃতিক দূর্যোগ বজ্রপাতের হাত থেকে কিছু হলেও মৃত্যুর হার কমাতে পারে।

বজ্রপাত কেন হয়?
মেঘের মধ্যে থাকে ইলেক্ট্রন অণু যা পজেটিভ(+) এবং নেগেটিভ(-) দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে নেগেটিভ অণুগুলি নিচের দিকে নেমে আসে। এমতাবস্থায় মেঘের ঘর্ষণের ফলে প্রায় ১০০০০+ ভোল্টের বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়ে নিচে নেমে আসে অতঃপর নিচে থাকা বস্তুগুলি বিদ্যুৎ সুপরিবাহী হলে (-) এবং(+) অণুর আকর্ষণে বস্তুগুলির মধ্যে প্রবাহিত হয়। মানুষের দেহ বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। ফলে মানুষ বজ্রপাতে আক্রান্ত হওয়ার মুহূর্তে মাটি বা অন্য কোন ধাতুর সাথে সংস্পর্শে থাকলে মানুষ মারা যাওয়ার সম্ভবনা বেশি।

প্রাকৃতিক দূর্যোগ বজ্রপাত হলে এমনতাবস্থায় আমাদের নূন্যতম কী সতর্কতা অবলম্বণ করা উচিৎ? তা নিম্নে আলোচনা করা হলো-
১, অধিক মেঘ,বৃষ্টি বা বজ্রপাতের সময় বাহিরে যাবেন না।
২, বাহিরে থাকলে নিরাপদ অবস্থানে দ্রুত চলে আসুন। জানালা ও দরজা পাশ হতে দূরে থাকুন।
৩, বৈদ্যুতিক খুঁটি, টিনের ঘর, লোহা, ধাতব-ম্যাগনেটিক বস্তু এড়িয়ে চলুন।
৪, পায়ে জুতা রাখুন এবং পুকুর-জলাশয় হতে দূরে থাকুন। একাধিক মানুষ হলে পরস্পর দূরে থাকুন।
৫, উচু স্থানে উঠবেন না, গাছের নিচে যাবেন না, মাটি বা পাকা ঘর নিরাপদ।
৬, গাড়িতে থাকলে আপনি ধাতব বডি সংস্পর্শ হতে দূরে থাকুন এবং গাড়ি ছাদের নিচে নিয়ে যান।
৭, ঘরে/বাসায় টিভি-মোবাইল বন্ধ রাখুন, প্রয়োজনে মেইন সুইচ বন্ধ রাখুন কিছুক্ষণ।
৮, আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান কারণ তার ঐ মুহূর্তে অক্সিজেন প্রয়োজন।

[তথ্য সংগ্রহ ও লেখক-এম.সোহেল রানা, মাস্টার্স শেষ বর্ষ (রাষ্ট্রবিজ্ঞান), তারিখঃ ৬/০৪/২০১৮ইং]

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 167 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com