বরিশালে নগর পিতার আসনে বসছেন সাদিক !

Print

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি॥

“প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত” বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে শেষ মুহুৃর্তে “স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব,শান্তি,উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রতিক” নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়ে “নগর পিতার” আসন “অলঙ্কিত” করার পথে রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রাজনীতির “যোগ্য উত্তরাধিকার” “যুবরতœ” সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। আগামী ৫ বছরের জন্য তিনিই যে নগরবাসীর অবিভাভকের আসনে বসছেন এটা অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিশেষ করে গতকাল নগর ভবনের সামনে সাদিক আবদুল্লাহর নৌকা প্রতিকের সমর্থনে অনুষ্ঠিত পথ সভায় মানুষের ঢল নামায় তার বিজয়ী হওয়ার আভাস স্পষ্ট হয়ে ওঠে।ওই পথ সভায় ৩০ টি ওয়ার্ডের নেতা-কর্মী সহ দলমত নির্বিশেষে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ জড়ো হন। লোকে লোকারণ্য পথ সভাটি এক পর্যায়ে রূপ নেয় জনসভায়। এসময় সাদিক আবদুল্লাহ প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরনের স্বপ্নের নগরী বিনির্মাণে নৌকা প্রতীকে ভোট দাবি করেন নগরবাসীর কাছে। সাদিক বলেন, বরিশালে বিএনপি অসংখ্যবার নির্বাচিত হয়েও ছিটে-ফোঁটা উন্নয়ন করেনি। কেবল জনগণের সম্পদ লুটপাট করেছে। শওকত হোসেন হিরন নির্বাচিত হয়ে বরিশাল নগরীর ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। আমি সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নগরবাসীর সমর্থন চাই। এদিকে সাদিক আবদুল্লাহর বিজয়ের “দ্বার প্রান্তে “ থাকার বিষয়টি ভোটারদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লার মোড়ের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কার্যালয় ও অফিস পাড়ায় সর্বত্র আড্ডা-আলাপে সাদিক আবদুল্লাহ‘র বিজয়ের দ্বার প্রান্তে থাকার বিষয়টি সমধিক আলোচিত হচ্ছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন এখন শুধু সাদিকের শপথ নেওয়ার দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় রয়েছে নগরবাসী। নগরীর ৩০ টি ওয়ার্ডে ঘুরে দিন মজুর থেকে শুরু করে না না শ্রেণী পেশার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে গণরায় যে নৌকার পক্ষে যাচ্ছে তার পুর্বাভাস পাওয়া গেছে। নৌকার পক্ষে ঝড়-বৃষ্টি ও রোদ উপেক্ষা করে বিরামহীন ভাবে বৈচিত্রময় প্রচার-প্রচারণায় আওয়ামী লীগের তৃনমূল থেকে শুরু করে উপজেলা,জেলা,মহানগর ও কেন্দ্রীয় “তারকা” নেতাদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ভোটারদের হৃদয় স্পর্শ করেছে। তারা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এটা বুঝাতে সম্মত হয়েছেন যে নৌকা জিতলে নগরীতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়িত হবে। তাদের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ উন্নয়ন বার্তা পেয়ে উন্নয়নের স্বপ্নে বিভোর নগরবাসী উন্নয়নের স্বার্থে শেষ পর্যন্ত দলমত নির্বিশেষে সবাই নৌকার পক্ষে ঝুঁকে পড়েছেন।একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা ও একটি বেসরকারী এনজিওর রির্পোটেও সাদিকের বিজয়ী হওয়া সম্ভাবনার সরেজমিন তথ্য উঠে এসেছে।সম্প্রতি ওই এনজিও বরিশাল শহরে ভোটের পুর্ব মুহুর্তে তাৎক্ষণিক জনমত জরিপ করেছে। সেখানে ব্যাপক ব্যাবধানে এগিয়ে সাদিক আব্দুল্লাহ। এনজিওটির জনমত জরিপে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর প্রতীক নৌকার পক্ষে ৫৬%, বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সারোয়ার সেখানে মাত্র ৩১%। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর হাতপাখা প্রতিকের প্রার্থী ৭% এবং বাকি ৬% ভোটার কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি এনজিওটির ওই জরিপে। এনজিওটির জরিপের ফল নগরবাসীর কাছে প্রকাশ হলে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ফিরে আসে সাদিক আবদুল্লাহর পক্ষে প্রচার-প্রচারনায়। নির্বাচনের ঠিক আগ মুহুর্তের এনজিওটির এমন জরিপে ২৫% পিছিয়ে পড়ায় মুজিবুর রহমান সারোয়ারের নেতা কর্মীরা মনোস্তাত্বিক ভাবে ভেংগে পড়েছেন। বিগত সিটি নির্বাচনে ভোটার ছিল ২ লক্ষ ১১ হাজার। এবার ২ লক্ষ ৪২ হাজার। নতুন ভোটার যোগ হয়েছে প্রায় ৩১ হাজার। নতুন এই তরুন ভোটারদের আশা আকাঙ্খার প্রতীক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। সাদিক আবদুল্লাহ তারুন্যের অহংকার। বরিশালে তরুন প্রজন্মের আদর্শও তিনি। তরুনদের কাছে তার জনপ্রিয়তা আকাশ চুম্বি। আর এই তরুন প্রজন্মের ভোটই এবারের বরিশাল সিটি নির্বাচনের সমস্ত হিসাব নিকাশ পাল্টে দিচ্ছে। যে কারনে অনেকেই বলছে, সাদিকের জয়ের পথ রচিত হবে তারুন্যের হাত ধরে।অপরদিকে বিএনপি প্রার্থীকে মেয়র নির্বাচিত করে গত ৫ বছর যে খেসারত নগরবাসী দিয়েছেন আগামীতে তারা আর সেই খোসারত দিতে চাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন তারা অতীতের ভুল সিদ্ধান্তের আর পুনরাবৃত্তি করতে চাননা। গত ৫ বছর বিএনপি‘র মেয়র আহসান হাবিব কামাল উন্নয়ন কর্মকান্ডে তেমন কোন ভূমিকা রাখতে না পাড়ায় শ্রীবৃদ্ধি হারিয়ে বরিশাল শহর আবার পুরনো খানাখন্দের শহরের রূপে ফিরে গেছে। ফলে নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত নগরবাসীকে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিএনপির এ মেয়রের সীমাহীন ব্যর্থতায় শ্রী হীন হয়ে পড়া বরিশাল শহরকে হিরনের বরিশালের রূপে ফিরিয়ে আনতে নগরবাসী হিরনের মতো একজন যোগ্য নগর অভিভাবক দীর্ঘদিন ধরে খুঁেজ ফিরছিলেন। অপেক্ষায় ছিলেন ভোটের। অবশেষে ৩০ জুলাই কাঙ্খিত সেই সিটি ভোট । মাঠের বিরোধীদল বিএনপির মেয়র প্রার্থী বিজয়ী হলে কোন যে উন্নয়ন হয়না এবং ভবিষ্যতেও হবে না জনমনে এই বাস্তব উপলব্দি সৃষ্টি ও প্রমান করে দিয়েছেন সদ্য সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামাল। তার ব্যর্থতা আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থীর বিজয়ের পথকে কুসুমার্স্তিণ ও বিএনপির প্রার্থীর পথকে কন্টকার্কিণ ও পিচ্ছিল করে দিয়েছে। সরকার দলের প্রার্থী বিজয়ী হলে বরিশালের ব্যপক উন্নয়ন হবে ভোটারদের মাঝে এ ধারণা ও উপলব্দি সৃষ্টি হওয়ায় নির্বাচনী সকল হিসাব-নিকাষ ও সমীকরণ পাল্টে গেছে। ভোটাররা চুলচেরা বিশ্লেষন করে স্থির সিদ্ধান্তে উপনিত হয়েছেন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ মেয়র নির্বাচিত হলে উন্নয়ন কর্মকান্ডে তিনি নিজ যোগ্যতার পাশাপাশি বাড়তি সহায়তা ও সুবিধা পাবেন তার ফুফু প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা ও বাবা প্রভাবশালী মন্ত্রী পদমর্যাদায় পাবর্ত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষন কমিটি ও স্থাণীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপির কাছ থেকে।যেহেতু স্থাণীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় থেকে সিটির সিংহভাগ উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। আর সেই মন্ত্রনালয়ের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন সাদিক আবদুল্লাহর গর্বিত পিতা আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। স্বাভাবিক ভাবেই সেখান থেকে বরিশালের উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হবে। পিতা ও পুত্র মিলে হাজার হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ এনে বরিশালের উন্নয়নের অতীত সকল রেকর্ড ভেঙে দিতে পারবেন বলে সচেতন মহল মনে করছেন। এছাড়া বরিশালকে সাঁজাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নজর ও উদ্যোগ রয়েছে। এই উদ্যোগকে আরও বেগবান করতে সাদিকের মতো নিজ রক্তের বন্ধনের উত্তরসুরী খুঁেজ পেতে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়নে সাদিকের ওপরই আস্থা ও ভরসা রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী ফুফু,মন্ত্রী বাবা ও সাদিক নিজে মেয়র নির্বাচিত হলে এ তিন রক্তের বন্ধনের যৌথ উদ্যোগ ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় বরিশাল শহর শুধু “প্রাচ্যের ভেনিস” নয় “আধুনিক সিঙ্গাপুৃর” শহরে রূপ নেবে এমনটিই ধারণা অভিজ্ঞ সচেতন মহলের। সিটি সির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত এ মেয়র প্রার্থী নির্বাচিত হলে “আলোকিত এক তিলোত্তমা” নগরীতে রূপান্তর করে অতীতের সব উন্নয়ণ রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়ে চমক সৃষ্টি করতে পারবেন বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা। বংশ পরম্পরায় সাদিকের ধমনীতে বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্ত প্রবাহিত। স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি নিজের মেধা,প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দিয়ে পাদ প্রদীপের আলোয় উঠে আসা এক “উদীয়মান সূর্য”।যার আলোয় “আলোকিত” বরিশালের আওয়ামী রাজনীতির অঙ্গন। দীর্ঘদিন ধরে বরিশালবাসীর পাশে থেকে তাদের সুখ-দুঃখের সারথী হয়ে অনেক আগেই সাদিক তাদের মনের মনিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন। বিশেষ করে তরুণ ও যুব সমাজের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তাদের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিক হয়েছেন। অর্জন করেছেন “যুব রতেœর“ খ্যাতি। তরুন ভোটাররা তাদের পচ্ছন্দের শীর্ষে রেখেছেন সাদিক আবদুল্লাহকে। তার জনপ্রিয়তা শুধু বরিশাল সিটি এলাকাই নয় গোটা দক্ষিনাঞ্চল জুড়ে রয়েছে। তার সব কিছুর মধ্যেই বংশের পূর্বসুরীদের সততা,নিষ্ঠা ও আদর্শ খুঁজে পাওয়া যায়। এদিকে স্বাধীনতার পরে বরিশাল অঞ্চলে দৃশ্যমান যতো বৃহৎ উন্নয়ন কর্মকান্ড হয়েছে তার শুরুটা করেছিলেন তৎকালীণ বঙ্গবন্ধু সরকারের সৎ রাজনীতির পথিকৃৎ ও প্রভাবশালী মন্ত্রী শহীদ আ.রব সেরনিয়াবাত এবং ১৯৭৩ সালে বরিশাল পৌরসভার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে অদ্যাবদি অব্যাহত রেখেছেন তার সুযোগ্য পুত্র মন্ত্রী আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। দাদা ও বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে স্বাভাবিক ভাবেই বাকী স্বপ্ন পূরণে অগ্রণী ভূমিকা পালণ করতে পারবেন ঐতিহ্য ও গৌরবের “যোগ্য উত্তরাধিকার” সাদিক আবদুল্লাহ।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 652 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com