বরিশাল-২ আসনে প্রার্থীর ছড়াছড়ি,আওয়ামী লীগ আসন ধরে রাখতে আর বিএনপি পুনরুদ্ধারে মরিয়া

Print

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি॥
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরিশাল-২ আসনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ছড়াছড়ি রয়েছে।এসব মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীদের আগাম প্রচার-প্রচারণায় এতোদিন মুখরিত ছিলো পৌর শহর থেকে শুরু করে দুই উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামা লের মেঠো পথ। সম্ভাব্য এসব প্রার্থীরা ঈদ ও শারদীয় দুর্গোৎসব সহ নানা পার্বনে এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দুই উপজেলায় পোষ্টার,ব্যানার ফেষ্টনু,বিলবোর্ডে ছেয়ে ফেলেছেন। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর গণসংযোগ ও প্রচার প্রচারণা মাঠে ময়দানে করতে না পারলেও মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী ও তাদের অনুসারী সমর্থকরা ফেসবুক সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।আওয়ামীলীগের মনোনয়ন লাভের প্রত্যাশায় ইতিমধ্যে দেড় ডজনেরও অধিক প্রার্থী দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিএনপি ও জাপার মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করছেন।বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রার্থী ব্যাপক লবিং তদবির ও দৌঁড়ঝাঁপ অব্যাহত রেখেছেন।শেষ মুহুর্তে প্রার্থী ও তাদের সমর্থক নেতা-কর্মীরা ¯œায়ু চাপে রয়েছেন। প্রত্যেক মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীর ঘনিষ্ঠজনরা তাদের প্রার্থী মনোনয়ন পাওয়ার “সবুজ সংকেত” পেয়ে গেছেন বলেও আগাম প্রচারণা চালাচ্ছেন।অনেক প্রার্থী নিজেও তার মনোনয়ন শতভাগ নিশ্চিত বলে চ্যালেঞ্জ ছুঁেড় দিচ্ছেন। ফলে এলাকাবাসী ও দলীয় নেতা-কর্মীরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এ আসনে শাসক দলের দেড় ডজনেরও অধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও তাদের মধ্য থেকে মাত্র ৫/৬ জন প্রার্থীর সাথে জনগণ ও দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে।এদিকে শাসকদলে প্রার্থী বেশি হওয়ায় নেতা-কর্মীরাও বহুধা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। অপরদিকে বিএনপিতে মূল প্রার্থীর সংখ্যা ২/৩ জন। এক সময়ে বরিশাল জেলার বানারীপাড়া ও পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি থানা নিয়ে গঠিত ছিল এ আসনটি। ১৯৭০’র জাতীয় নির্বাচনে এ আসন থেকে শেরে বাংলার একমাত্র পুত্র একে ফায়জুল হক আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের টিকিটে চিত্ত রঞ্জন সূতার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পান বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যক্ষ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম জাকির ও এ কে ফায়জুল হক আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগদান করে বিএনপি’র মনোনয়ন পান। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিজয় জোর করে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন স্বরূপকাঠির আ’লীগ নেতা শহিদুল্লাহ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলেন মো. মনিরুল ইসলাম মনি। নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কাছে হেরে যান আওয়ামী লীগ প্রার্থী ।এ নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ করেনি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন দলটির প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু,বিএনপির প্রার্থী ছিলেন সৈয়দ শহীদুল হক জামাল ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলেন মো. মনিরুল ইসলাম মনি। এ নির্বাচনে সবাইকে অবাক করে চমকীয়ভাবে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ শহীদুল জামাল বিজয়ী হন। তার বিজয়ে “আ লিকতার” ইস্যু প্রাধান্য পায়। আমির হোসেন আমু’র বাড়ি ঝালকাঠি জেলায় হওয়ায় আ লিকতার ইস্যুতে তিনি পরাজিত হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে পূণরায় আওয়ামী লীগে ফিরে এসে মনোনয়ন পান শেরে বাংলার একমাত্র পুত্র একে ফায়জুল হক। এ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন সৈয়দ শহীদুল হক জামাল ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলেন মো. মনিরুল ইসলাম মনি। জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী একে ফায়জুল হক বিজয়ী হয়েছিলেন। বিজয়ী হয়ে তিনি সরকারের পাট ও বস্ত্র প্রতি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালণ করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন একে ফায়জুল হক,বিএনপির প্রার্থী ছিলেন সৈয়দ শহীদুল হক জামাল ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলেন মো. মনিরুল ইসলাম মনি। এ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ শহীদুল হক জামাল জয়লাভ করেছিলেন। পরে তিনি জেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী ও হুইপ নিযুক্ত হন। ২০০৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারীর বিতর্কিত একতরফা নির্বাচনেও সৈয়দ শহীদুল হক জামাল নির্বাচিত হয়েছিলেন। স্বাধীনতার পরে এ আসনে সব নির্বাচনে যিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তার দলই সরকার গঠন করেছে। ফলে বানারীপাড়া-স্বরূপকাঠির এ আসনটিকে “সৌভাগ্যের” আসন হিসেবে অভিহিত করা হতো। অপরদিকে উজিরপুর-বাবুগঞ্জ নিয়ে গঠিত পূর্বের বরিশাল-২ আসনে ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী খন্দকার হাফিজুর রহমান চুন্নু মিয়াকে হারিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হরনাথ বাইন,১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে হরনাথ বাইন,১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী অদুদ সরদার,১৯৮৬ সালে জাতীয়পার্টির প্রার্থী আজিজুল হক নান্না মিয়া,১৯৯১ সালে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী রাশেদ খান মেনন,১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির গোলাম ফারুক অভি,২০০১ সালে বিএনপির সৈয়দ মোয়াজেম হোসেন আলাল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারী বিতর্কিত নির্বাচনেও সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে নতুন করে আসন পুনর্বিন্যাসে বরিশালের উজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত হয় বরিশাল-২ আসন। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করে মনোনয়ন পেয়েছিলেন মো. মনিরুল ইসলাম মনি,বিএনপির প্রার্থী ছিলেন এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন বিএনপি দলীয় সাবেক হুইপ সৈয়দ শহীদুল হক জামাল। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলাম মনি জয়লাভ করেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আগৈলঝাড়া-গৌরনদী উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-১ আসনের সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস। এ নির্বাচনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহে আলমকেও যৌথভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিলো।পরে তালুকদার মো. ইউনুসকে নৌকার টিকিট দেওয়া হয়। এ নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ না করায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের প্রার্থী ছিলেন উজিরপুর উপজেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় জাসদের নেতা মো. আবুল কালাম আজাদ বাদলে’র সহধর্মীনি মোসা. সাবিনা ইয়াসমিন। এ নির্বাচনে লড়াইটা জমে উঠলেও শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ’র প্রার্থী জয়লাভ করেন।
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে যারা মনোনয়ন চান তারা হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস,তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য মো. মনিরুল ইসলাম মনি,কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান খান,বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মো. শাহ্ েআলম,বানারীপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান,জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম ফারুক,জননেত্রী শেখ হাািসনা পরিষদের কার্যকরী সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ক্যাপ্টেন এম মোয়াজ্জেম হোসেন,শের-ই বাংলা দোহিত্র একে ফাইয়াজুল হক রাজু,আবুল খায়ের সেরনিয়াবাত খোকন,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রথম প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির সদস্য এবং এসটিভি বাংলার সম্পাদক ও নির্বাহী পরিচালক (বার্তা) বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিষ্ট সোহেল সানি,বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদক আনিসুর রহমান,বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ও অথনৈতিক দর্শন নিয়ে গবেষণারত ইঞ্জিনিয়ার আ. রাজ্জাক,বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেত্রী সৈয়দা রুবিনা আক্তার মীরা,কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সুখেন্দু শেখর বৈদ্য,কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা সিকদার একে আজাদ,বিটিভির সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য সুজন হালদার,সবুজ মোল্লা,বুল বুল আহম্মেদ,আশিকুর রহমান,মোস্তফা কামাল মন্টু,দিপীকা রানী সমদ্দার প্রমূখ। এ আসনে “তারকা” প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক আলোচিত ছিলেন বানারীপাড়ার কৃতি সন্তান পিআইবির চেয়ারম্যান,সমকাল সম্পাদক দেশবরেন্য সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার।কিন্তু গত ১৩ আগষ্ট তিনি সিঙ্গাপুরে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় আকস্মিক ইন্তেকাল করেন।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য বাদে সবাই বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা। সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস’র স্থায়ী নিবাস গৌরনদী উপজেলায়।যদিও তিনি বর্তমানে বরিশাল শহরে বসবাস করছেন। আওয়ামী লীগের তৃণমূল’র নেতা-কর্মী সমর্থকরা চান এবারের নির্বাচনে নিজ এলাকার সন্তান যে কেউ মনোনয়ন পাক। নির্বাচনের দিনক্ষন যতো ঘনিয়ে আসছে এ দাবী ততো জোড়ালো হচ্ছে। জানা গেছে স্থাণীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরাও এ দাবীতে একাট্টা। এদিকে জাতীয়তাবাদীদল বিএনপিতে প্রার্থী হিসেবে মূল আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু ও বিএনপি দলীয় সাবেক হুইপ সৈয়দ শহীদুল হক জামাল।এছাড়াও বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলের যুগ্ম মহাসচিব সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নামেরও গুঞ্জন রয়েছে। বিগত ২০০৮ সালের নির্বাচনে সান্টু এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। এদের বাহিরে কর্নেল (অব.)ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ আনোয়ার হোসেন,ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি ও জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান,বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রওনকুল ইসলাম টিপু ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতা অ্যাডভোকেট এস এম এ বকর প্রমুখের নাম মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।নির্বাচনী পরিসংখ্যানে দেখাগেছে বানারীপাড়া উপজেলায় বিএনপির ও উজিরপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগের ভোট বেশি।বিএনপি নেতা এস শরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টুর বাড়ি উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের চাঙ্গুরিয়া গ্রামে আর সাবেক হুইপ সৈয়দ শহীদুল হক জামালের বাড়ি বানারীপাড়া উপজেলার উদয়কাঠি ইউনিয়নের লবনসাড়া গ্রামে।এ অবস্থায় রাজনৈতিক অভিজ্ঞ সচেতন মহল ও আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা মনে করছেন বিএনপির স্থাণীয় প্রার্থীর বিপরীতে স্থানীয় যারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাচ্ছেন তাদের মধ্য থেকে কোন প্রার্থী মনোনয়ন না পেলে শুধুমাত্র “আ লিকতার ইস্যুতে” আওয়ামী লীগের এ আসনটি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।আ লিকতা ইস্যুর পাশাপাশি দলীয় কোন্দল আওয়ামী লীগের জন্য সাপেবর হতে পারে।বানারীপাড়ার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা ১৯৯১ সালের তিক্ত অভিজ্ঞতা এখনও স্মরণে রেখেছেন। ওই নির্বাচনে শুধু আ লিকতার ইস্যুতে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী আমির হোসেন আমু একজন সাবেক ইউপি সদস্যর সঙ্গে পরাজিত হয়েছিলেন। এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১০ বছরে বানারীপাড়া ও উজিরপুরে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হয়ে বদলে গেছে দুই উপজেলার পৌর শহর থেকে গ্রামীণ জনপদ। এ অভূতপূর্ব উন্নয়ন আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জন্য নির্বাচনী বৈতরণী পার পেতে সহায়ক হবে। তবে এ ১০ বছরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় কয়েকজন নেতা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আগুল ফুলে কলা গাছ,কলা গাছ থেকে বট গাছ ও বট গাছ থেকে জোড়া বটগাছ বনে গেছেন। এ নিয়ে বি ত তৃণমূল নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মাঝে রয়েছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা। সুবিধাভোগী ওই নেতারা আগামী নির্বাচনেও তাদের পছন্দের নেতাকে প্রার্থী হিসেবে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। যতোই উন্নয়ন কাজ হোক না কেন এবারের নির্বাচনে স্থানীয় প্রার্থীদের পাশ কাটানো হলে নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা ফুঁসে উঠে গণেশ উল্টে দিতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া উজিরপুরের জল্লার ইউপি’র জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বিশ^জিৎ দাস নান্টুর হত্যাকান্ডটি কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।কারণ জল্লা,সাতলা ও হারতা ইউনিয়নে সংখ্যালঘুদের বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। যার ওপর নির্বাচনে জয় পরাজয় নির্ভর করে।ওই হত্যা মামলায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের পিএস আবু সাঈদ আসামী। হত্যাকান্ডটি নিয়ে সংখ্যালঘুদের মাঝে চরম ক্ষোভ রয়েছে।এদিকে বিএনপির তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক হুইপ সৈয়দ শহীদুল হক জামাল রাজনীতিতে “চমক” দেখানোর কথা বলে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।এ আসনে বাহিরের কাউকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিলে সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে তিনি অন্য কোন দলের কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আ লিকতার ইস্যু ও আওয়ামী লীগের একটি অংশের নেপথ্য সমর্থন নিয়ে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চলে আসবেন বলে রাজনৈতিক অভিজ্ঞমহলের অভিমত। এদিকে সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির (জেপি) নেতা গোলাম ফারুক অভি আইনী জটিলতা কাটিয়ে শেষ মুহুর্তে দেশে ফিরে প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী “চমক” দেখাতে পারেন বলে তার ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন।অপরদিকে এ আসনে ১৪ দলের প্রার্থী হিসেবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেতা মাসুদ পারভেজ সোহেল রানার নামেরও গুঞ্জন রয়েছে। এছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে ছাত্রমৈত্রীর সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন ও জহিরুল ইসলাম টুটুল,বাংলাদেশ জাসদের (আম্বিয়া) কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনিসুজ্জামান,একই দলের কেন্দ্রীয় নেতা উজিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বাদল,তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ব্যক্তিগত সহকারী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা সাজ্জাদ হোসেন,স্বতন্ত্র শাহ মো. খসরুজ্জামান,এনপিপি’র মো. সাহেব আলী হাওলাদার রনি ও ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা নেছারউদ্দিন প্রমুখ সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কমবেশী তৎপর রয়েছেন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২ হাজার ৩৬৯ জন। এর মধ্যে উজিরপুর উপজেলায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ১ ভোট। এ উপজেলায় পুরুষ ভোটার ৯৩ হাজার ৬৬২জন ও নারী ভোটার ৯১ হাজার ৩৩৯ জন। বানারীপাড়া উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৬৮ জন। এ উপজেলায় পুরুষ ভোটার ৫৯ হাজার ৫৮৮ ও নারী ভোটার ৫৭ হাজার ৭৮০ জন। এ আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৩৬টি এর মধ্যে উজিরপুরে ৮৩টি ও বানারীপাড়ায় ৫৩টি কেন্দ্র।

 

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 102 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com