বর্তমান বাংলাদেশ টিমটা ভুগার অনেক কারণ মানসিকতা

Print

বর্তমান বাংলাদেশ টিমটা ভুগার অনেক কারণ দেখতেছি ..
কালকের খেলাটা দেখার পর কিছু প্রশ্ন মাথায় কিটকিট করতেছিলো…
ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন- এইটা যেনো একটা নিয়মিত ঘটনা.. কোনোদিন কেউ ওপেন করে, পরেরদিন মিডল অর্ডারে.. ইভেন টেস্ট ম্যাচটাতেও দেখছি, দ্বিতীয় ইনিংসে মোসাদ্দেক ওয়ানডাউনে নামছিলো আর লিটন ওপেন করছিলো… ঘন ঘন ব্যাটিং অর্ডার চেন্জ করার কারণ কি – হয়তোবা ব্যাটস্ম্যানদের ওপর বিশ্বাস নেই অধিনায়কের!
অনেকেই বলবে যে লেফট্-রাইট কম্বিনেশন করার জন্যই এইভাবে নামানো হইছে..আমার কথা,কি লাভ হইছে? আই বিলিভ-লেফট্-রাইট কম্বিনেশন ইজ ওভাররেটেড।যখন আপনি রিস্ট স্পিন খেলবেন তখন কিসের কম্বিনেশন,হ্যা? রিস্ট স্পিন খেলতে হলে আপনাকে আগে বোলারের মাথায় ঢুকতে হবে..নিজের টেকনিকের উপর থাকলে চলবেনা,এই কথাটা আমার না। কথাটা শচীন টেন্ডুলকারের.
রিস্ট স্পিন বাদ,আমরা তো ফিঙ্গারস্পিনও ভালো খেলতে পারিনি..নাবিকে উইকেট দিয়ে দিছি..মুজিবকে দিছি উইকেট..তাহলে?
আসলে ভালো বল করলে সে উইকেট পাবেই,হোক সে রিস্ট স্পিনারর বা ফিঙ্গার স্পিনার।

একটা টি টুয়েন্টি ম্যাচে কতটা ব্যাটসম্যান নিতে হয়?? আমার প্রশ্ন! টি টুয়েন্টিতে ৪-৫ ব্যাটসম্যানদেরই ম্যাচ তুলে দিতে হয়.. সেখানে বাংলাদেশ মাঠে নামে ৮টা পিউর ব্যাটসম্যান/ব্যাটিং অলরাউন্ডারদের নিয়ে।বেশি ব্যাটসম্যান নেয়ার ফলে বোলারের সংখ্যা কমে যায়।যেমন কালকের ম্যাচে জেনুইন বোলার ছিলো চারটা (ফিজ,সাইফ,তাইজুল,সাকিব)। অর্থাৎ ১৬ ওভার হলো.. বাকি ৪ ওভার পার্টটাইম বোলার দিয়ে চালানো লাগতো (সৌম্য,মোসাদ্দেক,মাহমুদুল্লাহ)। এরা প্রত্যেকেই ব্যাটিং অলরাউন্ডার..১৬ ওভারের প্রিপারেশন নিয়ে মাঠে নামা মানে,আপনি ঢাবিতে একজাম দিতে গেছেন তিনটা সাবজেক্টে আপনি বস. কিন্তু একটায় প্রিপারেশন নাই..ওই তিনটায় আপনি যতই পান না কেনো,দিনশেষে আপনি ফেইল.তারউপর সব বোলারদের তো সবদিন সমান যায়না! তখন তো আরও মহাবিপদ.. ধরলাম ১৬ ওভার ভালো বল করলাম.. ইকোনোমি ৭ করে 🙂 কিন্তু ওই ৪ ওভারে দিলাম ৬০ রান।লাভ কি হলো?

সৌম্যকে যদি মিডল ওর্ডারেই খেলাবে তাহলে ওকে বাদ দিয়ে একটা জেনুইন পেসার নেয়া কি যেতোনা?

তার উপর ব্যাটসম্যানদেরর অতিরিক্ত মারা প্রবণতা।খেলা দেখলে মনে হয়,প্রতিটা বলকেই বাউন্ডারি মারতে চাচ্ছে..বলের মেরিট অনুযায়ী খেলাটা খুব জরুরি.

বাংলাদেশ প্রায় ২০ বছর ধরে টেস্ট ক্রিকেট খেলতেছে।কিন্তু আমাদের টেস্ট স্পেশালিস্ট কোনো ব্যাটস্ম্যান বা পেসার নেই…আপনি বলবেন,ভাই মমিনুল তো আছে? মমিনুলকে আপনারা টেস্ট স্পেশালিস্ট বানাইসেন।ও কিন্তু দিনশেষে নিজেকে অল ফরমেট প্লেয়ার ই মনে করেন..তাইতো তার ব্যাটিং এভারেজ ৫৪ থেকে নেমে এখন ৪১ এ..টেস্ট এমন একটা ফরমেট এর জন্যে আপনাকে ত্যাগী হতে হবে.you have to be the best version of urself। তবেই তোমার দ্বারা হবে..আমাদের দেশে এমন কি কেউ নাই?

আফগানিস্তানের টেস্ট টিম আর টি ২০ টিমের মধ্য মিচুয়াল মুখ মাত্র ৩ টা…
আর আমাদের? সৌম্য,লিটন,সাকিব,মুশি,রিয়াদ,তাইজুল,মোসাদ্দেক সবাই -_-
অনেকের মনে এই কথাটা আসতে পারে যে আমরা কম টেস্ট খেলি, তাই টেস্ট স্পেশালিস্ট নাই।তাহলে আফগানিস্তানকে দেখেন, তারা তো আমাদের তুলনায় আরও টেস্ট খেলেনা, অথচ তাদের টেস্টটিম তৈরি হয়ে গেছে…
আসলে অনেক সমস্যা.।কোনটা ছেড়ে কোনটা বলি!
আমি গরীব মানুষ,কম বুঝি. এইগুলাই আসছে মাথায়।
বাংলাদেশ ক্রিকেটকে খুব ভালোবাসি.. দলের খারাপ দিনে অবশ্যই পাশে আছি,থাকবো। 🙂

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 39 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com