বাংলাদেশের প্রথম নারী ট্রেনচালক টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের সালমা

Print

অবাক হওয়ার মতোই বিষয়! নারীরা চালাচ্ছেন ট্রেন? তাদের নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। কেউ হন বিস্মিত, কেউবা মুগ্ধ। অনেকেই প্রশ্ন করেন, এটা কি সম্ভব? কেউ কেউ জানতে চান, ‘এত সাহস হলো কী করে আপনাদের?’।

এই দেশে যখন নারীদের নানা বাধাবিপত্তিতে পড়তে হয়, তখন তাঁরা সাহসের সঙ্গে ছুটে বেড়ান রেলগাড়ি চালিয়ে। ফলে সাধারণ মানুষদের অবাক হওয়ারই কথা। বর্তমানে রেলওয়েতে ট্রেন চালনায় ১৫ জন নারী আছেন। এর মধ্যে সালমা খাতুন বাংলাদেশের প্রথম নারী ট্রেনচালক। তিনি এখন ঢাকায় লোকোমাস্টার। বাকিরা এখনো সহকারী লোকোমাস্টার।

মেধা ও যোগ্যতা থাকলে সব বাধা-বিপত্তিই যে মোকাবিলা করা সম্ভব, এখন সালমা যেন তাই প্রমাণ করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

সালমা বললেন, এ পেশা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। খুব এনজয় করি। নারী হিসাবে নয় চালক হিসাবেই ট্রেনের ইঞ্জিনে উঠি। এসময় সব ধরনের অসুবিধা বা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করার মতো মন মানসিকতা তৈরি করে নিয়েছি।

প্রথম নারী ট্রেনচালক সালমা খাতুন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা গ্রামের সন্তান। কৃষক বাবার ৫ সন্তানের মধ্যে তিনি চতুর্থ। বাবা বেলায়েত হোসেন খান ও মা সাহেরা বেগমের এই কন্যাটি ছোট থেকেই চিন্তা-ভাবনায় অন্য ভাইবোনদের থেকে একেবারেই ব্যতিক্রম।

ছোট থেকে চাইতেন চ্যালেঞ্জিং ও ব্যতিক্রমধর্মী কোনো পেশায় যেতে। তার এ কাজে উৎসাহ যুগিয়েছেন বড় ভাই আবুল হোসেন আজাদ।

২০০০ সালে অর্জুনা মুহসীন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০০২ সালে কুমুদিনী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। এইচএসসি পাশের পরই বড় ভাইয়ের কাছে রেলওয়েতে ট্রেন চালক পদে নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে জানতে পারেন। কোনো চিন্তা-ভাবনা না করেই সালমা বেগম সেখানে আবেদন করেন। বুঝতে পারেন তার ব্যতিক্রমধর্মী কিছু করার আকাঙ্ক্ষা চূড়ান্ত রূপ পাবে এর মাধ্যমে। সেবছর সারাদেশ থেকে প্রায় ২০ হাজার চাকরিপ্রার্থী হিসেবে পরীক্ষা দেন। চূড়ান্ত পরীক্ষায় সফল হয়ে তাদের মধ্যে একমাত্র নারী ট্রেন চালক হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।

তবে নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে সফল হতে হয় তাকে। এমনকি লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পর তাকে শুনতে হয়, ‘ট্রেন চালানো অনেক কঠিন কাজ। পুরুষরাই এ কাজ পারে না। সেখানে নারী হয়ে তুমি পারবা?’

তবে সেদিন সালমা খাতুন দৃঢ়কণ্ঠে বলেছিলেন, “আমি পারবো, অবশ্যই পারবো।’’ সালমার এমন দৃঢ়তায় সেদিন মুগ্ধ হয়েছিলো ভাইভা বোর্ডের সদস্যরা।

এর প্রায় চার মাস পর সালমার বাড়িতে আসে চাকরি পাওয়ার চিঠি। ২০০৪ সালের ৮ মার্চ যোগ দেন তিনি যোগদান করেন বাংলাদেশ রেলওয়েতে। ওই বছর সারাদেশ থেকে ট্রেন চালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ৬৫ জনের মধ্যে একমাত্র নারী চালক ছিলেন সালমা।

তিনি প্রথমে যোগ দেন সহকারি লোকো মাস্টার হিসেবে। এই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর পদোন্নতি পেয়ে হয়েছেন লেকো মাস্টার। চাকরি জীবনে ঢুকেও থেমে থাকেনি সালমা খাতুনের শিক্ষা কার্যক্রম। একই সাথে চালিয়ে গেছেন পড়াশুনাও। ২০১১ সালে বিএসএস, ২০১৩ সালে বিএড এবং মাস্টার্স করেন ২০১৫ সালে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 81 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com