বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে চলছে জুয়া বাড়ছে অপরাধ কলহ

Print


বাকী বিল্লাহঃ(পাবনা)জেলা প্রতিনিধিঃকে জিতবে খেলায়, আর কেইবা হারবে,কে কত রান করবে,কয়টা ছয়,কয়টা চার হবে, এমনকি কোন বলে কত রান হবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) শুরুর পর থেকেই পাবনায় কথায় কথায় চলছে এমন বাজি। এ খেলাকে কেন্দ্র করে পাবনা জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার গ্রাম শহরে চলছে এমন জমজমাট জুয়া। নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষসহ ব্যবসায়ী,চাকুরীজীবি।এলাকায় বাড়ছে চুরি, ছিনতাই। জুয়ার সাথে জড়িত একের অধিক ব্যক্তি ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খেলা শুরুর আগে থেকেই চলতে থাকে জুয়ার প্রস্তুতি। একটি নির্দিষ্ট স্থানে বসে মুল আসর।মুঠোফোনে খুদে বার্তা হোয়াটস-অ্যাপ,মেসেঞ্জারে জানানো হয় বাজির প্রশ্ন। এরপর এসব মাধ্যমেই টাকা ধরতে থাকেন জুয়ারিরা।অনেকে আবার সরাসরি জুয়ার আসরে গিয়ে টাকা জমা দেন।সব চলে বিশ্বাসের উপর। বাজি জিতলে দ্বিগুণ টাকা পৌঁছে যায় জুয়ারির কাছে। আর হারলে নিঃস্ব হন তিনি। একবার জিতলে আবার জেতার নেশা জাগে। আর হারলে জাগে খোয়ানো টাকা তোলার নেশা। ফলে জমজমাট হয়ে ওঠে বিপিএল খেলার এই জুয়া। জেলা শহর সহ বিভিন্ন উপজেলার হাটবাজারে ও চায়ের দোকানে জুয়া নিয়ে চলছে জমজমাট আড্ডা। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে অনেকে চুরি ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপকর্মের দিক জড়িয়ে পড়ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা শহরের নিউমার্কেট এলাকা, বাংলাবাজার, গাছপাড়া,আটঘরিয়া উপজেলা সদরের দেবোত্তর বাজার, চাটমোহর উপজেলা সদর বাসস্ট্যান্ড,চৌধুরী পাড়া, দোলং,রামনগর ঘাট,মথুরাপুর,অমৃতকুন্ডা,শাহপুর, বালুদিয়ার মোড়,হরিপুর, হান্ডিয়াল,সমাজ বাজার, ভাঙ্গুড়া উপজেলার বেতুয়ান,জগতলা বাজার, বকুলতলা,কালীবাড়ি মোড়,ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগর,থানা পাড়া, বেড়-হাউলিয়া বাজার, বেড়া উপজেলার বেড়া বাজার,মোহনগঞ্জ, নাকালিয়া,কাশিনাথপুর-সহ জেলার প্রায় সবকটি উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে এবং চায়ের দোকানকে কেন্দ্র করে এসব জুয়ার আসর চলছে। প্রতিটি জুয়ার আসরে প্রতিদিন শত শত টাকা লেনদেন হচ্ছে। ফলে চুরি ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়ে গেছে। জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে অনেক পরিবারে কলহ তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে চাটমোহর বাজারের এক জুয়ার আসর পরিচালনাকারী জানান, টাকা বাজি ধরতে আমরা কাউকে উৎসাহ দিচ্ছি না।মানুষ নিজে থেকেই বাজি ধরছে। চাটমোহর উপজেলা সদর থেকে আব্দুল হান্নান নামের এক ব্যবসায়ী জানান, এই জুয়া নেশার মতো।জুয়ার কারনে মানুষ স্বাভাবিক জীবন থেকে ছিটকে পড়ছেন। খেলা শুরুর আগে থেকেই কাজকর্ম বাদ দিয়ে বাজির হিসাব নিকাশে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।ফলে তারা  অর্থনৈতিক ও মানষিক দুভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। জেলা সদরের সাংস্কৃতিক কর্মী রাসেল রহমান বলেন, এই জুয়া দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। নীরবে ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে করে জুয়া পরিচালিত হচ্ছে। ফলে প্রশাসনের নজরেও খুব একটা আসছে না।তবে এর প্রতিরোধ প্রয়োজন। অন্যথায় সমাজের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হবে। এ প্রসঙ্গে জানতে যোগাযোগ করা হলে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি আমরাও শুনেছি। জেলার প্রতিটি থানাকে চায়ের দোকান সহ বিভিন্ন জমায়েতে নজর রাখতে বলা হয়েছে।তবে মুঠোফোনের মাধ্যমে জুয়া পরিচালিত হওয়ায় এখনো কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। প্রয়োজনে আরও নজরদারি বাড়িয়ে এই জুয়া প্রতিহত করা হবে। 

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 135 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com