বাংলা সাহিত্য জগতে আরেক নাম সাহিত্য সাধক মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন

Print

-এম.সোহেল রানা, মেহেরপুর।

একজন নিরলস সাহিত্য-সাধক মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন পেশায় শিক্ষক হলেও মনোগতভাবে অর্থাৎ মানস-গঠনের দিক থেকে তিনি একজন সাহিত্যিক। মজ্জাগতভাবে সাহিত্যগত প্রাণ বলেই ছাত্র-জীবন থেকে অদ্যাবধি নিষ্ঠার সাথে তিনি নিজেকে সাহিত্য চর্চায় নিয়োজিত রেখেছেন। শিক্ষা ও জ্ঞান-সাধনার সাথে সাহিত্যের সম্পর্ক নিবিড় হলেও শিক্ষাদানের সাথে যারা সম্পর্কিত, তারা সকলেই সাহিত্য চর্চা করেন, তা কিন্তু নয়। মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন শিক্ষকতা পেশা গ্রহণের পূর্ব থেকেই সাহিত্য চর্চায় মনোনিবেশ করেন। তাছাড়া শিক্ষাগত পেশায় নিয়োজিত থেকেও পাশাপাশি তিনি সারা জীবন বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন পরম নিষ্ঠার সাথে এখনো। মানস-গঠনের কথা বলতে গেলে উল্লেখ করতে হয় যে, তিনি আশাবাদী ও ঐতিহ্যে বিশ্বাসী একজন নিরলস লেখক বাংলা সাহিত্যিক সাধক এবং তার রচনায় রয়েছে এসবের প্রতিফলন। তবে আদর্শবাদী লেখক হওয়া সত্ত্বেও তার মধ্যে কোন গোঁড়ামি নেই। তিনি একজন মুক্তচিন্তার প্রগতিশীল মানবতাবাদী লেখক। ইসলামের শাশ্বত মানবতাবাদী আদর্শ-ঐতিহ্য ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী এ লেখক নিছক ‘সাহিত্যের জন্য সাহিত্য’ রচনা করেননি। তিনি আদর্শ ও ঐতিহ্যের আলোকে এবং উদার মানবতাবাদী চিন্তা-চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সাহিত্য রচনা করেছেন। যাতে দেশ-জাতি ও মানুষের কল্যাণ-চিন্তাই প্রাধান্য পেয়েছে। সাহিত্য সৃষ্টি তার প্রধান উদ্দেশ্য হলেও আদর্শভিত্তিক ও মানবতাবাদী চিন্তাধারা তুলে ধরাই তার সাহিত্য চর্চার মূল লক্ষ সাহিত্য তাকে আলোকিত করে আন্দোলিত করে হৃদয়ের প্রান্তে ছড়িয়ে আছে। সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা সে কারণেই বাংলা সাহিত্যের ক্ষেত্রে শুদ্ধ চেতনা ধারণ করে তার শিল্প সৃজন হয়ে উঠেছে গহন ও গভীর কোন কাজে তার দৃষ্টিভঙ্গি শৈলী ও সৌন্দর্য যে কাউকে আকৃষ্ট করে। তার সঙ্গে পরিচয় হলে কারও পক্ষে তাকে ভুলে যাওয়া সহজ নয় তিনি হলেন বাংলা সাহিত্য জগতে আরেক নাম সাহিত্য সাধক মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন। ছোটবেলা কেটেছে শান্ত স্নিগ্ধ উদার আকাশের বৃহত্তম ময়মনসিংহ জেলার চরসিরতা গ্রামে। এখানকার খাল, বিল, নদী, রাতের তারা, হলুদ শর্ষে ক্ষেতে ভোঁরের শিশির ভেজা ঘাসে জড়িয়ে আছে বরেণ্য সাহিত্যিক মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এর রঙিন শৈশব। এই সবুজ তাকে শৈশবেই তাকে নিবিড় ভাবে টেনেছিল সাহিত্যের মোহময় ভূবনে।এরপর চোখে সাহিত্যের স্বপ্ন নিয়েই চলে এলেন খুলনায়। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে পোর্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশা নিয়ে। তার কর্মজীবনে সাহিত্যে প্রবেশের স্বপ্নগুলো ডানা মেললো সু-দূর আকাশে এখানে কথা আর ছন্দ এর নান্দনিক ও বৈচিত্র্যময় প্রভাবে তার প্রতিটি দিন আসলো নতুন কোন বার্তা নিয়ে নতুন কোন কিছু করার উদ্দীপনা নিয়ে সাহিত্য জগতে এসে এখানে সাহিত্যের কিছু উজ্জ্বল নক্ষত্র যেমন প্রফেসর আব্দুল মান্নান, মরহুম গাউস মিয়া, ফজল মোবারক, সাহিত্য সমালোচক, আলোচক, গবেষক, অধ্যাপক শেখ আজিজুল ইসলাম টিপু , সাহিত্যিক ও সাংবাদিক শেখ আবু আসলাম আবু, দৈনিক পূর্বাঞ্চলের মফস্বল সম্পাদক ও গবেষক গোলাম মোস্তফা সিন্দাইনি সহ অনেক সাহিত্যিকদের সান্নিধ্যে আসার সৌভাগ্য হয়েছে তাঁর ।পত্রিকায় ছাঁপা হয়েছে একাধিক কবিতা ও প্রবন্ধ। সু-দূর এই দক্ষিণবঙ্গে অবস্থান করে একাধিক সাহিত্য সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন তিনি। তাঁর নিজের প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য সংগঠন উন্মীলন সাহিত্য ও সমাজ কল্যাণ সংগঠন ছাড়াও সৃজনশীল সাহিত্য বিকাশে “মোমেনশাহী দর্পণ” নামে একটি সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এছাড়াও তিনি খুলনাস্থ বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন যাবৎ। শুধু তাই নয় মানুষের ভালোবাসা আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে ঢাকা বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠন ঢাকা বিভাগীয় কল্যাণ সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সহিত। তাঁর গল্প কবিতা এ পর্যন্ত ১৬ টি যৌথ কাব্য গ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছে এছাড়াও তাঁর সম্পাদনায় বাংলাদেশের সাড়ে চার শত কবি সাহিত্যিকদের কবিতা নিয়ে “ঊষার আলো” নামে একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। বর্ণিল সাহিত্য জীবনে একজন সাহিত্য ব্যক্তিত্ব জনাব মোঃ জুবায়ের হোসেন এ পর্যন্ত একাধিক সাহিত্য পদকে ভূষিত হয়েছেন। তাঁর মধ্যে “ধুমকেতু সাহিত্য পরিষদ” পঞ্চগড় থেকে প্রবন্ধের স্বীকৃতি স্বরূপ সাহিত্য পদক পেয়েছেন, ধ্রুপদী সাহিত্য পরিষদ খুলনা থেকে সম্মাননা স্মারক পেয়েছেন, খুলনার সবুজ পাতার দেশে আবৃত্তি সংগঠন থেকে একাধিক সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ থেকে তিনি ২০১৪সালে সাহিত্য পদকে ভূষিত হয়েছেন। তার জীবনের সোনালী দিন গুলির একটি মূল্যবান সময় কাটিয়ে যাচ্ছেন এই খুলনা তথা দক্ষিণবঙ্গের আনাচে-কানাচে একজন সাহিত্যিক বেঁচে থাকেন তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে সৃষ্টি শুধু শৈল্পিক অঙ্গনে সীমাবদ্ধ নয় এর ব্যাপ্তি আরো বিশাল যা অনায়াসে চলতে পারে মানবতার আঁচল তার প্রত্যক্ষ উদাহরণ সাহিত্য ব্যক্তিত্ব জনাব মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি এক কন্যা সন্তানের জনক। সর্বোপরি যার কথা না বললেই নয় সাহিত্য জগতে এই নিরলস ব্যক্তিটিকে ত্যাগী করে তুলেছেন যিনি, সে ব্যক্তিটি হলেন তাঁর সহধর্মিনী সুরাইয়া বেগম সালমা শিক্ষিতা পেশায় একজন গৃহিনী।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 108 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com