বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর তীরে আবাসন প্রকল্প নির্মাণকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইর্কোট

Print


রাহাদ সুমন,বানারীপাড়া॥
বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর তীর ভরাট করে সরকারের আবাসন প্রকল্পের কার্যক্রম অবৈধ ঘোষণা করে কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়েছেন হাইর্কোট।পরিবেশ আইনের ৭ ধারা অনুসারে মাটি ভরাটকারীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিরেক্টর জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইর্কোট।বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি জিনাত আরা ও কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ’র ডিভিশন বেঞ্চ শুনানী শেষে রায় প্রদান করে রুল এবসলিউড করেন এবং ৭টি নির্দেশনা প্রদান করেন। সন্ধ্যা নদী ভরাট করে আবাসন প্রকল্প নির্মাণের সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ একটি রিট পিটিশন দায়ের করে।এতে বিবাদী করা হয় স্থাণীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সচিব,পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও বরিশালের জেলা প্রশাসক সহ ৮ জনকে।গত ২০০৯ সালের ৩১ মে হাইর্কোট রুল জারি করে স্থিতিবস্থার আদেশ দেন।রুলের জবাবে বরিশালের জেলা প্রশাসকের পক্ষে সরকার পক্ষ এফিডেভিট দাখিল করে প্রকল্পের পক্ষে জবাব দাখিল করে শুনানী করে।বাদী পক্ষের কৌঁসুলী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ বলেন পরিবেশ সংরক্ষন আইন ১৯৯৫ এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষন আইন ২০০০ এর বিধান অনুসারে নদীর জায়গা ভরাট করে প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ না থাকলেও সরকার সন্ধ্যা নদীর জায়গা দখল করে আবাসন প্রকল্প নির্মাণ করে তা কার্যকর করেছিলো।তিনি আরও বলেন সংবিধানের আর্টিকেল ১৮ অনুসারে পরিবেশ সংরক্ষনের ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি নির্দেশনা থাকলেও সরকারে পক্ষ থেকে তা লংঘন করে সন্ধ্যা নদীর জায়গায় আবাসন প্রকল্প নির্মাণের জন্য প্রথমে মাটি ভরাট করে তারপর আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে,তা সম্পূর্ণ বেআইনী।আদালত যে সকল নির্দেশনা দিয়েছেন তা হলো- সন্ধ্যা নদীর সিএস এবং আরএস অনুসারে ৩ মাসের মধ্যে জরিপ সম্পাদন করে অবৈধ দখলকারীদের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে,আগামী ৪ মাসের মধ্যে সন্ধ্যা নদীর জায়গায় মাটি ভরাট/দখল/স্থাপনা অপসারণ/উচ্ছেদ করতে হবে,আইন অনুযায়ী উক্ত প্রকল্পে যে সকল ভূমিহীন গরীব লোকদের আবাসনের প্রস্থাব ছিল তাদেরকে অন্য সরকারী জমিতে পুর্নবাসন করতে হবে,নদীর জায়গায় “কাজলাহার আশ্রায়ন’ প্রকল্প গ্রহণ ও কার্যকরী করাকে অবৈধ ঘোষণা,আইন ভঙ্গ করে নদীর জায়গায় মাটি ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিবেশ আইনের ৭ ধারা অনুসারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ,সন্ধ্যা নদীর প্রকৃত সীমানা সংরক্ষনে বিবাদীদেরকে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে নদী রক্ষায় মনিটরিং কমিটি করে ব্যবস্থা নিতে হবে।বাদী পক্ষে শুনানী করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট রিপন বাড়ৈ।সরকার পক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যার্টনী জেনারেল ইসরাত জাহান।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 69 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com