ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৭ জুলাই ২০২২
  1. আন্তর্জাতিক
  2. ইতিহাস ঐতিয্য
  3. ইসলাম
  4. কর্পোরেট
  5. খেলার মাঠে
  6. জাতীয়
  7. জীবনযাপন
  8. তথ্যপ্রযুক্তি
  9. দেশজুড়ে
  10. নারী কন্ঠ
  11. প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  12. ফার্মাসিস্ট কর্নার
  13. ফিচার
  14. ফ্যাশন
  15. বিনোদন

বাড়ছেই লোডশেডিং

ডেস্ক নিউজ
জুলাই ৭, ২০২২ ৪:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিশ্বব্যাপী তীব্র গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়ছে আমাদের দেশেও। লোডশেডিং দিন দিন বাড়ছে। পর্যাপ্ত গ্যাসের আমদানি না থাকায় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গড়ে সারা দেশে ১৫০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। যদিও ১২৭৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বাভাস ছিল। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি করেছে, তার প্রভাব পড়েছে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় আপাতত এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে না।

এরফলে দেশে দেখা দিয়েছে গ্যাস সংকট। গ্যাস সংকটে এখন সারা দেশে প্রায় ৩৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। পট্রোবাংলা জানায়, দুঃসংবাদ হচ্ছে শিগগিরই বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই ঘাটতি পূরণের কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে ঘাটতি মেটানোর কথা ভাবছে পেট্রোবাংলা। মূলত এতেও সহসা সমাধানের সম্ভাবনা নেই।

বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিংয়ে প্রভাবে জনজীবন এখন অতিষ্ঠ। উষ্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় নাগরিক সমাজ। নাভিশ্বাস জনজীবনে। বাড়ছে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ। বাড়ছে তিক্ততাও। জনজীবনের নানা কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিঘ্ন হচ্ছে শিল্প উৎপাদন। ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদনের ধারাবাহিকতা। শপিংমল থেকে শুরু করে হাটবাজার সর্বত্র কমে গেছে কেনাবেচা। বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগে থাকছে না ধারাবাহিকতা। বাচ্চারা স্কুলের পড়া কিংবা হোমওয়ার্ক প্রস্তুত করতেও অসুবিধায় পড়ছে।

যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আয়শা খাতুন আমার সংবাদকে জানান, তীব্র লোডশেডিংয়ের ফলে চার্জার ফ্যান-লাইটও এক সময় চার্জশূন্য হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। এতে যেন শেষ ভরসাটুকুও নিভে
যায়। বস্তিগুলোতে রাতে লোডশেডিংয়ের ফলে ভূতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়। এসময় বস্তিবাসীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।

গেন্ডারিয়া এলাকার এক বস্তিতে বসবাস করা এক নারী বলেন, আমরা মা-মেয়ে থাকি এখানে। ভয় হয় মাঝে মাঝে। রাতের অন্ধকারে শ্লীলতাহানির অভিযোগও আছে এ বস্তিতে।

রাজধানীতে বসবাসরত অনির্বাণ আরিফ সোশ্যাল মিডিয়াতে জানান, তীব্র লোডশেডিংয়ের ফলে আমরা এখন যেন বিএনপি-জামায়াত আমলে প্রবেশ করেছি।  সারা দেশে হঠাৎ আশঙ্কাজনক হারে বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাসের ফলে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। শতভাগ বিদ্যুতায়নের পথে এগিয়ে চলা বাংলাদেশে লোডশেডিং হারিয়ে গেছে বলেই সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছিল। এর মধ্যেই গত কদিন ধরে রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায়ই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এমন অবস্থায় গত রোববার বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় দেয়া এক পোস্টে বলেন, ‘গ্যাসস্বল্পতার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় স্বাভাবিক হবে।’

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য ও সরবরাহ অন্যান্য সব দেশের মতো আমাদেরও সমস্যায় ফেলেছে। এ পরিস্থিতিতে আপনাদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি।’

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) হিসাবে, গত রোববার সন্ধ্যায় ১৪২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা ধরা হয়েছে।

পিডিবির ১৫২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা ২২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। তবে ক্যাপটিভসহ মোট উৎপাদন ক্ষমতা সাড়ে ২৫ হাজার মেগাওয়াটের মতো। এর মধ্যে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ৫১ শতাংশ, তেলভিত্তিক এইচএফও ও এইচডিও কেন্দ্রগুলোর উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ৩৪ শতাংশ। কয়লা থেকে প্রায় ৮ শতাংশ, আমদানি থেকে ৫ শতাংশ বিদ্যুৎ আসে। বাকিটা পূরণ করে সৌর ও পানিভিত্তিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি।

পিডিবির সূত্র জানায়, ‘জ্বালানি সরবরাহ ঠিক থাকলে চাহিদারও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করার মতো যথেষ্ট কেন্দ্র আমাদের রয়েছে। কিন্তু এখন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য গ্যাসের যে চাহিদা রয়েছে, তার অর্ধেকও হয়তো আমরা পাব না।’

বিপিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, ‘বিপিডিবি বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির কারণে ৩৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’

দেশের তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশন পেট্রোবাংলার দৈনিক গ্যাস প্রতিবেদনে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর চাহিদার মাত্র ৪২ শতাংশ সরবরাহের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

এতে দেখানো হয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য চাহিদা ধরা হয়েছে ২২৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের। কিন্তু এর বিপরীতে গ্যাস সরবরাহ করা যাবে ৯৬০ মিলিয়ন ঘনফুট।

সার উৎপাদনেও চাহিদার অর্ধেকের কম গ্যাস সরবরাহ করার পূর্বাভাস রয়েছে পেট্রোবাংলার প্রতিবেদনে। পেট্রোবাংলার হিসাবে, আমদানি থেকে ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ আসার কথা থাকলেও তা আসছে অর্ধেকেরও কম। এদিন আমদানি থেকে ৪৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ আসবে বলে ধরা হয়েছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযানের পর থেকে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতার মধ্যে বেশকিছু দেশ সমস্যা মোকাবিলা করছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল এক আলোচনায় লোডশেডিংয়ের ব্যাপারে অনুরোধ করে বলেন, ‘দেশে বিদ্যুতের যে ঘাটতি হয়েছে, সেখানে আমরা যদি একটু সাশ্রয় করে চলি, মিতব্যয়ী হই এবং নিজেরা নিজেদের সঞ্চয়টা বাড়াতে পারি, তাতে যে কোনো সমস্যা মোকাবিলা করা যাবে।’

বিপিডিবি সূত্র জানায়, দেশে সাধারণত বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৩০০ থেকে ১৪০০ মেগাওয়াটের মধ্যে ওঠানামা করে। চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল সর্বোচ্চ উৎপাদন রেকর্ড করা হয়েছিল ১৪ হাজার ৭৮২ মেগাওয়াট। বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী মোট ১৫০০ মেগাওয়াট ঘাটতির মধ্যে দেশ। এর মধ্যে ঢাকা অঞ্চলে ৪০০ মেগাওয়াট, চট্টগ্রামে ২০০, খুলনায় ২২০, রাজশাহীতে ২২০, কুমিল্লায় ১৪০, ময়মনসিংহে ১২০, সিলেটে ৫০ এবং রংপুরে ১৫০ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল।

তবে অনেক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বিপিডিবির পরিসংখ্যানের সঙ্গে একমত নন। লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের মাত্রা সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে বেশি বলে মনে করেন তারা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, ‘বিপিডিবি কখনই তার পাওয়ার সাপ্লাই পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করে না।’

এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান গণমাধ্যমকে জানান, যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির বাজার এখন অস্থির। বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে আমাদের অবস্থা আলাদা নয়। সুতরাং পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছি।

তিনি আরও বলেন, রাতারাতি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়। সংকটও কাটছে না শিগগির। আমরা কাজ করছি। শ্রীকাইলে সম্প্রতি কাজ শুরু করেছি। চলতি বছরের মধ্যে সেখান থেকে গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আমরা আশা করছি। তিনি বলেন, সারা বিশ্বের মতো আমাদেরও এখন সাশ্রয়ী হতে হবে। যতটা সম্ভব অপচয় বন্ধ করতে হবে। প্রসঙ্গত, গ্যাস ঘাটতির এই প্রভাব শুধু বিদ্যুতে নয়— সার, শিল্পসহ অন্য খাতেও পড়বে বল শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার থেকেই রাজধানীসহ গ্রামাঞ্চলের সব জায়গায় আধঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং হচ্ছে। এরপর থেকে ধীরে ধীরে সারা দেশে তীব্র হয়েছে লোডশেডিং। অনেক এলাকায় দিনে প্রায় পাঁচ-ছয়বার করে লোডশেডিং হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্ববাজারে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি ৩৫ ডলারের বেশি বিক্রি হচ্ছে। কয়েক মাস আগে তা ছিল ২৫ ডলারের নিচে। ফলে স্থানীয় গ্যাস সরবরাহ ৩৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে প্রতিদিন দুই হাজার ৮২২ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে। যার ফলে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের ঘাটতি সৃষ্টি হয়।

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. শাহজাহান কবীর জানান, গত তিন দিন থেকে খুব বেশি বিপদে আছি। আমরা সবাই মোটামুটি জানি এখন কেন লোডশেডিং হচ্ছে। তরপরও দোষটা আসছে ইউটিলিটির ওপর। এখানে আমাদের করার কিছু নেই। যেমন আমার ১২২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। আমি অর্ধেকের মতো পাচ্ছি আর অর্ধেক পাচ্ছি না।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।