বিএনপির ভরসা স্কাইপে-হোয়াটসঅ্যাপ

Print

দীর্ঘদিন ধরেই ‘কাণ্ডারীবিহীন’ অবস্থায় চলছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ২০ দিন ধরে বিদেশে। এ অবস্থায় স্কাইপে আর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে লন্ডন থেকে দল চালাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি মামলায় পাঁচবছরের দণ্ড নিয়ে বর্তমানে কারাগারে বন্দি খালেদা জিয়া। তিনি হয়তো আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন তার সাজা হয়ে যেতে পারে। তাই খালেদা জিয়া সঙ্গে নিয়েছিলেন গৃহকর্মী ফাতেমা, প্রয়োজনীয় কাপড় ও জিনিসপত্র।

নাম প্রকাশে দলের একাধিক সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া আদালতে যাওয়ার সময় সাজার বিষয়টি আঁচ করতে পারলেও ছেলে তারেক রহমানকে ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে যাননি। সাজা হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রাতে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানান, তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

জানা যায়, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। এরপর ১৯৮২ সালে ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন খালেদা জিয়া। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। বিএনপির তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে খালেদা জিয়া পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৪ সালের ১০ মে চেয়ারপারসন নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জেলে যাওয়ার আগে কখনই এই পদে কাউকে ভারপ্রাপ্ত করেননি খালেদা জিয়া।

দলীয় সূত্র বলছে, ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে দলে যোগ দেবার পর থেকে মোট চারবার গ্রেফতার হন খালেদা জিয়া। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর গ্রেফতার হন।

সর্বশেষ তিনি ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বরও দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হন। পরে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের নির্দেশে মুক্তিলাভ করেন। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হবার পর দীর্ঘ একবছর সাতদিন কারাগারে অবস্থানকালেও বিএনপি চলেছে ‘চেয়ারপারসনবিহীন’ অবস্থায়।

এদিকে বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ২০১১ সালের ১৬ মার্চ সিঙ্গাপুরে মারা যান। এর চারদিন পর ২০ মার্চ দলীয় গঠনতন্ত্রে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের কোনো পদ না থাকলেও তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ঘোষণা করেন খালেদা জিয়া।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের পদ পান মির্জা ফখরুল। সেই থেকে এখন পর্যন্ত যতবার কারাগার অথবা বিদেশে গেছেন কখনও কাউকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেননি তিনি।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 52 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com