বিএনপির রাজনৈতিক ফাঁদে সরকার

Print
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সরকার খুব শিগগিরই বিএনপির রাজনৈতিক ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে। সরকারি দলের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং বিরোধী দলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার মনোবৃত্তির কারণেই হয়তো তারা ফাঁদে পড়তে পারে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিংবা নির্বাচন পূর্ব রাজনৈতিক কলাকৌশলে তারা বিএনপির পাতা ফাঁদে জড়িয়ে যেতে পারে।

বিগত সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরকারি দল আওয়ামী লীগ যতটা কৌশলতা অবলম্বন করেছে তার চেয়েও সতর্ক কৌশল নিয়ে বিএনপি এগিয়ে যাচ্ছে। বিগত দিনের তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং ক্ষমতা কেন্দ্রিক সৃষ্ট জটিলতা ও অজনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক কর্মকৌশল নির্ধারণ করে ফেলেছে। এই মুহূর্তে তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো যেকোনো মূল্যে সরকারকে বিভ্রান্ত করে নিজেদের ইস্পিত লক্ষ্যে পৌঁছা।

বিএনপি নেতৃবৃন্দের কথাবার্তা এবং কাজকর্ম দেখে শুধু সরকারি দলই নয় বরং বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মী এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকবৃন্দও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। তারা কি আদৌ নির্বাচন করবে নাকি করবে না? অথবা জামায়াতসহ অন্যান্য দল যেমন বি. চৌধুরীর বিকল্প ধারা, কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, ড. কামালের গণফোরাম, জাসদ রব, বাসদ, সিপিবি, সাম্যবাদী দল, হেফাজত, খেলাফত মজলিসসহ অন্যান্য ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে তাদের সাম্প্রতিককালে কেমনতরো যোগাযোগ রয়েছে তা সরকার জানে না। বিএনপির হালনাগাদ মতিগতি জানতে না পারাটাই সরকারের ফাঁদে পড়ার জন্য যথেষ্ট।

বিএনপি কৌশলগত কারণে নিজেদেরকে অতীব দুর্বল, নিরীহ এবং আত্মকলহে জর্জরিত একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রমাণের জন্য উঠে-পড়ে লেগেছে। তারা সরকার এবং সরকার সমর্থক কট্টরপন্থি সরকারি আমলাদেরকে বুদ্ধু বানানোর জন্য প্রায়ই লাগামছাড়া কাজকর্ম করে যাচ্ছে এবং একই তালে প্রচার প্রপাগা-া চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে সরকার একবার ভাবছে হয়তো বিএনপি নির্বাচনে আসবে না অথবা তাদেরকে ছলে বলে কৌশলে বিগত ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা যাবে। এই লক্ষ্যে তারা যথেষ্ট চেষ্টা তদবিরও করে যাচ্ছে। ফলে তাদের সাংগঠনিক ক্ষমতা, নির্বাচনি যুদ্ধে লড়ার সক্ষমতা যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি উপযুক্ত প্রার্থী বাছাইয়ের পথটিও রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।

সরকার অবশ্য মাঝে মধ্যে বলছে যে, এবারের নির্বাচন গতবারের মতো সহজ হবে না। কিন্তু এটা তাদের কথার কথা বলেই ধরে নিচ্ছেন দলের সুবিধাভোগী শ্রেণিটি যারা বিশৃঙ্খল অবস্থার সুযোগ নিয়ে মন্ত্রী, এমপি হয়ে বসে আছেন। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, সরকারি দলে অথর্ব, সুবিধাভোগী এবং গণধিকৃত লোকজনই ইদানিংকালে অতি মাত্রায় প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। বিএনপি নির্বাচনে এলে এই শ্রেণিটি কর্পুরের মতো উড়ে যাবে। নির্বাচনে জয়লাভ তো দূরের কথাÑ একটি সম্মানজনক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাহস ও শক্তি এই সুবিধাভোগী হাইব্রিড শ্রেণিটির নেই। অনেকে বলাবলি করছেন যে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে এরা দলীয় মনোনয়ন মাঠে ফেলে কোথায় যে উধাও হয়ে যাবে তা কেবলমাত্র মাবুদ আল্লাহই বলতে পারেন।

বিএনপি খুব ভালো করেই জানে যে, তাদের কি কি দুর্বলতা এবং কি কি সক্ষমতা রয়েছে। তাদের রয়েছে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং ক্ষমতার বাইরে থেকে বাহারী ধকল সহ্য করার বিস্ময়কর ইতিহাস। তাদের জনপ্রিয়তা, দেশি-বিদেশি সংযোগ এবং অত্যন্ত পরিপক্ক এবং মেধাবী শ্রেণির শীর্ষ ও মধ্যম পর্যায়ের জাতীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে খোলা ময়দানে রাজনৈতিক খেলায় প্রতিযোগিতা করার সামর্থ্য সম্পর্কে তারা বেশ ওয়াকিব রয়েছেন। তারা জানেন যে, রাজনৈতিক সময় এবং সুযোগটাই মুখ্য। আর সে কারণেই তারা নিজেদের কর্মকৌশলের ফাঁদ রচনা করে সরকারি দলকে আটকানোর জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে সময় ও সুযোগের জন্য অপেক্ষা করে যাচ্ছেন।

লেখক : গোলাম মাওলা রনি,সাংবাদিক ও কলামিস্ট

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 235 বার)


Print
bdsaradin24.com