ঢাকারবিবার , ২৯ মে ২০২২
  1. আন্তর্জাতিক
  2. ইতিহাস ঐতিয্য
  3. ইসলাম
  4. কর্পোরেট
  5. খেলার মাঠে
  6. জাতীয়
  7. জীবনযাপন
  8. তথ্যপ্রযুক্তি
  9. দেশজুড়ে
  10. নারী কন্ঠ
  11. প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  12. ফার্মাসিস্ট কর্নার
  13. ফিচার
  14. ফ্যাশন
  15. বিনোদন

বিপদে পড়তে যাচ্ছে কি দেশের ইস্পাত শিল্প

ডেস্ক নিউজ
মে ২৯, ২০২২ ৫:১৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গত এক দশকে মেগা প্রজেক্টসহ অনেক নির্মাণপ্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এসব প্রকল্পদেশের ইস্পাত খাতের চাহিদা বাড়িয়েছে।বাড়তি এ চাহিদা পূরণের জন্য ইস্পাত খাতেরকোম্পানিগুলো বিনিয়োগ ও সক্ষমতা দুটোইবাড়িয়েছে। এমন মুহূর্তেই ব্যয় সংকোচনেরনীতি থেকে নিতান্ত জরুরি ছাড়া নতুন করেঅন্য কোনো প্রকল্প হাতে না নেয়ার সিদ্ধান্তনিয়েছে সরকার। বিষয়টি দেশের ইস্পাতখাতে উদ্বেগের সঞ্চার করেছে। চাহিদা হ্রাসেবাড়তি উৎপাদন সক্ষমতা প্রতিষ্ঠানগুলোরজন্য বড় বোঝা হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেনখাতসংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্সঅ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) ওউদ্যোক্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরেদেশে ইস্পাত খাতে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধিহয়েছে। ২০১১ সালে দেশে সম্মিলিতভাবেএমএস রড উৎপাদন হতো ২৫ লাখ টন।২০১৬ সালে এটি ৫৫ লাখ টনে দাঁড়ায়।বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী বছরে গড়ে উৎপাদনহচ্ছে ৬৫ লাখ টন। উৎপাদিত রডের তুলনায়বাজারে সরবরাহ করা রডের পরিমাণ কিছুটাকম। ২০১৬ সালে বাজারে গড়ে ৫০ লাখ টনরড বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে এর পরিমাণ ৬০লাখ টনের বেশি। যদিও ইস্পাত উৎপাদকদেররড উৎপাদন সক্ষমতা আরো বেশি। ২০১৬সালে ইস্পাত খাতের মোট সক্ষমতা ছিল ৭০লাখ টন, যা বর্তমানে ৮০ লাখ টন ছাড়িয়েছে।এখনো বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতাবাড়ানোর কার্যক্রম চলছে। এতে আগামী দুইবছরে দেশে রড উৎপাদনের সক্ষমতা এককোটি টন ছাড়িয়ে যাবে। ইস্পাত খাতেউদ্যোক্তাদের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায়৫০ হাজার কোটি টাকা। এর বড় অংশইব্যাংকঋণ। বর্তমানে প্রায় তিন লাখ মানুষপ্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক বছরঅর্থনৈতিক অঞ্চল, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ওযোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণসহ অনেকপ্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। এসব প্রকল্প দেশেইস্পাত খাতের চাহিদা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকারেখেছে। পাশাপাশি প্রবাসী আয়ে শহর ওগ্রামাঞ্চলে আবাসন নির্মাণ বাড়তে থাকারবিষয়টিও ইস্পাত খাতের প্রবৃদ্ধিতে সহায়তাকরেছে। সামনের দিনগুলোয়ও এ ধারাঅব্যাহত থাকবে ধরে নিয়ে বিনিয়োগ ওউৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছেন উদ্যোক্তারা।তবে বর্তমান পরিস্থিতি গোটা খাতের জন্যইবড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

বিএসএমএর সেক্রেটারি জেনারেল ওমেট্রোসেম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকমোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বণিক বার্তাকে বলেন, পদ্মা সেতু, দেশের সব জেলার মধ্যে ফোরলেন সংযোগ সড়ক, ১০০টি অর্থনৈতিকঅঞ্চলের মতো মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নেরজন্য বাড়তি যে ইস্পাতের চাহিদা তৈরি হবেসেটি মাথায় রেখেই কিন্তু গত ১০ বছরেদেশের ইস্পাত খাতের উৎপাদন সক্ষমতাবাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রয়োজনীয় নয়এমন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কার্যক্রমপিছিয়ে দেয়ার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তইস্পাত খাতের ওপর প্রভাব ফেলবে। কারণহচ্ছে এসব প্রকল্পের ইস্পাতের চাহিদাবিবেচনায় নিয়েই কিন্তু বর্তমানে আমাদেরউৎপাদন সক্ষমতার ৫২-৫৩ শতাংশ ব্যবহূতহচ্ছে। ফলে এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন পিছিয়েগেলে স্বাভাবিকভাবেই ইস্পাতের ব্যবহার ওউৎপাদনও কমবে। এতে অব্যবহূত সক্ষমতারপরিমাণও বাড়বে। কভিডকালে ব্যবসায়টিকতে না পেরে ১০টির মতো ইস্পাতকারখানা বিক্রি ও একীভূতকরণের উদ্যোগনেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কিছু কারখানা বিক্রিওহয়ে গিয়েছে। ডলারের বিপরীতে টাকারঅবমূল্যায়নের কারণে পরিস্থিতি আরো খারাপহয়েছে। রডের দাম বাড়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকমে গিয়েছে এবং এ খাতের বিক্রিও কমেছে।কভিড থেকে পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ায়বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতেই আবাসনখাতের চাহিদা বেড়েছিল। কিন্তু বিদ্যমানপরিস্থিতিতে আবাসন খাতের ব্যবসাও ধাক্কাখাবে। সামনের ২০২২-২৩ অর্থবছর ইস্পাতখাত বেশ চাপের মধ্য দিয়ে যাবে। পাশাপাশিএ খাতে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের ঝুঁকিওবাড়বে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ভালো নয়।

১৯৫২ সালে চট্টগ্রামের নাছিরাবাদ শিল্পএলাকায় গড়ে ওঠা ‘ইস্ট বেঙ্গল স্টিল রি-রোলিং মিলস’ স্বাধীনতার পর নাম বদল করেরাখা হয় বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস(বিএসআরএম)। বিএসআরএম গ্রুপের আটকারখানায় এখন বছরে রড উৎপাদনক্ষমতা১৬ লাখ টন আর বিলেট উৎপাদনক্ষমতা ১৮লাখ টন। দেশের পাশাপাশি বিদেশেওকার্যক্রম রয়েছে বিএসআরএমের। হংকংয়েগ্রুপটির একটি সাবসিডিয়ারি রয়েছে।কেনিয়ায়ও বিএসআরএম বিনিয়োগ করেছে।তাছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কলকাতায়কয়েক বছর ধরে বিএসআরএম ব্যবসা করছে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিএসআরএমেরউপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) তপনসেন গুপ্ত বণিক বার্তাকে বলেন, বড়অবকাঠামো নির্মাণযজ্ঞে ইস্পাত সরবরাহ ধীরহয়ে এলে স্বাভাবিকভাবেই এর একটা প্রভাবথাকবে। এছাড়া প্রকল্পের সময় বাড়লে এরঅর্থনৈতিক সুবিধাও কমে আসার ঝুঁকি থাকে।তবে সরকার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায়নিয়েই নিশ্চয় এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আবুল খায়ের গ্রুপ ১৯৯৩ সালে ঢেউটিনউৎপাদনের মাধ্যমে ফ্ল্যাট ইস্পাতের বাজারেএলেও রড উৎপাদন শুরু করে মূলত ২০০৯সালে। একেএস ব্র্যান্ড নামেই রড বাজারজাতহচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির। ইস্পাতের বাজারে দেশেপ্রথম ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেসে ইস্পাতউৎপাদন শুরু হয় তাদের হাত ধরেই। বছরেআবুল খায়ের গ্রুপের ইস্পাত কারখানার রডউৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ১৪ লাখ টন।

চট্টগ্রামভিত্তিক কবির স্টিল রি-রোলিং মিল(কেএসআরএম) ১৯৮৪ সাল থেকে রডউৎপাদন করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির শুরুতেসেমি রি-রোলিং মিল দিয়ে ১ লাখ ৫০ টনউৎপাদনক্ষমতা ছিল। ইউরোপের পমিনিপ্রযুক্তিতে নিজেদের কারখানার রডউৎপাদনক্ষমতা পরে আট লাখ টনে উন্নীতকরেছে। রডের মধ্যবর্তী কাঁচামাল বিলেটউৎপাদনও ছয়-আট লাখ টনে উন্নীত করারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে কোম্পানিটি।

২০০৮ সালে সীতাকুণ্ডে স্বয়ংক্রিয় কারখানায়ইস্পাত উৎপাদন শুরু করে পুঁজিবাজারেতালিকাভুক্ত কোম্পানি জিপিএইচ ইস্পাত।২০১৭ সালে কোম্পানিটি আড়াই হাজার কোটিটাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরায়অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস প্রযুক্তিব্যবহারের মাধ্যমে নতুন কারখানা নির্মাণেরকাজ শুরু করে। নতুন ও পুরনো কারখানামিলিয়ে কোম্পানির বার্ষিক রডউৎপাদনক্ষমতা বছরে ১০ লাখ টন। এছাড়াজিপিএইচের পুরনো কারখানায় বার্ষিক বিলেটউৎপাদনক্ষমতা ১ লাখ ৬৮ হাজার টন হলেওসম্প্রসারিত নতুন কারখানায় উৎপাদন হবে ৮লাখ ৪০ হাজার টন বিলেট। জিপিএইচের পণ্যশ্রীলংকা, চীনসহ ভারতের কয়েকটি রাজ্যেরফতানি হয়েছে। চীনের বাজারে বাংলাদেশথেকে প্রথমবারের মতো বিলেট রফতানিরকৃতিত্বও জিপিএইচ ইস্পাতের।

ইস্পাত খাতের ব্যবসা অভ্যন্তরীণ চাহিদাহিসাব করে ধাপে ধাপে কারখানা সম্প্রসারণকরছে আনোয়ার গ্রুপ। খালেদ আয়রন অ্যান্ডস্টিল মিলস লিমিটেড ২০০০ সালে পরিবর্তিতহয়ে যাত্রা করে আনোয়ার ইস্পাত লিমিটেডনামে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমানে এমএস রডউৎপাদনক্ষমতা বছরে তিন লাখ টন।পাশাপাশি বিলেট উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছেআরো ১ লাখ ৯০ হাজার টন। বিদ্যমানসক্ষমতা আরো বাড়াতে কাজ করছেকোম্পানিটি।

বায়েজিদ স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডেরব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবু বক্করচৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, সরকারেরচলমান মেগা প্রকল্পে যদি গতি ধীর হয় তবেকারখানার উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রমও স্লোহবে। কারণ বর্তমানে এ খাতের উৎপাদিতইস্পাত পণ্যের ৭৫ শতাংশই সরকারিভাবেনির্মিতব্য বড় বড় প্রকল্পে ব্যবহূত হয়েআসছে। এ মুহূর্তে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকেসামনে রেখে সরকারের নেয়া সিদ্ধান্তকেনেতিবাচকভাবে দেখারও সুযোগ নেই বলেআমি মনে করি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।