বুয়েট ছাত্রলীগের মেইন ইনকাম প্রক্সি বিজনেস!

Print

আবরার হত্যাকাণ্ডের পর বুয়েটসহ সারাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস গুলোতে ছাত্রলীগের বিভিন্ন অপকর্মের চিত্র উঠে আসছে। বুয়েটসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন তাদের ওপর নির্মমতার গল্প। শুধু কি নির্যাতন করেই ছাত্রলীগ ক্ষান্ত। প্রশ্ন উঠেছে ছাত্রলীগের এতো ইনকাম কোথা থেকে আসে। এবার ছাত্রলীগের একটি ইনকাম সোর্সের সন্ধান দিলেন বুয়েট শিক্ষার্থী। ভর্তি পরীক্ষার্থীদের প্রক্সি দিয়ে হাতিয়ে নেন বড় অংকের টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই শিক্ষার্থী একটি সিকরেট গ্রুপে তুলে ধরেন তার ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনা।

অ্যানালাইসিস বিডির পাঠকদের জন্য বুয়েট শিক্ষার্থীর স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

তখন আমি ফার্স্ট ইয়ার। ঢাকায় বাসা। হলে না থাকলে নাকি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনই বৃথা। ঢাকার বাসিন্দা হওয়ায় সিট দিতে চায়নি প্রভোস্ট। অনেক কষ্টে উনাকে রাজি করিয়ে হলে উঠে পড়লাম। হলে উঠার সাথেই র‌্যাগ খেয়ে বুকে যতটুক কলিজা ছিল তাও শেষ। ১৬ ব্যাচ এর প্রথম স্ট্যাম্প দিয়ে মার আমিই খেয়েছিলাম । যাই হোক স্ট্যাটাসের ফোকাস এটা না। সাড়ে চার মাস পরও আমি গণরুমে। আমার ব্যাচমেট যারা ছিল ২-৩ জন বাদে তারা সবাই রুমে উঠে গেছে। একটাই কারন আমি চাটতে পারিনা বড় ভাইদের। আমার কথা একটাই ছিলো আমার তো হলে রুম নাম্বার অ্যালট করা। আমাকে রুমে সিট দিবে প্রভোস্ট। বড় ভাইরা এখানে কোথা থেকে আসলো (কী বোকা আমি!)। কয়দিন পর আমি বুঝে গেলাম বড় ভাইদের কাছে না যেয়ে উপায় নাই। আমার রুম লাগবে। আমি দ্বারে দ্বারে রুম ভিক্ষা করতে লাগলাম। আমার এখনও চোখে ভাসে আমি রশীদ হলের নীচ তলা থেকে পাঁচতলা পর্যন্ত প্রতিটা রুমে নক করে জানতে চাইছি যে -ভাই কোনো বেড কী ফাঁকা আছে? আমাকে কী একটা বেড দেওয়া যাবে? প্রত্যেকটা রুম থেকে নেগেটিভ উত্তর আসে। আমার চোখ দিয়ে পানি এসে পড়ছিলো। আমার অ্যালট যেই রুমে পড়ছিলো ওই রুমের ১৩ ব্যাচের ভাই বললো এখানে একটা সিট ফাঁকা হতে পারে। আরও দুজন এখানে উঠার জন্য রিকোয়েস্ট করছে। ওরা যদি না উঠে তবে তোমাকে ফোন দিবো। আমি বুঝে গেলাম এই রুমও আমার হাতছাড়া। অন্য রুম এ খোঁজ করতে করতে লাস্ট এক ভাইয়ের সাথে পরিচয় হল। তার নাম ঝলক ভাই (১৪) (সেসময়ের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক, রশীদ হল ছাত্রলীগ) । উনি আমার পরিচয় জিজ্ঞেস করল। পরিচয় বলার পরে দেখি উনি বলে তুমি ওই ছেলে না যে যাকে স্ট্যাম্প দিয়ে পিটাইছে? আমি বললাম জ্বি ভাই। উনি খুব দেখি উৎসাহী হয়ে উঠলেন। বললেন তুমি তো মিয়া সেই মাল। তুমি ছাত্রলীগে জয়েন কর। তোমার মধ্যে সেই স্পার্ক আছে। তারপর আমাকে বুয়েট ছাত্রলীগ যে সবার থেকে আলাদা , টিউশুনির টাকা দিয়ে চলে এইসব হেনতেন বুঝাইয়ে বললেন উনি রুমের ব্যবস্থা করে দিবেন টার্ম ফাইনালের পর। আমি চলে আসলাম। ২ দিন পরই আমাকে ১৩ ব্যাচ এর ভাই ফোন দিয়ে বলল তুমি রুমে উঠে যেতে পারো। যারা রিকোয়েস্ট করছিলো ওরা অন্য রুমে উঠে গেছে। আমি শেষ পর্যন্ত ওই রুমেই উঠলাম।পলিটিক্যাল ব্যাকাপে রুমে উঠার কোনো ইচ্ছাই আমার ছিলনা। ১০-১২ দিন পর ডাইনিং এর সামনে ঝলক ভাইয়ের সাথে দেখা। উনি হাসিমুখে বলল তোমার জন্য সিট ব্যবস্থা করে দিব একটু ফ্রি হলেই। আমি বললাম আমি রুমে উঠে গেছি। উনি যাস্ট এটুকু বলল -আমাকে জানাবা না।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 55 বার)


Print
bdsaradin24.com