বেদখল-অবহেলায় নিশ্চিহ্নের পথে কবি কায়কোবাদের বাড়ি

Print

বাংলা সাহিত্যের মহাকবি কায়কোবাদের স্মৃতি বিজরিত পৈতৃক বাড়িটি বেদখল ও অবহেলায় নিশ্চিহ্নের পথে। ১৮৫৮ সালে ঢাকার নবাবগঞ্জের আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে এই মহান লেখক ও কবির জন্ম হয়  এবং ১৯৫১ সালের ২১ জুলাই বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। রাজধানী ঢাকার পুরাতন আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন হয়।

এলাকাবাসীর দাবী, কবির স্মৃতি বিজরিত বাড়ি ও জমাজমির অংশ বিশেষ কবির বংশধরেরা স্থানীয় লোকদের কাছে বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু তারা কবির সমস্ত সম্পতি দখল করে নেয়। নবাবগঞ্জের আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে কবির কোনো চিহ্ন এখন আর  নেই। কবি কায়কোবাদের স্মৃতি বিজরিত বসত বাড়িটি উদ্ধার করে একটি যাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হউক এবং কবির ব্যবহার করা জিনিসপত্র সংরক্ষণ  করার ব্যবস্থা করা হউক। তা না  হলে কালের গহীন অরন্যে হয়ত কবিকে আমরা হারিয়ে ফেলবো।

মহাকবি কায়কোবাদের প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরায়শী। ১৯০৪ সালে মহাকাব্য ‘মহাশশ্মান’ লিখে মহাকবি উপাধিতে ভূষিত হন। বাংলা মহাকাব্যের দুঃসময়ে মহাকবি কায়কোবাদ মুসলমানদের গৌরবময় ইতিহাস থেকে কাহিনী নিয়ে ‘মহাশ্মশান’ মহাকাব্য রচনা করে যে দুঃসাহসিকতা দেখিয়েছেন, তা তাকে বাংলা সাহিত্যের গৌরবময় আসনে স্থান করে দিয়েছে। সেই গৌরবের প্রকাশে ১৯৩২ সালে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সম্মেলনের মূল অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন কবি কায়কোবাদ।

তিনি দীর্ঘজীবন লাভ করেন অর্থাৎ ৯৪ বছর জীবিত ছিলেন। জীবনের প্রায়  ৮২ বছরই তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে   কুসুম কানন, অশ্রুমালা, মহাশ্মশান, শিবমন্দির, অমিয়ধারা, শ্মশান ভস্ম, মহররম শরীফ, প্রেমের ফুল, প্রেমের রাণী, প্রেম-পরিজাত, মন্দাকিণী-ধারা ও গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ।
অপ্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে উপদেশ রত্নাবলী, নিহারবালা, জোবেদা মহল প্রেমের তীর্থ ও অনুতপ্ত মোসলমান,
বাংলা কাব্য সাহিত্যে অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ তাকে ‘কাব্যভূষণ’, ‘বিদ্যাভূষণ’ ও ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

কায়কোবাদ ছিলেন মূলত একজন প্রেমিক কবি, বেদনার কবি, একজন আধ্যাত্মিক সাধক কবি। স্বদেশ প্রেম, সত্যনিষ্ঠা আর ইতিহাস ঐতিহ্য প্রীতি ছিল তার কবি প্রতিভার মৌল বৈশিষ্ট্য। কে ঐ শোনালো মোরে আযানের ধ্বনি, মর্মে মর্মে সেই সুর, বাজিলো কি সুমুধুর,  আকুল হইলো প্রাণ, নাচিলো ধ্বমনি। কি মধুর আযানের ধ্বনি , এই কবিতাটিই মহাকবি কায়কোবাদকে চিনিয়ে দেয় আমাদের। যে মসজিদ টির আজানের ধ্বনি শুনে মহাকবি কায়কোবাদ লিখেছিলেন তার অমর কবিতাটি সেই মসজিদ আজও দাড়িয়ে আছে আগলার পূর্বপাড়া গ্রামে।

হিন্দু ও মোসলমানদের সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে তার লেখা কতিায় আমরা দেখতে পাই, হিন্দু আর মোসলমান ভারতের এক জাতি, ইহাদের মধ্যে  তবে কে করিল ভেদনীতি, বিধাতা করেনি সৃষ্টি হিন্দু আর মোসলমান, সে করেছে এক জাতি, ভেদাভেদ মিথ্যাভান। আসুন ২১ জুলাই মহাকবি কায়কোবাদের ৬৭তম মৃত্যু বার্ষিকীতে এই মহান কবিকে আমরা  বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করি।

লেখক:
আসলাম উদ্দিন খান, নবাবগঞ্জ

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 211 বার)


Print
bdsaradin24.com