বেনাপোল কাস্টম কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঢালাও নিউজের অপসাংবাদিকতা ! প্রশ্নবিদ্ধ এ দায় কার?

Print

মোঃ মুক্তার হোসেন,বেনাপোল প্রতিনিধিঃ বেনাপোল কাস্টম হাউজ, সরকারী দপ্তর, সংস্থাসহ সকল সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঢালাও অপসাংবাদিকতা ! প্রশ্নবিদ্ধ এ দায় কার? একের পর এক সাংবাদিকতার নামে বেনাপোল সহ শার্শা উপজেলায় অপরাধ করে যাচ্ছে এক শ্রেণির সাংবাদিক নামধারী অসাধু লোকজন। দাবিকৃত অর্থ না পেয়ে এরা যেমন পারছে প্রমাণ ছাড়াই নিজেদের মনগড়া ভাবে কিছু সংস্থা, কিছু দপ্তর, কিছু সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে লিখে দিচ্ছে ৷

এই সাংবাদিকরা আবার অনেকেই কোন প্রেসক্লাবের সাথে জড়িত নয় ৷বেনাপোলে সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ নামে সকল সাংবাদিকদের মিলনমেলায় নতুন একটি সংগঠন করা হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে এই সংগঠনের বাইরে যে সকল অপ-সাংবাদিক নামধারী সদস্যরা আছে, তারা ঢালাওভাবে বেনাপোল কাস্টম হাউজের কর্মকর্তাদের নিয়ে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট নিউজ প্রচার করে যাচ্ছে।

৮ ই অক্টোবর ফেইসবুকের একটি আইডি থেকে একজন ইন্সপেক্টরের অর্থ নেয়ার ভিডিও প্রকাশিত হয়, তদন্ত করে দেখা যায়, ঐ ভিডিওটি ছয় থেকে সাত মাস পূর্বে ধারণ করা ৷ স্থান-কাল ভেদে কিছুই বোঝায় যায় না যে এটা কোন দপ্তর বা কিসের অফিস৷ কিন্তু তারা অপসাংবাদিকতার জোরে লিখে দিল বেনাপোল কাস্টম হাউজের ঘুষ বানিজ্য ৷

সরেজমিনে আমরা সাংবাদিকবৃন্দ ভিডিওটি সূত্র ধরে তদন্ত করতে গিয়ে দেখি এরকম কোন অফিসার বেনাপোল কোন সংস্থার অফিসে নাই। দৈনিক বাংলা পত্রিকা ও সরেজমিন পত্রিকার বেনাপোল যারা প্রতিনিধি আছে তারা কোন প্রেসক্লাবের সাথে জড়িত নয় অথবা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ বেনাপোলে সাথে জড়িত বা সংগঠনের সদস্য নয় । কিন্তু এই দুটি পত্রিকায় দৈনিক বাংলা নিউজ ও দৈনিক সরেজমিন ৮/৯ অক্টোবর বেনাপোল কাস্টমস ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে রিপোর্ট করে৷ এই মিথ্যা রিপোর্ট এতটাই মনগড়া কাস্টমের কোন অফিসারের অথবা কমিশনারের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়নি৷ সম্পূর্ণভাবে রাগের বশবর্তী হয়ে এই দুটি পত্রিকা কোন প্রমাণ ছাড়াই নিউজটি প্রকাশ করেছে৷

আরাও তদন্ত করে দেখা যায় ,এমনকি সাধারণ জনগণের কোনো বক্তব্য, নাম, প্রচার করা হয়নি এই রিপোর্টটিতে ৷ এ অঞ্চলের অনেক সিনিয়র সাংবাদিকের সাথে কথা বলে জানা যায় ,বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী দেশের রাজস্ব আদায়ের একজন সৎ ,নির্ভীক, নিষ্ঠাবান,কর্মকর্তা, যিনি চব্বিশ ঘন্টা বেনাপোল বন্দর সচল রেখেছেন।

বেনাপোলের উন্নয়নে তাঁর অবদান অস্বীকার করার মতো না ৷ তারা আরো বলেন, বাংলা নিউজ পত্রিকার বেনাপোল প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসান বাবু বেনাপোলের জামায়াত ইসলামীর সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক এর পুত্র । এরই ধারাবাহিকতায় মাহমুদুল হাসান বাবু ঢালাওভাবে কাস্টম হাউজের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করেছে। বেনাপোল অঞ্চলের অনেক সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ আছে, যাদের কাছে এখনো পর্যন্ত এই এলাকার জনগণ কখনো কাস্টম অথবা সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য অথবা অভিযোগ দেয়নি ,তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় এই দুজন প্রতিনিধি কিসের রাগের উপর বশবর্তী হয়ে এই দুটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট নিউজ প্রকাশ করলো ৷

যশোর জেলায় অন্যান্য এলাকাগুলোর তুলনায় বেনাপোল ভৌগলিক পরিধি তুলনামূলক বৃহত্তম স্থলবন্দর হওয়ায় এখানে সকল শ্রেণিপেশার মানুষের সাথে সাথে পেশাদার সাংবাদিকদের সংখ্যাও বেশি; এটা স্বাভাবিক।

কিন্তু বেনাপোলে সাংবাদিক পরিচয়ে এমন বেশ কিছু লোক রয়েছে, যারা নিজেদেরকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সম্প্রতি সময়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ চরম লজ্জাজনক সত্য এই যে, এদের আবার অনেকের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত আছে কিনা, তাতেও সন্দেহ রয়েছে। একটি প্রতিবেদন কিভাবে তৈরি করতে হয় এসবের কিছুই জানেনা তারা । এমনকি এদের পাঠানো প্রতিবেদনের মূল খবর থেকে শুরু করে নিউজ টাইটেল-এর বানান পর্যন্ত ভুল। এতদাসত্ত্বেও কিছু কিছু গণমাধ্যমের সম্পাদকগণ এদের দেওয়া যা ইচ্ছা তাই ছাপি.য়ে যাচ্ছেন অসতর্কতাবশতঃ।

আর যদি এর আগের কিছু বলতে চাই তাহলে প্রশ্ন আসে, আসলে এসব যোগ্যতাহীন লোকগুলো নির্দিষ্ট গণমাধ্যমের পরিচয়পত্র পাচ্ছেই বা কিভাবে? উত্তরটা হয়তো অনেকেরই জানা আছে। কেননা, টাকার কাছে সাংবাদিক পরিচয়পত্র বর্তমানে বড়ই তুচ্ছ!
বর্তমান সময়ে যেসব অপরাধীরা বিভিন্ন দোষে যেসব অপরাধীরা আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াচ্ছে এরা কেউ কেউ সাংবাদিক পরিচয়ে মানুষকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, কেউ কেউ নিয়মিত দোকানপাট, হকার থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপমহলের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে ,আবার কেউ কেউ নিজেদের অপকৌশল ঢাকতেই নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠা করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। সবচেয়ে লজ্জাজনক হচ্ছে, বেনাপোলে সাংবাদিক পরিচয়ে একশ্রেণি দেহব্যবসা, চাঁদাবাজি ,মাদকসহ বড় বড় সব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে দিনের পর দিন। আর শেষ পর্যন্ত যখন এরা ধরা খাচ্ছে, ঠিক তখনই বাঁচার আশায় নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ে আবির্ভূত করছে।

ফলে দিন দিন বেনাপোলে ‘সাংবাদিক’ শব্দটি সর্বস্তরের মানুষের কাছে আস্থার জায়গা হারিয়ে ‘ভুয়া’ তে রূপ নিতে চলেছে। এরকম পরিস্থিতিতে সাংবাদিক শব্দটির সাথে ‘আসল’ না ‘ভুয়া’ প্রাথমিক অবস্থায় সাধারণ মানুষের মনে সেটিরও উদগ্রীব হচ্ছে। যখন অসাধু ও নীচ প্রকৃতির মানুষেরা সাংবাদিকতার পরিচয়ে শার্শা উপজেলা সহ বেনাপোলের বিভিন্নস্থানে পরিচালিত ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানসমূহের নামে ভিত্তিহীন, মিথ্যা তথ্য প্রচার করে গণমানুষের কাছে প্রকৃত সাংবাদিকদের স্থান একের পর এক মলিন করে চলছে! তখন এই অঞ্চলেরই প্রকৃত তথা পেশাদার সাংবাদিকদের অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়? বেনাপোলের সচেতন সাংবাদিক মহলের কাছে প্রশ্নটি রইল।

সবকিছু মিলিয়ে একথা সত্য যে, শার্শা উপজেলাসহ বেনাপোলে যেসব অসাধু-চরিত্রহীন লোকেরা সাংবাদিক পরিচয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে- বর্তমানে এরা খুব দাপটের সাথেই চলছে। কেননা দূর্নীতিগ্রস্থ অপশক্তির সাথে এসব কথিত সাংবাদিকদের বেশ ভালো সম্পর্ক বিদ্যমান। ফলে এদের বিরুদ্ধে বেনাপোলের পেশাদার সাংবাদিকেরা কোন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ! এমনকি এসব কথিত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কথা বলার চেষ্টা করলে, প্রকৃত সাংবাদিকদের হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে। এর একমাত্র কারণ, পেশাদার সাংবাদিকদের কোন ধরনের শক্ত ইউনিট এখন পর্যন্তু বেনাপোলে গড়ে ওঠেনি। ফলে কতিপয় ভুঁইফোড় সাংবাদিক নামধারী ব্যক্তিরা সাংবাদিক পরিচয়ে লাগামহীন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

এতে করে শার্শা উপজেলা ও স্থলবন্দর বেনাপোলে সাধারণ মানুষের কাছে প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের স্থান স্থান দিন দিন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তবে আশার বাণী হচ্ছে সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ বেনাপোল নামে চারটি প্রেস ক্লাবের সদস্যরা একত্রিত হয়ে কি নতুন একটি সংগঠনের আর্বিভাব ঘটায়। এই সংগঠনের স্থান না পেয়ে ঈর্ষান্বিত হয়ে কিছু নামধারী সাংবাদিক সরকারি কর্মকর্তাদের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে৷

সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ বেনাপোলের আহ্বায়ক আলহাজ্ব মহাসিন মিলন, যুগ্ন আহবায়ক আলহাজ্ব জামাল হোসেন, সদস্য সচিব আলহাজ্ব বকুল মাহবুব ,বেনাপোল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুর রহমান রাশু,সীমান্ত প্রেসক্লাব বেনাপোলের সভাপতি সাহিদুল ইসলাম শাহিন, বন্দর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক ,সীমান্ত প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আয়ুব হোসেন পক্ষী একই সুরে বলেন, একটি কুচক্রী সাংবাদিক মহল যাদের বেনাপোল এ কোন ভিত্তি নেই, তারা বিভিন্ন সময়ে বেনাপোল কাস্টম হাউস সহ সকল সরকারী সংস্থা ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ,ভিত্তিহীন ,বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করে ৷ এরা সবাই বিভিন্ন অপকর্ম ও কুকর্মের সাথে জড়িত ৷ এসব অপকর্ম- কুকর্মকারী সকল সাংবাদিক নামধারী সদস্যদের কোন প্রেসক্লাবের ঠাঁই হয়নি ৷

আপনাদের মাধ্যমে আমরা সকল সম্পাদক মহোদয়কে আহ্বান জানাতে চাই, শার্শা উপজেলা তথা বেনাপোল অঞ্চল থেকে সাংবাদিকতা পেশার জন্য আপনাদের নিকট যারা বায়োডাটা ও বিভিন্ন সুপারিশ জমা দেয়, তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রেসক্লাবে খোঁজখবর নিয়ে এবং প্রেসক্লাব থেকে প্রত্যয়ন পত্র নিয়ে নিয়োগ দিবেন ৷আরো অনুরোধ করা হল প্রেসক্লাবের সদস্য ছাড়া কাউকে নিয়োগ দিবেন না। সাথে সাথে এসব অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে স্থানীয় নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয় ,অথবা কোনো সাংবাদিককে নিয়ে সন্দেহ প্রবন হলে সংশ্লিষ্ট প্রেসক্লাবে যোগাযোগ করার বা তার সম্পর্কে খোঁজ নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে৷

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 41 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com