ব্যবসায় অল্প পুঁজি বাধা নয় আশির্বাদ

Print

ব্যবসা করতে হলে বড় পুঁজি দরকার—এই ধারণা ঠিক নয়। ছোট আকারে শুরু হওয়া ব্যবসাও বড় হতে পারে শুধুমাত্র দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণে। গ্রাহকের চাহিদা ও জোগান বুঝে দুটির সমন্বয়ে যাঁরা এগোতে পারেন, তাঁরাই সফল হন। ছোট পুঁজিতে গড়ে তোলা বড় ব্যবসার অনেক উদাহরণ আছে দেশে এবং বিদেশে। আসুন কিছু প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জেনে নেই যারা বর্তমানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের জায়েন্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজত্ব করছে।

আকিজ গ্রুপঃ
পারিবারিক অসচ্ছলতার জন্য শৈশবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন করতে পারেননি শেখ আকিজ উদ্দিন। ১৩ বছর বয়সে পকেটে মাত্র ১৬ টাকা নিয়ে নিজ গ্রাম ছেড়ে কলকাতা চলে যাওয়ার পর শিয়ালদহ স্টেশনে কয়েক সপ্তাহ খোলা আকাশের নিচে দিন কেটেছিল তাঁর। একসময় হাওড়া ব্রিজের কাছে কমলা প্যাডলিং থেকে সঞ্চয় করা স্বল্প অর্থ দিয়ে একটি মুদি দোকানের ভ্যান কিনে ব্যবসা শুরু করেন। ওই ভ্যানে তিনি বিভিন্ন পণ্য মাত্র ৬ পয়সায় বিক্রি করতেন। অবৈধভাবে দোকান খোলার অপরাধে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে ৩ দিন আটকে রাখে। পরবর্তী সময়ে ১৯৫২ সালে বিজরডাঙ্গা রেলস্টেশনে দোকান খুলে তিনি তামাক বিক্রি শুরু করেন, যা পরে দেশের বৃহত্তম একটি কোম্পানিতে পরিণত হয়।

কুসুমকলি জুতার কারখানা
শূন্য থেকে সবকিছু শুরু করে আজ যে মানুষটি সফল হয়েছেন, তিনি বাংলাদেশের নাজমা আক্তার। স্বল্প বেতনে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার পাশাপাশি সমিতি থেকে মাত্র ২০ হাজার টাকা নিয়ে এক রুম ভাড়া করে জুতার কারখানা দিয়েছিলেন। ২ জন কর্মী নিয়ে শুরু করা সেই কারখানার শাখা এখন দেশের বাইরেও আছে! ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ পুঁজি করে যে প্রতিষ্ঠান তিনি দাঁড় করিয়েছেন, সেটি এখন আড়াই কোটি টাকার প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর হয়েছে। পুরো কারখানা পুড়ে যাওয়ার পরও দৃঢ় মনোবল নিয়ে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো আবার নতুন করে শুরু করতে পেরেছেন। ইচ্ছা আর আত্মবিশ্বাস থাকলে যে শূন্য থেকে শীর্ষে পৌঁছানো যায়, এই সমাজে তার বড় প্রমাণ নাজমা আক্তার।

অ্যাপল
১৯৭০-এর দশকের কথা। ব্যক্তিগত কম্পিউটার তৈরি ও বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিলেন স্টিভ জবস ও স্টিভ ওজনিয়াক। কিন্তু এই কাজের জন্য যে পরিমাণ টাকা দরকার ছিল, তার কিছুই এই দুজনের ছিল না। সম্পদ বলতে যা ছিল তা হলো ওজনিয়াকের এইচপি ক্যালকুলেটর ও জবসের ভক্সওয়াগন ভ্যান। এই সম্পদ বিক্রি করে যে ডলার পাওয়া গেল, তা দিয়ে শুরু হয় অ্যাপলের যাত্রা। অ্যাপল আই তৈরির জন্য তাঁরা কম্পিউটার বানিয়েছিলেন একটি ভাড়া করা গ্যারেজে। কে জানত, গ্যারেজ থেকে শুরু হওয়া একটি প্রতিষ্ঠান একদিন বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি হয়ে উঠবে! অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে আরও একজন ছিলেন। তিনি রোনাল্ড ওয়েইন। মাত্র ৮০০ ডলারে তিনি তাঁর শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছিলেন!

ওয়ালমার্ট
ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ওয়ালটন যখন তাঁর প্রথম দোকানটি চালু করেন, তখন সালটা ১৯৪৫। সদিচ্ছা ছাড়া পুঁজি বলতে তাঁর আর তেমন কিছুই ছিল না। প্রাথমিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পণ্য ক্রয়ের জন্য তিনি তাঁর শ্বশুরের থেকে ২৫ হাজার ডলার ঋণ নেন। এই ঋণ দিয়ে ব্যবসা শুরুর প্রথম দিকেই তাঁর দোকান সাফল্যের মুখ দেখে। ১৯৬২ সালে চালু হওয়ার পর ১৯৭৬ সালের মধ্যেই এই প্রতিষ্ঠানটির মূল্য দাঁড়ায় ১৭৬ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ২৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের জোগান দেওয়া স্যাম ওয়ালটন একসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ধনী হিসেবে বিবেচিত হন।

অনেকে বলেন, ‘ব্যবসা করতে অনেক অর্থের প্রয়োজন।’ অনেকের ধারণা, অল্প পুঁজিতে কোন ব্যবসা হয় না, আর ব্যবসা শুরু করলেও তা সফলতার মুখ দেখে না। যারা এমন ধারণা পোষণ করেন তাদের দিয়ে বড় পুঁজির ব্যবসা সফল না হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

পৃথিবীতে চেষ্টাই সব। যার চেষ্টা নেই; তার জয়ও নেই। কারণ কেউ আপনাকে জয়টা হাতে ধরিয়ে দিয়ে যাবে না। শত শত পরাজয়ের মধ্য থেকে লুকিয়ে থাকা জয়টা ছিনিয়ে আনতে হবে। যে একবার বুঝে যায়, কীভাবে জয় করতে হয়। সে সহজে হারতে শেখে না। তার গ্যালারিতে পরাজয় শব্দটা খুঁজে পাওয়া যায় না।

শুধু থাকতে হবে তীব্র প্রচেষ্টা, প্রবল আত্মবিশ্বাস আর সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, আত্মবিশ্বাস, প্রচেষ্টা এবং দক্ষতা মানুষকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে। যার চেষ্টা, দক্ষতা আর আত্মবিশ্বাস প্রবল; সে-ই সফল ব্যক্তি।

সফলতার ইতিহাস খুলে দেখুন, সকলের ক্ষুদ্র থেকেই আজ বৃহত থেকে বৃহত্তর হয়েছে। সকল বৃহত প্রতিষ্ঠানের শুরুটা হয়েছিলো ছোট পরিসরে অল্প পুঁজি দিয়ে। পুঁজি হোক অল্প বা বেশি, ব্যবসা মানেই বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া, আর এই প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে টিকে থাকা ও সামনে এগিয়ে যাওয়াই হচ্ছে সফলতা।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 50 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com