‘ব্লু ইকোনমির ফলে দেশের জিডিপি ৩ শতাংশ বাড়বে’

লেখক: Editor
প্রকাশ: ১ সপ্তাহ আগে

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ বলেছেন, ব্লু ইকোনমির ফলে দেশের জিডিপি তিন শতাংশ বাড়বে। শনিবার (১৪ মে) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে কার্নিভাল হলে বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের উদ্যোগে ‘সুনীল অর্থনীতি: জাতীয় অগ্রগতিতে এক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এর সম্ভাবনা’ বিষয়ে এক গোলটেবিল পরামর্শমূলক গণসংলাপে আলোচনায় বিষয়টি উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সুনীল অর্থনীতির জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় প্রয়োজন। এতে দেশের সামুদ্রিক পরিবেশ কিংবা সামুদ্রিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, পানির সাথে আমাদের সম্পর্ক প্রাচীন। বর্তমান জীবনযাত্রায় এ সম্পর্ক অনেক কমে গিয়েছে। তবে বর্তমান সরকার সুনীল অর্থনীতি নিয়ে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। অনেক সমস্যা থাকলেও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। করোনা পরবর্তী সময়ে আমরা অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে নানা পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ বলেন, ব্লু ইকোনমির ফলে দেশের জিডিপি তিন শতাংশ বাড়বে। এতে করে আমরা উন্নত বিশ্বের দিকে আরও অগ্রসব হবো। সুনীল অর্থনীতি বাস্তবায়নে বিভিন্ন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (এমএইউ) রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশীদ আলম বলেন, বঙ্গবন্ধু সুনীল অর্থনীতির দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন। তবে সমন্বয়ের অভাবে এ কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আমাদের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে একত্রিত হয়ে সুনীল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

পরিকল্পনা বিভাগের সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সুনীল অর্থনীতি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির আলোচনায় বার বার নির্দেশনা প্রদান করেছেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় তাই সুনীল অর্থনীতি নিয়ে বিশদ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে।

সংলাপে সুনীল অর্থনীতি সম্পর্কিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে আটটি প্রধান থিমেটিক এরিয়ার (১. মেরিন ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকোয়াকালচার ২. মেরিন শক্তি ৩. মেরিন বায়োটেকনোলজি এবং থেরাপিউটিকস ৪. মেরিন পর্যটন ৫. জাহাজ ও বন্দর ব্যবস্থাপনা ৬. সমুদ্র শাসন এবং ব্যবস্থাপনা ৭. মেরিন ফাইন্যান্স ৮. স্যাটেলাইট ওশানোগ্রাফি অ্যান্ড আইসিটি) ওপর ভিত্তি করে ২০টিরও অধিক গবেষণা সেক্টরে (যেমন- মেরিন ফিশারিজ, টুনা ফিশারিজ মেরিকালচার, সি-উইড চাষ, মুক্তা চাষ, নবায়নযোগ্য শক্তি, অ-নবায়নযোগ্য শক্তি, এনার্জি মিক্স, জাহাজ পরিবহন, জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ পুনর্ব্যবহার, গভীর সমুদ্রবন্দর, মেরিন স্পেশিয়াল প্ল্যানিং ইত্যাদি) ভাগ করা হয়। বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এসব সেক্টরের বর্তমান ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা বিশদ আলোচনা করেন। আলোচনার মাধ্যমে ২০টি গবেষণার বিষয় চিহ্নিত করে করা হয়, যেগুলো বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।

উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত সুনীল অর্থনীতির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে খণ্ডিতভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। সংলাপে বাংলাদেশের সুনীল অর্থনীতি সম্ভাবনাকে জাতীয় অগ্রগতিতে কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা যেতে পারে এর ওপর গভীরভাবে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে পরামর্শমূলক পলিসি সংলাপের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মো. কাওছার আহাম্মদ। এছাড়া ‘বাংলাদেশে সুনীল অর্থনীতি এবং সামাজিক সুরক্ষা’ নিয়ে নিবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউএনডিপি’র সোশ্যাল সিকিউরিটি পলিসি সাপোর্ট প্রোগ্রামের প্রজেক্ট ম্যানেজার আমিনুল আরেফিন।

অনুষ্ঠানে সুনীল অর্থনীতি সম্পর্কিত বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষকরা, বিভিন্ন বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।