ভারতের অতিমাত্রায় প্রভাব থেকে বেরিয়ে যাওয়া সার্বভৌম দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

Print

চীনের প্রভাবশালী সরকারি মুখপাত্র গ্লোবাল টাইমস বলেছে, নয়াদিল্লী এই অঞ্চলকে তাদের বাড়ির উঠোন মনে করে, তাদের উপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে আর চীনের মতো বড় দেশের সাথে সহযোগিতার ক্ষেত্রে অন্যদের জন্য বাধার সৃষ্টি করে। এই শীতল যুদ্ধের মানসিকতা আসলে সময়ের যে উন্নয়ন চাহিদা তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। চীনের সাথে সুসম্পর্কের আরেকটি অর্থ হলো নেপাল ভারতের অতিমাত্রায় প্রভাব থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। যে কোন সার্বভৌম দেশের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ।

পত্রিকাটি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক নেপাল সফরের কথা উল্লেখ করে বলেছে, এ সফর ছিল ঐতিহাসিক, যেখানে হিমালয় অঞ্চলের দেশটির সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করা হয়েছে। ২৩ বছর পর এটা ছিল কোন চীনা প্রেসিডেন্টের প্রথম নেপাল সফর। দুই দেশ ১২ অক্টোবর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে উন্নীত করতে সম্মত হয়েছে, যার ভিত্তি হবে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য স্থায়ী বন্ধুত্ব। চীন যে মূল্যবোধ ধারণ করে, এই চুক্তির মধ্যে সেটা ফুটে উঠেছে: বড় ও ছোট উভয় দেশই সমান এবং উভয়ের অর্জনের ভিত্তিতে তারা সহযোগিতার সম্পর্ক গড়তে পারে। চীন-নেপাল সম্পর্ক অন্যান্য ক্ষুদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটা বিশ্বাসযোগ্য মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে, যেটার মাধ্যমে তারা চীনের সাথে সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে পারে।

গ্লোবাল টাইমসে বলা হয়, অন্য দেশের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে চীন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোর চেয়ে আলাদা। চীন সকল দেশের সমতার উপর বিশেষভাবে জোর দেয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র দেখে ওই দেশটির স্ট্যাটাস কি। ক্ষুদ্র দেশের প্রতি তারা সাধারণত ততটা গুরুত্ব দেয় না। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, চীন-নেপাল সম্পর্ক আন্তর্জাতিক সিস্টেমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

নেপালের সাথে সম্পর্ক প্রশ্নে পত্রিকাটিতে বলা হয়, দুই দেশ প্রায় ২০টি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, যার মধ্যে ক্রস-বর্ডার রেলওয়ে নির্মাণের বিষয়টিও রয়েছে। দুই দেশ যদি রেলওয়ের মাধ্যমে যুক্ত হয়, তাহলে স্থলবেষ্টিত নেপাল স্থল-সংযুক্ত দেশে রূপ নেবে এবং আদর্শ সমুদ্র বন্দরের মাধ্যমে তাদের রফতানি করার সুযোগ খুলে যাবে। ফলে রফতানির জন্য শুধুমাত্র নয়াদিল্লীর উপর নির্ভর না করে তারা অন্য পথেও সেটা করতে পারবে। ক্রস-বর্ডার রেলওয়েটি হবে চীনের কিংহাই-তিব্বত রেলওয়ের একটা সম্প্রসারিত অংশ, যেটা নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুকে দক্ষিণপশ্চিম চীনের তিব্বতের গাইরোং কাউন্টিকে সংযুক্ত করবে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য জোরদার করা ছাড়াও, এই রেলওয়ের মাধ্যমে চীন ও নেপালের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের বিষয়টিও ফুটে উঠবে। নেপাল চীনের প্রস্তাবিত বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের ফ্রেমওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রেসিডেন্ট শি’র সফরের সময় দুই দেশ রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। নেপাল-চীন সম্পর্কের জন্য এই সফর ছিল গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 45 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com