ভোমরা বন্দরে পর্যাপ্ত পিয়াজ মজুদ অসহায় বন্দর কর্তৃপক্ষ

Print

মোঃ ইমরান সরদার, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি: সারা দেশে যখন পিয়াজের ঝাঁঝে অস্থির ঠিক সেই মুহুর্তে সাতক্ষীরা ভোমরা স্থলবন্দরে আমদানীকারকদের কাছে পর্যাপ্ত পিয়াজের মজুদ রয়েছে। কিন্তু ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পিয়াজ আমদানিতে শুল্কমুক্ত থাকায় অসাধুচক্র ভর করেছে পিয়াজের ঝাঁঝে।

মঙ্গলবার পর্যন্ত ভোমরা স্থলবন্দরে পন্য খালাসের অপেক্ষায় বন্দরের ওয়্যার হাউজের মধ্যে ১৪টি ভারতীয় ট্রাক গত ৮ দিন ধরে অবস্থান করছে। আমদানীকারক চালানের কাগজপত্র নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে। যার প্রতিটি ট্রাকে সাড়ে ২৫ টন করে পিয়াজ রয়েছে বলে ভারতীয় গাড়িচালক সুশান্ত সিং ও ললিন নায়ক জানিয়েছেন। তারা আরো জানিয়েছেন, ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে পিয়াজ বোঝাই ট্রাক নিয়ে রাস্তায় ৫ দিন ও বন্দরের ওপারে ঘোজাডাঙ্গায় ৪ দিন এবং ওয়্যারহাউজে ৮ দিন অবস্থান করছেন। ভারতীয় পিয়াজ আমদানীকারক ব্যবসায়ীরা সরাসরি এলসি’র মাধ্যমে আমদানী পিয়াজ আনতে না পারায় অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েছে।

কেননা পিয়াজের শুল্কমুক্ত থাকায় ভারতীয় ব্যবসায়ীরা নিজেরাই প্রতিনিধি ঠিক করে বন্দরে ঘর নিয়ে কমিশনে ব্যবসা করে। ফলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা যেভাবেই নিয়ন্ত্রণ করছে ঠিক সেই ভাবেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে পিয়াজের বাজার। বন্দরের সবচেয়ে বেশি পিয়াজের চালান প্রেরণ করে ভারতের ভুট্টো নামের এক ব্যবসায়ী। একই ভাবে পঙ্কজ, খোরশেদ, আজাদ সহ একাধিক ব্যবসায়ী রয়েছে। ভারতে থেকে বাংলাদেশে পিয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে পিয়াজ মজুদ করছে। এদিকে এ বিষয়ে ভোমরা সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানিয়েছেন, শুল্কমুক্ত পন্য পিয়াজ। যে কারণে ব্যবসায়ীদের সাথে সিএন্ডএফ এজেন্টদের কোন সম্পর্ক নেই। তারা নিজেরাই প্রতিনিধি ঠিক করে ইচ্ছা খুশি মতো পিয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।

এর হাত থেকে পরিত্রাণের জন্য পিয়াজের উপর শুল্ক নির্ধারণ করলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা সিএন্ডএফ এর মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করলে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাছাড়া পিয়াজের শুল্ক নির্ধারণ করলে ভারতীয় পিয়াজের চাহিদা নেমে আসবে। ফলে দেশীয় পিয়াজ চাষীরা পিয়াজ উৎপাদনে উৎসাহিত হবে। এদিকে ভোমরা বন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা শেখ এনাম হোসেন জানিয়েছেন, পিয়াজ আমদানীতে লিখিত কোন নির্দেশনা তিনি পাননি। পিয়াজ আমদানীতে নিষেধাজ্ঞা নেই। এবিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামালের কাছে ভোমরা বন্দরে পর্যাপ্ত পিয়াজ মজুদ থাকার কথা জানানো হলে তিনি জানান, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে মজুদকৃত পিয়াজ বাজারে সরবরাহ করতে। এর ব্যাত্যয় ঘটলে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 75 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com