ভোলা থানার পুলিশ পরিদর্শকের নেতৃত্বে আটক হল গণধর্ষণের প্রধান আসামী আবু সুফিয়ান

Print

ভোলা প্রতিনিধি॥
অবশেষে ভোলা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ মনির হোসেন মিয়ার নেতৃত্বে একদল পুলিশ বহুল আলোচিত গণধর্ষণের প্রধান আসামী আবু সুফিয়ানকে আটক করে জেলে পাঠিয়েছে। ভোলার সাধারণ জনগন জানায়, পুলিশ ধর্ষকদের সাথে আপোষ না করে তাদের সঠিক দায়িত্ব পালনের করণেই আজ সুফিয়ানের মত নরপশু জেলে আটকা পরেছে। এ ব্যাপারে ভোলা বাসাী পুলিশ পরিদর্শক মনির হোসন মিয়া সহ সকল পুলিশকে স্যালুট জানিয়েছে। অন্যদিকে এ ব্যাপারে ধর্ষিতার পরিবারসহ ভোলার বিভিন্ন মহলে স্বস্তি বিরাজ করছে। উল্লেখ্য ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের মুছাকান্দি ৫নং ওয়ার্ডে তালাকের ধার্যকৃত টাকা ও স্বামীর অধিকার আদায় করতে গণধর্ষণের শিকার হয় এক অসহায় নারী। আদালতের মামলা ও ভিক্টিম জান্নাত বেগম মিডিয়া কর্মীদের ক্যামেরার সামনে জানায়, গত ১৩/১০/১৭ইং তারিখে বাপ্তা ইউনিয়নের মুছাকান্দি ৫নং ওয়ার্ডের আবদুল মালেকের ছেলে মোঃ ফারুকের সাথে তজুমদ্দিন উপজেলার চাচড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের আবদুল বারেকের মেয়ে জান্নাত বেগমের ২লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে হয়। বিয়েরপর কিছুদিন উভয়ের দাম্পত্য জীবন ভালো কাটলেও পরবর্তিতে স্বামী ফারুক স্থানীয় রিতা নামে এক কিশোরীর সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পরে। এ বিষয়টি জান্নাত বুঝতে পেরে স্বামীকে বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করলে তার উপর নেমে আসে নানা ধরণের শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন। এক পর্যায়ে ফারুক জান্নাতকে কৌশলে তালাক দিয়ে প্রেমিকা রিতাকে বিয়ে করার ষড়যন্ত্র চালায়। এ ষড়যন্ত্রে ফারুকের সাথে মোটা অংকের টাকার চুক্তিতে যোগ দেয় তার ৪ একান্ত সহযোগী। ওই ষড়যন্ত্রকারীরা হল, বাপ্তা মুছাকান্দির ৫নং ওয়ার্ডের আবুল কাশেমের ছেলে মোঃ সুফিয়ানসহ আরো ৩জন। সূত্রে জানাগেছে, এ চক্রটি একপর্যায়ে জান্নাতকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। এ কাজে তারা ব্যার্থ হয়ে, বেছে নেয় অন্য একটি পথ। কিন্তু সন্ত্রাসীরা এর কোন কিছুই বুঝতে দেয়নি নববধু জান্নাতকে। জান্নাত ফারুকের সহযোগীদের বড় ভাই ও অভিভাবক মনে করে বিশ্বাস করত ও কথাবার্তা বলত। গত ১১/১১/১৭ ইং তারিখে ফারুকের সাথে জান্নাতের ঝগড়া হয়। ওই মুহুর্তে সুফিয়ান ও তার এক বন্ধু ফারুকের বাড়ী এসে তাদের ঝগড়া বন্ধ করে। এসময় সুফিয়ান জান্নাতকে স্বামী ফারুকের অনুমতি নিয়ে তার বাড়ীতে বেড়াতে নিয়ে যায়। সেদিন রাতে সুফিয়ান ও তার সহযোগীরা জান্নাতকে পরামর্শ দেয়, ফারুক খুব খারাপ ছেলে তাকে আমরা কখনো রিতাকে বিয়ে করতে দিব না। আমরা তোমার বড় ভাই। তোমাকে এ বিপদ থেকে আমরাই রক্ষা করব। পর মহুর্তে সুফিয়ান জান্নাতকে বলে ফারুকের সাথে রিতার সম্পর্ক বাদ দিতে হলে আগে তোমাকে মামলা করতে হবে। অসহায় জান্নাত কোন উপায় অন্ত না পেয়ে উল্লেখিত ৪ জনের কথা বিশ্বাস করে, বলে আপনারা আমার বড় ভাই, ভোলাতে আমার কোন আত্মীয় স্বজন নাই। তাই আপনারা যা বলবেন আমি তাই মেনে নিব। পর মুহুর্তে সুফিয়ান জান্নাতের হাতে একটি কলম তুলে দিয়ে খোলা ষ্ট্যাম্পে ও কয়েকটি বই খাতায় স্বাক্ষর রাখে। ইতি মধ্যে জান্নাত জানতে পারে স্বামী ফারুক রাগ করে তার বাড়ী থেকে চলে গেছে। পরের দিন সকালে এ চক্রের ৪ সদস্য জান্নাতকে পরামর্শ দেয়, স্বামী ফারুক তার বাড়ীতে আসা পর্যন্ত সে যাতে বাপের বাড়ীতে গিয়ে থাকে। সহজ সরল ও অসহায় জান্নাত তাদের কথা বিশ্বাস করে চলে যায় নিজ বাড়ীতে। এরপর স্বামী ফারুক আর কোন খোজ খবর রাখেনি স্ত্রী জান্নাতের। ১১ দিন পর জান্নাত স্বামীর কোন খোজ খবর না পেয়ে বাবার বাড়ী থেকে স্বামী ফারুকের বাড়ী চলে আসলে, ফারুক ও তার বাবা মা তাকে খোলা তালাক হয়েছে বলে আভিযোগ তুলে শ্বশুর বাড়ী থেকে বের করে দেয়। এর পর জান্নাত স্থানীয় গন্যমান্যদের এ বিষয়টি জানালে তারা বলে তোমাকে কৌশলে তালাক দেয়া হয়েছে তুমি এখন আর এই বাড়ীর বৌ নাই। পরে উল্লেখিত চক্রের লোকদের সাথে জান্নাতের অভিভাবকদের বৈঠক হয়। স্বামী ফারুক ও তার ৪ সহযোগী কথা দেয়, জান্নাতকে কাবিনের অর্ধেক টাকা দিয়ে দেয়া হবে। এ কথা জান্নাত ও তার পবিবার বিশ্বাস করে, গত ৫ মাসে জান্নাত ও তার অভিভাবক তজুমদ্দিন থেকে ফারুক ও সুফিয়ানের বাড়ীতে ৪ বার এলেও কোন প্রকার পাত্তা দেয়নি ফারুক ও তার সহযোগীরা। সর্বশেষ গত ১৬মার্চ জান্নাত ফারুকের একান্ত সহযোগী সুফিয়ানকে টাকার জন্য ফোন দিলে, সুফিয়ান ১৭ তারিখ সকালে টাকা নেয়ার জন্য জান্নাতকে সুফিয়ানের ভোলার ষ্টেডিয়াম রোডের ভাড়া বাসায় আসতে বলে। জান্নাত জানায় তখন সুফিয়ানের ঘরে তার স্ত্রী বা অন্য কোন লোকজন ছিল না। একটু পরই ওই ঘরে প্রবেশ করে সুফিয়ানের আরো ৩ সহযোগী। এক পর্যায়ে তারা সকলে জান্নাতকে ফারুক টাকা নিয়ে আসবে বলে প্রলোভন দেখিয়ে বসিয়ে রাখে। পরবর্তিতে এরা ৪জন সুফিয়ানের ঘরের সকল দরজা জানালা বন্ধ করে তাকে প্রথমে গামছা দ্বারা মুখ বেধে বিবস্ত্র করে সুফিয়ান ও মামলার ২নং আসামী পালাক্রমে ধর্ষণ করে। তাদের ধর্ষণের পর তারা রুম থেকে বেড় হওয়ার পর মামলার ৩ও ৪ নং আসামী পূণরায় জান্নাতকে ধর্ষণ করার জন্য ওই রুমে প্রবেশ করতে থাকলে জান্নাত চৌকির নিচে থাকা একটি শাবল হাতে নিয়ে ৩ ও ৪ নং আসামীকে প্রতিহত করে ঘরের দরজা খুলে বের হয়ে যায়। পরবর্তিতে ধর্ষিতা জান্নাত দৌড়ে পালিয়ে মেইন সড়কে গিয়ে ২জন লোকের সহযোগীতায় একটি রিক্সা যোগে ভোলা সদর হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়। পরবর্তিতে জান্নাত এ বিষয়টি তার অভিভাবকদের জানালে তারা এসে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়। এরপর গত ১৮মার্চ জান্নাত বাদী হয়ে ভোলা দ্বায়রা জজ ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। আদালতের মামলা নং-১৯৯/১৮। আদালত মামলাটি আমলে নেয়ার জন্য আদেশ প্রদান করে ভোলা সদর থানার ওসিকে। থানা কর্তৃপক্ষ এ মামলাটি তদন্তের ভার দেন ভোলা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনির হোসেন মিয়াকে। এ মামলায় গত ৩০মার্চ পরিদর্শক মনির হোসেন মিয়ার নেতৃত্বে একটি দল প্রধান আসামী আবু সুফিয়ানকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠায়। এ ব্যাপারে ভোলা পুলিশ সুপার মোকাতার হোসেন জানান, বাকি আসামীদের আটকের জন্য পুলিশ তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এ মামলায় পুলিশ কখনো ধর্ষকদের সাথে আপোষ করবে না।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 142 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com