“মফস্বলের শুভ’র জীবনের গল্প”

Print
আমার শৈশবের বেড়ে উঠা কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের ভোলাইন নামক গ্রামে।আমার পিতা নাম মাস্টার ছায়েদুল হক।গ্রামে পড়ালেখার কারণে আমি ছোটবেলা থেকে বড় কোনো স্বপ্ন দেখিনি!!
আমার বাবা মাও সম্ভবত নটর ডেম কলেজে চান্স পাওয়ার আগ পর্যন্ত আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখার দুঃসাহস করেনি।আমার ছাত্র জীবনের শুরু হয় আদ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। আর মাধ্যমিক জীবন শুরু হয় ভোলাইন বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে। আমি এমনই ছাত্র ছিলাম যে ক্লাস সেভেনে আমি ফাস্ট হয়ে নিজেই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।সে কারনেই হয়তো জে.এস.সি তে আমার রেজাল্ট বিপর্যয় ঘটে।তখনই একটা ডিসিশন নিয়েছিলাম যে এস.এস.সি তে জিপিএ-৫ না পেলে আর পড়ালেখা সামনে এগিয়ে নিবো না।আল্লাহর অশেষ রহমতে গোল্ডেন পেয়েছিলাম!!
গোল্ডেন পেয়ে যতটা খুশি হয়ে ছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি খুশি হয়েছিলাম যখন শুনেছিলাম পুরো নাংগলকোট এ বৃত্তি পাওয়া চারজনের মধ্যে আমার নামটাও আছে।সেদিন প্রথম আব্বুকে আমাকে নিয়ে গর্ব করতে দেখেছি।
আমার এই সাফল্যের পেছনে একজনের অবদান স্বীকার করতেই হবে,তিনি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক জনাব গোলাম মাওলা স্যার।ওনার সান্নিধ্যেই আমি প্রথম পড়ালেখায় আনন্দ খুঁজে পাই।নটর ডেম নামক একটা কলেজের নাম আমার কোনো একজন স্যাঁর ক্লাসে বলেছিলেন,সেই প্রথম ক্লাস নাইনে কলেজটির নাম শুনেছিলাম। পড়ার স্বপ্ন দেখা তো তখন পাপ।স্যাঁর ক্লাসে বলেছিলেন গ্রামের ছেলেরা নাকি নটর ডেমে চান্স পায় না।
জীবনের সর্বপ্রথম ভর্তি পরীক্ষা দেওয়া হয় ঢাকার সেন্ট যোসেফ কলেজে।সিট ছিলো মাত্র ৬০০। এই অল্প সিটে আমার মতো গ্রাম থেকে উঠে আসা একটা ছেলে ঢাকা শহরের নামি দামি স্কুলের স্টুডেন্ট দের সাথে পেরে উঠবো কখনো কল্পনাও করিনি।আমি সেন্ট যোসেফ এ চান্স পেয়েছি এই কথা আমি কেনো আমার বাবাও বিশ্বাস করতে পারেনি।
একদিন পর নটর ডেমে পরীক্ষা দিয়ে এসে আব্বুকে বলেছিলাম নটর ডেমের আশা ছেড়ে দেন।আমি যখন নটর ডেমে চান্স পাওয়ার শুনে সেদিন খুশিতে কি যে কান্না করেছিলাম।সেদিন থেকেই বাবা মা আমাকে স্বপ্ন দেখা শুরু করে,আর আমি বুয়েটে পড়ার স্বপ্ন লালন করতে থাকি।
কিন্তু আব্বু আমাকে জীববিজ্ঞান পড়ার তাগিদ দিতেন খুব,আমি তখনই বুঝে নিয়েছিলাম আব্বু আমাকে ডাক্তার হিসেবে দেখতে চান।তখনও আমার সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য ছিলো না,আমার একটাই উদ্দেশ্য ছিলো,ভালো কোনো ভার্সিটিতে পড়া হোক সেটা ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা মেডিকেল।নটর ডেমে পড়ার কারনে আমার উপর সবার প্রত্যাশাও বেশি ছিলো। কিন্তু সবাইকে হতাশ করে আমি অল্পের জন্য চান্স মিস করি এম বি বি এস ভর্তি পরীক্ষায়। আমার চেয়ে আমার আব্বু বেশি কষ্ট পেয়েছিলেন সেদিন।মনোবলটা সেদিন অনেকটা ভেঙ্গে গিয়েছিল।
এরপর আব্বু জোরাজুরিতে ডেন্টাল এ পরীক্ষা দেই।ডেন্টাল এর রেজাল্ট দেওয়ার আগ মূহুর্ত পর্যন্ত আমি সিউর ছিলাম আমি ঢাকা ভার্সিটিতে পড়তেছি।ডেন্টাল এর রেজাল্ট আসার সাথে সাথেই সব চেঞ্জ হয়ে গেলো,আমকে ডি ইউ এর ভাইভা তে যেতে দেওয়া হয়নি।আমি প্রথমে ডেন্টালে পড়তে চাইনি,কিন্তু আব্বুর মন খারাপ করার কারনে আর আত্মীয়স্বজন ও চারপাশের সবাই অনেক বুঝিয়ে আমাকে রাজি করায় ভর্তি হওয়ার জন্য।আমার মধ্যে কিছুটা ইনফিরিয়রিটি কাজ করতো ডেন্টাল নিয়ে মানুষের সমালোচনা দেখে।
যাই হোক এখন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটে আছি এবং অনেক ভালো আছি।আমি দ্বিতীয় বার পরীক্ষা দিবো কিন্তু চান্স পেলেও আমি ডেন্টালেই পড়বো। এখন একটাই স্বপ্ন ভালো একজন ডেন্টিস্ট হয়ে মানুষের সেবা করা।সবার কাছে দোয়াপ্রার্থী।
ইমদাদুল হক শুভ
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিট
সেশনঃ২০১৭-২০১৮
[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 343 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com