মরণযান মোটর সাইকেল

Print

সাদিকুর রহমান।

মোটরসাইকেলের দ্বারা অন্যকোন যানের সাথে যে এক্সিডেন্ট হয়, তাই সাধারণত মোটরসাইকেল এক্সিডেন্ট নামে পরিচিত। বর্তমানে এই এক্সিডেন্ট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আর তাই আমাদের দেশে বর্তমানে মোটরসাইকেল এক্সিডেন্টের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
এক জরিপে দেখা গেছে, দেশে যে পরিমাণ এক্সিডেন্ট হচ্ছে তার মধ্য মোটরসাইকেল এক্সিডেন্টের সংখ্যাই প্রায় ৩০ শতাংশ। যার কারনে বর্তমানে এই বাহনটি কে অনেকে এড়িয়ে চলার জন্য চেষ্টা করে থাকেন। আবার অনেকে এই বাহনটির ভয়াবহতার কারনে এটিকে মোটরসাইকেল না বলে মরণ সাইকেল বলেও সম্বোধন করেন।

এই এক্সিডেন্টি হওয়ার পেছনে প্রধানত চালকের অসাবধানতাই দায়ী। কেননা জরীপে দেখা যায় যে,উঠতি বয়সের তরুণেরা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি  ঝুকছে মোটরসাইকেলের দিকে। তারা এই যানটি পেয়ে জান- প্রাণ ছেড়ে দিয়ে স্থল পথ কে আকাশ পথ ভেবে যেন গাড়ি চালায়।অথচ বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি’র(বি আর টিএ) নিয়ম অনুযায়ী কেউ ১৫০ সিসি’র উপর বাইক চালাতে পারবেনা। কিন্তু বয়সে তরুণেরা যেসব বাইক কিনছে তার সব কয়টিই হল ১৫০ সিসি’র উপরে।
আর সে জন্য তাদের পছন্দের ব্রান্ড হল Bajaj Pulsar ১৪০,Bajaj Pulsar ২০০ NS, Bajaj pulsar ২২০, Honda CBR ১৫০ R,Honda CBR ২৫০, KTM ২০০ duck, Tvs Apache RTR, ১৮০, Yamaha R ১৫ Version ২, Hero Karizma ২ MR ২৫০.
দেখতে সুন্দর ও চলতে দ্রুত এই বাহনগুলোর ব্যাপারে রয়েছে অপ্রিয় কিছু সত্যি কথা এবং জটিল কিছু অভিযোগ। বলা হয়ে থাকে যে, এই বাইকগুলো হল বর্ডার ক্রস বাইক। কারন এগুলো সম্পূর্ণ বেআয়নি ভাবে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

তবু তরুণ প্রজন্মের কাছে এই বাইকগুলোই অধিক পছন্দ। কারন এগুলি এক দিকে স্টাইলিশ, অন্যদিকে দ্রুত বেগে চলার মত।যার জন্য তরুণ প্রজন্ম হন্য হয়ে এই মরন সাইকেলগুলোই কিনছে।

একদিকে বাইকের সিসি ১৫০ এর উপরে, অন্যদিকে চালকদের বাইক চালাতে নাই কোন বিশেষ প্রশিক্ষণ বা সতর্কতা। মোটরসাইকেল চালানোর সময় ট্রাফিক আইন না মানা, হেলমেট পরিধান না করা,চালানোর সময় অসুস্থ প্রতিযোগিতা, কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে চালানো ইত্যাদিই মূলত প্রধানত দায়ী এই ধরনের দূর্ঘটনার জন্যে।
তাছাড়া দুই হাত ছেড়ে দিয়ে গাড়ি চালানোর প্রতিযোগীতা যেন ক্রমাগত বাড়ছে। এটিকে সাধারনত মনে করা হয় স্মার্টনেস।কিন্তু এটিই একসময় হয়ে যায় মৃত্যুর অন্যতম কারন। মোটরসাইকেল দূর্ঘটনার পেছনে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায় যে, অধিকাংশরাই হেলমেট ছাড়া গাড়ি হাকায়। যা বড় রকমের অন্যায়ও বটে। কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার যে, এই এক্সিডেন্টের পর আরোহীরা প্রথমে মাথায় আঘাত পেতে পারে।বা পরে গেলে পেছন দিক থেকে এসে অন্য কোন বাহন মাথার উপর দিয়ে চালিয়ে নিয়ে যেতে পারে। অথচ যদি হেলমেট পরে গাড়ি চালানো হয় তাহলে মৃত্যুর দোয়ার থেকে যেমন বাচা সম্ভব অন্যদিকে এক্সিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।হাসপাতালের রিপোর্ট অনুযায়ী বাইক এক্সিডেন্টের ৭০ ভাগ রুগী মারা যায় মাথায় ঘোরতর আঘাত পাওয়ার কারনে। অথচ আগে থেকে যদি একটু সতর্কতা অবলম্বন করা হয়,তাহলে এই দূর্ঘটনাকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে না পারলেও অন্তত কমানো সম্ভব।

আর সে জন্য মূলত আমাদেরকেই সতর্কতার পথ ধরে মোটরসাইকেল বা অন্যান্য সব যান চালাতে হবে।

[ সাদিকুর রহমান,জাহাংীরন বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার , ঢাকা]

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 617 বার)


Print
bdsaradin24.com