মুক্তিযোদ্ধার হাতে ফুল – মুক্তিযোদ্ধার হাতে ভিক্ষার ঝুলি

Print
মুক্তিযোদ্ধার হাতে ফুল – মুক্তিযোদ্ধার হাতে ভিক্ষার ঝুলি
জেলা প্রতিনিধি, নাটোরঃ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে যখন আয়োজন করা হয়েছে নানা অনুষ্ঠান, চলছে সংবর্ধনা, হাতে ফুল; ঠিক তখনই ভিক্ষার ঝুলি হাতে নিয়ে মানুষের দ্বারে-দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন জাতির আরেক শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মকছেদ আলী (৬৮)। একাত্তরের মহান মুক্তিসংগ্রামে রণাঙ্গনের যোদ্ধা তিনি। কিন্তু দেশ স্বাধীনের ৪৮ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি পাননি তিনি। জোটেনি সরকারী-বেসরকারী কোন সুযোগ-সুবিধাও। অর্থাভাবে ছেলেমেয়েদেরকেও লেখাপড়া শেখাতে পারেননি। তাই জীবন সায়াহ্নে এসে স্ত্রী আর নিজের জীবিকার প্রয়োজনে ভিক্ষার ঝুলি হাতে তুলে নিতে হয়েছে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গড়মাটি গ্রামের বাসিন্দা তিনি।
জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে তৎকালীন আনসার কমান্ডার মকছেদ আলী ভারতের জলঙ্গী থানার সাহেব রামপুর ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নেন। পরে তিনি ১১ নম্বর সেক্টরের আওতায় কমান্ডার কর্ণেল কাজী নুরুজ্জামানের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি বড়াইগ্রামের জোনাইল, ঈশ^রদীর মুলাডুলি ফার্ম, লালপুরের ওয়ালিয়ার ময়না, হরিপুর ও রাজশাহীর চারঘাট এলাকায় সশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। দেশ স্বাধীনের পর তিনি নাটোরের দিঘাপতিয়ায় তার রাইফেল জমা দেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের স্বীকৃতি স্বরুপ সে সময় তাকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি এমএজি ওসমানীর স্বাক্ষরিত সনদ দেয়া হয়। ৭২ সালে তিনি পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিলেও অসুস্থতার কারণে চাকরীচ্যুত হন। এ সময় জীবিকার প্রয়োজনে ছুটে বেড়াতে গিয়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তালিকাভূক্ত হতে পারেননি। পরবর্তীতে অনেক চেষ্টা করেও আর স্বীকৃতি মেলেনি তার। প্রায় বছর দুই আগে বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ দিলে তিনিও আবেদন করেন। তবে অসুস্থতার কারণে উপস্থিত থাকতে না পারায় এবারও তাকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভূক্ত করা হয়নি। বর্তমানে পরপর দুই বার ব্রেইন ষ্ট্রোকের কারণে তিনি শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল। অর্থাভাবে ছেলেদেরকে লেখাপড়া শেখাতে না পারায় তারাও দারিদ্র্যের যাঁতাকলে পিষ্ট। এরই মধ্যে প্রতিপক্ষের হামলায় এক ছেলে খুন হলেও তার কোন বিচার পাননি তিনি। এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও বয়স্ক ভাতা বা অন্য কোন সুযোগ সুবিধা জোটেনি তার। এ অবস্থায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান এই মুক্তিযোদ্ধা বৃদ্ধা স্ত্রীসহ বাঁচার প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত এক হাতে লাঠি আর আরেক হাতে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শামসুল হক জানান, বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভূক্তি বন্ধ রয়েছে। সরকার আবার সুযোগ দিলে তার জন্য চেষ্টা করা হবে। বড়াইগ্রামের গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। উনাকে আমার সাথে যোগাযোগ করতে বলবেন। তাকে বয়স্কভাতাসহ কিভাবে সহযোগিতা করা যায় সেটা দেখবো।
[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 70 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com