মৃত ব্যক্তির বাড়ি? নাকি বিয়ে বাড়ি?

Print

এক দিকে মৃত ব্যাক্তির জান চলে গেল, অন্য দিকে বড় বড় হাড়ি-পাতিল বসিয়ে শিরনির নামে রান্নার ধুম ধাম শুরু হয়ে গেল!
এটা কেমন কথা!যে,একজন মানুষের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে খাওয়ার উৎসব বনাবেন!

দাওয়াতের আয়োজন তো করা হয় কোনো আনন্দ উৎসবের সময়, কোনো বেদনার মুহূর্তে নয়।

কেউ মারা গেলে মৃত্যু উপলক্ষ্যে বিবাহের ন্যায় খাবারের আয়োজন করা এবং জানাযার পর এলান করা হয় যে, খাবার না খেয়ে কেউ যেন না যায়।
ইদানিং আম-কাছ সকল মৃতের যানাজায় এমনই বলতে শুনি।

অনেকেই বলে থাকেন, দুরের মেহমান আসেনতো তাই একটু মেহমানদারী না করলে কেমন লাগে ?
আমি বলি, ওরা আবার কেমন মেহমান! যে একজন মানুষের ইন্তিকালে শোকাহত হতে পারল না! তাদের আদর কদর না করলে বেজার হয়ে যাবে!
একদিনতো উপুষও থাকা যায় । মানুষতো রোজা রেখেও দিন কাঠিয়ে দেয়, আর একটা দিনের একটা ওয়াক্তের খাবারও কী ত্যাগ করতে পারবে না?
মানুষতো শোকে কাথর হলে আহার-নিদ্রা সব ছেড়ে দিয়ে পাথর হয়ে যায়। তাহলে সেই মেহমান কেন পারবেন না তার শোকে শোকাগ্রস্ত হয়ে একবেলার খানা ত্যাগ করতে?

আসলে এটা একটা প্রথায় পরিণত হয়েছে, শিন্নি না করলে লোকে কী বলবে এই জন্যই এসব আয়োজন করা হয়।
আয়োজনের ধরণ দেখে মৃত বাড়ী আর বিয়ে বড়ীর পার্থক্ষ্য করা মুশকিল।

ইসলামী শরীয়তে এটা একটা বিদআত তথা কুপ্রথা, গোনাহের কাজ।
এমন দাওয়াত দেওয়া ও খাওয়া উভয়টিই শরীত অনুমুদিত নয়।

রাসুলের সুন্নত তো হলো, মৃত ব্যক্তির বাড়িতে যেয়ে তাদের ওয়ারীশদেরকে শান্তনা দেওয়া।
মৃতের পরিবার-পরিজনদের জন্য প্রতিবেশীর পক্ষ থেকে খাবারের ব্যবস্থা করা, যেন তাদেরকে মৃতের জন্য ব্যস্ততা ও শোকাহত থাকার কারণে অনাহারে থাকতে না হয়।
“ফিকহুল ইবাদ” গ্রন্থে উল্লেখ আছে,

يستحب لجيران الميت والأباعد من أقاربه تهيئة طعام لأهل الميت يشبعهم يومهم وليلتهم لما روي عن عبد الله بن جعفر رضي الله عنهما قال : قال النبي صلى الله عليه و سلم : ( اصنعوا لأهل جعفر طعاما فإنهم قد جاءهم ما يشغلهم ) . ويلح عليهم بالأكل لأن الحزن يمنعهم الطعام فيضعفهم والله ملهم الصبر ومعوض الأجر. الكتاب
: فقه العباداة. حنفي الجزء 1 الصفحة 124 المكتبة الشاملة .

অর্থঃ মৃত ব্যক্তির পড়শী এবং আত্মীয়দের জন্য মুস্তাহাব হল, তারা যেন মৃত ব্যক্তির বাড়িতে যথেষ্ট পরিমাণে খাবার পাঠায়, যাতে মৃত ব্যক্তির বাড়ির মানুষেরা পেট ভরে খানা খেতে পারে। যেমন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাড়ির লোকজনের জন্য খাবার তৈয়ার করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এতে প্রমাণ হয় যে, মৃতব্যক্তির বাড়িতে দাওয়াত খাওয়াতো দুরের কথা বরং তাদেরকে পেট ভরে খানা খাওয়ার ব্যাপারে আল্লাহর নবী (সাঃ) তাগিদ করে দিয়েছেন।

মৃত ব্যক্তির বাড়ীতে মেহমানদরী না জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে
ফতোয়ায়ে শামীর ৬নং খণ্ডের ৩৯৪নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

فصل:ٌ فِي كَرَاهَةِ الضِّيَافَةِ مِنْ أَهْلِ الْمَيِّت : وَيُكْرَهُ اتِّخَاذُ الضِّيَافَةِ مِنْ الطَّعَامِ مِنْ أَهْلِ الْمَيِّتِ لِأَنَّهُ شُرِعَ فِي السُّرُورِ لَا فِي الشُّرُورِ ، وَهِيَ بِدْعَةٌ مُسْتَقْبَحَةٌ .
الكتاب : رد المحتار , الجزء 6 الصفحة 394
আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 85 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com