মেয়েদের সঙ্গে প্রতিটা দিন যা ঘটে, তার অভিযোগটা করবে কাকে ?

Print
কথায় আছে, যার প্রতিকার করা যায় না তা সহ্য করে নিতে হয়। সহ্য করাটা কি তাহলে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে? এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন নারীদের মধ্যে অনেকে।

প্রতিদিন কাজে হোক বা বিনা কাজে, বাইরে যাওয়ার পর ঘরে ফিরে যখন আসা হয় তখন পানিতে ক্লান্তি দূর করার সঙ্গে সঙ্গে হাজার অপমান আর যৌন হয়রানির লজ্জাও ধুয়ে ফেলতে হয়।

মেয়েদের সঙ্গে প্রতিটা দিন কি কি ঘটে, তার কোন অভিযোগটা মেয়েরা করবে?

যখন রাস্তায় নামে পুরুষের কুনজরের অভিযোগ একটা মেয়ে কিভাবে দেবে? এমন প্রশ্ন আর অভিযোগ হাজার হাজার নড়েচড়ে বসা অভিযোগের ভিড়ে কিছুটা হাস্যকরই বটে।

অনেক মেয়ে আছেন যারা যৌন হয়রানির পরও নীরব থাকেন কারণ তার মনে দ্বিধা থাকে সে মুখ খুললে একজনের নয় বরং বাসে থাকা অধিকাংশ মানুষের হাসির খোরাক হবেন।

আর কেউ কেউ আছেন প্রতিবাদ করেন। যার ফলশ্রুতিতে সবার কাছে বনে যান অতি স্মার্ট মেয়ে হিসেবে। শুরু হয় তাকে নিয়ে হাসি-তামাশা। এটাও এক ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি। আর এর ভয়েও অনেক মেয়ে চুপ থেকে চোখের ধর্ষণের স্বীকার হন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের গণপরিবহনে ৯৪ শতাংশ নারী কোনো না কোনো সময় মৌখিক শারীরিক এবং অন্যান্য যৌন হয়রানীর স্বীকার হচ্ছেন।

এতো গেলো শুধু গণপরিবহনের কথা। এর পরেও যে দিনের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে নানাভাবে পুরুষের লালসার স্বীকার মেয়েরা। সে চিন্তা সবার মাথা থেকেও যেনো দূরে থাকে।

অভিযোগের প্রশ্নে যদি আসা হয়, খুঁটিনাটি বিষয়গুলো এমনিতেই কেউ সামনে তুলে না। আর যদিও বা কখনও অভিযোগ আসে মেয়েদের তরফ থেকে তাহলে তার যথার্থ গুরুত্বও দেয়া হয় না এমন অভিযোগের তালিকাও কম নয়।

তবে গণপরিবহণে যৌন হয়রানি নিয়ে এক প্রতিবেদনে ডিএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেছেন, ‘অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা করত পারি। অভিযোগ না পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আসলে থাকে না।’

এদিকে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি গণপরিবহনে নারীদের যৌন হয়রানি নিয়ে কোনো কিছু করেছেন? বা বিশেষ কোনো আলোচনার ব্যবস্থা করেছেন। এই জায়গাগুলোতে আমাদের জোর দিতে হবে।’

বিভিন্নজন বিভিন্ন দৃষ্টি কোন থেকে বলে যান, দেখে যান। কিন্তু সমস্যা যা থাকার তা থেকেই যায়।

সমস্যা ছিলো, আছে। সমস্যা ততদিন শেষ হবে না। যতদিন সবকিছু একটা সিস্টেমের মধ্যে না আনা হবে। কথায় কথায় নারীদের এ সুযোগ সে সুযোগের প্রতিশ্রুতির চেয়ে বেশি দরকার কার্যকরী পদক্ষেপ।

পুরুষের কু-দৃষ্টি থেকে নারীদের রক্ষার বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা রাতারাতি সম্ভব নয়। এটা যার যার মানসিক, ভালো-মন্দ চেতনা আর শিক্ষার ব্যাপার। সরকারের পক্ষে কারো চেতনা শিক্ষা রাতারাতি পাল্টে দেওয়া সম্ভব নয়।

তবে প্রতিদিন নারীদের বিশাল একটা অংশ যে গণপরিবহণে যৌণ হয়রানির স্বীকার হচ্ছে তার একটা কার্যকরী পদক্ষেপ হয়তো নেওয়া সম্ভব। দেশের এত এত অগ্রগতি যদি সম্ভব হয় তাহলে এই সমস্যাটাও কোনো না কোনো উপায়ে রোধ করা সম্ভব। তার জন্য জরুরী কর্তৃপক্ষের এগিয়ে আসাটা।

খুন, গুম, জঙ্গীবাদ অপরাধকে যেমন কঠোর হস্তে দমন করা হয়। তেমনি নারী হয়রানির পক্ষেও কঠোর হওয়াটা জরুরী। কেননা একটা মেয়েকে প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে যৌন হয়রানি হতে হয়। যার ফলশ্রুতিতে অনেক মেয়ে আত্মহত্যার পথ পর্যন্ত বেছে নিচ্ছে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 136 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com