মোশাররফ করিমের কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি

Print

রোবেনা রেজা জুঁই। নিজ গুণেই পরিচিত। তার আরেকটা পরিচয় তিনি জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিমের অর্ধাঙ্গিনী।

কেমন আছেন?

এই তো আলহামদুলিল্লাহ

আপনার সাম্প্রতিক কাজের কি খবর?

এখন তো ঈদের কাজ নিয়েই ব্যস্ত। বেশ কিছু নাটকের কাজ করছি। ঈদে একাধিক চ্যানেলে আমার একাধিক নাটক প্রচারিত হবে।

ঈদের নাটকের বাইরের কাজ?

ঈদের নাটকের ফাঁকে ধারাবাহিকগুলোর কাজও করতে হয়েছে। কারণ সিরিয়ালগুলো তো নিয়মিতই প্রচারিত হচ্ছে।

নাটকের প্ল্যাটফর্মে একটা চেঞ্জ ঘটেছে। শুধু টিভি চ্যানেল নয়, এখন অনলাইনের জন্যও প্রচুর নাটক নির্মাণ করা হচ্ছে, এই চেঞ্জটাকে কিভাবে দেখছেন?

প্রযুক্তি উন্নতি হলে তার সঙ্গে সঙ্গে কিছু জিনিস তো চেঞ্জ হবেই। আগে তো ইন্টারনেটই ছিল না বা বিনোদনের এত এত মাধ্যমও ছিল না, তখন টেলিভিশনই ভরসা ছিল। এখন তো আবার টেলিভিশনে যে সময়ে নাটক প্রচারিত হয় তখন অনেকেই দেখতে পারে না। এখনকার কর্মক্ষম বেশির ভাগ মানুষই প্রাইভেট জব করে। অনেকেরই ধরা বাঁধা অফিস নেই। ফলে চাইলেও অনেকে নাটক দেখতে পারে না। তারা ইউটিউবেই নাটক দেখে।

এ যাবৎ তো প্রচুর কাজ করেছেন, এর মধ্যে কতগুলো কাজ তৃপ্তি সহকারে করতে পেরেছেন? নাকি অতৃপ্তিটা এখনো রয়েই গেছে?

আসলে আমি যখন কাজ শুরু করি তখন কাজের ধরনটা এক রকমের ছিল। কিন্তু শুরু করার পরপরই দেখলাম কাজের ধরনটা অন্যরকম হয়ে গেছে। আগে একটা নাটকের শুটিং চার পাঁচ দিন ধরেও হতো। তারপর দেখলাম দুই দিনে নেমে এসেছে। এখন তো অনেক সিঙ্গেল নাটক আছে একদিনেই শেষ করে ফেলে। সে জায়গা থেকে মনে হয়, একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে যদি আরেকটু সময় পেতাম। অভিজ্ঞরা হয়তো এই বিষয়টার সঙ্গে দ্রুত মার্চ করতে পারে। কিন্তু আমি তো নতুন। ফলে আমি অনেক সময় তাড়াহুড়োর জন্য তৃপ্তি নিয়ে কাজ করতে পারি না। অনেক সময় মনে হয় যে সংলাপটা ঠিকমতো ডেলিভারি দিতে পারি নাই। এটা যদি আরেকবার নেওয়া হতো তাহলে আরেকটু ভালো করে দিতে পারতাম। তখন একটা অতৃপ্তি থেকে যায়। ইশ! তিন দিনের কাজটা যদি আরেকদিন বাড়ানো হতো তাহলে আরও ভালো হতো। এই ছোটখাটো অতৃপ্তি থেকে যায়।

সংসার সামলিয়ে কাজ করতে কোনো সমস্যা হয় কিনা?

এখন পর্যন্ত হয়নি। যেহেতু আমার ফ্যামিলি জয়েন ফ্যামিলি। আমার শাশুড়ি থাকেন আমাদের সঙ্গে। ভাশুর-দেবরেরা থাকেন। আত্মীয়স্বজনদের অনেকেই কাছাকাছি থাকেন। দেখা যায় তারা অনেক সাপোর্ট দেয় আমাকে। ফ্যামিলি মেনটেইন করার জন্য। সন্তানদের ম্যানেজ করতে। ফলে এক ধরনের সুবিধাই পাই।

ইদানীং দেখা যায়, আপনার বেশির ভাগ কাজই মোশাররফ ভাইয়ের সঙ্গে, এটা কি ইচ্ছে করেই? নাকি কাকতালীয়ভাবে পড়ে যায়?

না। ডিরেক্টরের চাহিদা থাকে। আর আমি আসলে অপরিচিত ডিরেক্টরদের কাজ তেমন করিও না। বিশেষ করে আমাদের ফ্রেন্ড সার্কেলের ভেতরের পরিচালকদের কাজই বেশি করা হয়। যাদেরকে আমার অভিনয়ে জগতে আসার আগে থেকেই চিনি। বা মোশাররফের থ্রোতে চিনি তাদের সঙ্গেই বেশি কাজ করা হয়। ফলে অনেক সময় তার সঙ্গে কাজ পড়ে যায়।

আপনার কাজ নিয়ে মোশাররফ ভাইয়ের মূল্যায়ন কি? তিনি কি বলেন?

ও তো এমনিতেই কো-আর্টিস্টদের অনেক হেল্প করে। সিরিয়ালগুলোতে হয়তো ওর সঙ্গে আমার কাজ তেমন হয় না। ওর আর আমার সিকুয়েন্সগুলা হয়তো আলাদা থাকে। আর সিঙ্গেল করার সময়ে অনেক সময় ও কিছু কিছু সাজেস্ট দেয়। ফলে মোশাররফের কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি।

সন্তানরা আপনাদের কাজ নিয়ে কী বলে?

আসলে বাসায় ওভাবে সবাই মিলে কাজ দেখা হয় না। তবে আমার ভাশুরের মেয়েরা অনেক সময় আমার ড্রেসআপ বা লুকের ব্যাপারে অনেক হেল্প করে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা?

সেভাবে খুব প্ল্যান করে আগাচ্ছি বিষয়টা তা না। চেষ্টা করছি হাতের কাজগুলো যতটা ভালোভাবে করতে পারি। আমি নিজে নিজে প্রার্থনা করি, যেন যত দিন আল্লাহ আমাকে কাজের সুযোগ দেন তত দিন যেন নিজের কাজটা ভালোভাবে করতে পারি।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 57 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com