যুক্তরাজ্য ছাড়তেই হচ্ছে তারেককে

Print

১৪ বছর প্রতীক্ষার পর অবশেষ গতকাল বুধবার বাংলাদেশের ইতিহাসের বর্বরতম হামলা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে ফাঁসির আদেশ এবং আরও ১৯ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদাণ করা হয়েছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন গ্রেনেড হামলার মাস্টার মাইন্ড ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া।

তারেক জিয়ার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়ে বিএনপি ঘরানার কিছু লোক ব্যাতীত সবাই হতাশ। কারণ ঘটনার মূল হোতা হিসেবে তারেকের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থ্যাৎ ফাঁসিই প্রত্যাশিত ছিল সবার। তবে তারেকের ফাঁসির আদেশ না হওয়াকে শাপে বর বলেই মনে করছেন অনেক আইনজ্ঞ ও কূটনীতিকরা। তাঁদের মতে, গতকালের রায়ে যদি তারেক জিয়ার ফাঁসির আদেশ হতো তাহলে যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা অসম্ভব হয়ে পড়তো। কারণ যুক্তরাজ্যের হিউম্যান রাইটস চার্টার্ড অনুযায়ী,

যদি দেশটিতে অবস্থানকারী কোনো বিদেশী নাগরিককে তাঁর নিজের দেশে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় তাহলে তাঁকে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ আর ওই দেশে ফেরত পাঠায় না। অর্থ্যাৎ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে তারেকের যদি মৃত্যুদণ্ড হতো তাহলে তাঁকে আর বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতো না যুক্তরাজ্য। এই প্রসঙ্গে মনে রাখা প্রয়োজন, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের দেশগুলো কঠোরভাবে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে। মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে ক্যাম্পেইনও পরিচালিত হয় দেশগুলোতে।

ব্রিটেনের আইনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে যার ফলে তারেককে দেশে ফিরিয়ে আনা সহজ হবে। ওয়ান-ইলেভেনের জঙ্গি হামলার পর যুক্তরাজ্য সরকার অ্যান্টি টেররিজম অ্যাক্ট প্রণয়ন করে। সেই আইন অনুযায়ী, কারও যদি জঙ্গি সম্পৃক্ততা থাকে এবং জঙ্গিবাদের সঙ্গে যদি কারো কোনো রকম যোগসূত্র থাকে তাহলে সে ব্যক্তি যুক্তরাজ্যে বসবাসের জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

আদালতের রায়ে প্রমাণিত, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ছিল একটি জঙ্গি হামলা। হরকাতুল জিহাদের মতো জঙ্গি সংগঠন সেই হামলায় জড়িত ছিল। জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা পাকিস্তানে বসে এই হামলার পরিকল্পনা করেছে তাও তদন্তে প্রমাণিত।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়ে তারেককে দেশে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি এই মামলার রায়ের আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, আদালতে জঙ্গিদের সঙ্গে তারেকের সম্পৃক্ততার দালিলিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, তারেক জিয়া যুক্তরাজ্যে থাকতে পারবেন না।

তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, অনতিবিলম্বে এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি ব্রিটিশ হাইকমিশনের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। তাহলেই তারেককে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এই পর্যন্ত যুক্তরাজ্য প্রায় শতাধিক ব্যক্তিকে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ততার অভিযোগে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে বলেও জানান তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, তরুণ ছেলেমেয়েরা সিরিয়ায় প্রশিক্ষণ নিয়ে আইএসে যোগ দিচ্ছে। এরপর থেকেই যুক্তরাজ্যে জঙ্গিবাদ বিষয়ে আরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে। এই কড়াকড়ির ফলে তারেক জিয়াকে যুক্তরাজ্য ছাড়তেই হবে বলে মনে করছেন কূটনীতকরা।

  • বাংলা ইনসাইডার
[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 42 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com