যে কারণে ছাত্রলীগের ওপর ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী

Print

ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃত্বের ওপর ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সর্বশেষ গত শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভায় প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসার কথাও চিন্তাভাবনা চলছে। গণভবনে ছাত্রলীগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের খবর মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

জানা যায়, ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর নানা কর্মকান্ডে বিরক্তি প্রকাশ করে কমিটি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ক্ষোভ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বিষয়টি বাস্তবে কার্যকর না-ও হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তাদের কর্মকাে যে ক্ষুব্ধ তা বৈঠকে স্পষ্ট হয়েছে। জানা যায়, ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এসেছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে, তার মধ্যে রয়েছে- বিতর্কিতদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নেওয়া, দুপুরের আগে ঘুম থেকে না ওঠা, অনৈতিক আর্থিক লেনদেন ইত্যাদি। সূত্র জানায়, গত শনিবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকের একপর্যায়ে ছাত্রলীগের প্রসঙ্গ তুলে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা দুপুরের আগে ঘুম থেকে ওঠে না। দলীয় সভানেত্রীর এমন বক্তব্যের পর বৈঠকে অংশ নেওয়া মনোনয়ন বোর্ডের অন্য সদস্যরাও ছাত্রলীগের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকা তুলে ধরেন। তারা জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জন্য। ছাত্রলীগের এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি পৌঁছে গেলেও সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক তার পরে উপস্থিত হন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদকে প্রধান অতিথি করে আয়োজন করা ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানেও দেরিতে উপস্থিত হন শোভন-রাব্বানী। জানা যায়, দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সামনে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নিয়ে কথা হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন কলেজের সম্মেলনের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও কমিটি দিতে না পারা, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি করার ক্ষেত্রে অনৈতিক অর্থনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ, বিবাহিত ও জামায়াত-বিএনপি সংশ্লিষ্টদের পদায়ন করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে কথা হয়।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 60 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com