রসুলপুরের সেই ছেলে আজকের তারিক আনাম খান

Print
মুনসুর রহমান : মঞ্চনাটক দিয়েই অভিনয় নৈপুণ্যে দর্শক মনের গভীরে ঠাঁই করে নিয়েছেন তারিক আনাম খান। তবে  শুরুটা হয়েছিল কবিতা আবৃত্তি দিয়ে। এরপর ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়েন মঞ্চনাটকের সঙ্গে। তিনি পাইলট বা ইঞ্জিনিয়ার হবেন আশা করেছিলেন। কিন্তু হলেন দুর্দান্ত এক অভিনেতা, লেখক ও থিয়েটার, টেলিভিশন এবং নাট্য পরিচালক। প্রায় চার দশক নাটক ও চলচ্চিত্রের সাথে যুক্ত আছেন তিনি। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য ‘দেশা-দ্যা লীডারা’ চলচ্চিত্রে (খল চরিত্রে) শ্রেষ্ট অভিনেতা হিসাবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন। এছাড়াও বাচসাস পুরস্কার, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার, আরণ্যক দিপু স্মৃতি পুরুস্কার, আর টিভি এওয়ার্ড সহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।
পারিবারিক আবহে বাবার অনুপ্রেরণায় হাইস্কুলে পড়াকালীন সময়ে প্রসাদ বিশ্বাস এর অবিচার নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নাট্যজগতে প্রবেশ করেন। এবং স্বাধীনতার সময়ে নয় নম্বর সেক্টরের বিভিন্ন ক্যাম্পে অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছিলেন।  এ সময়েই নাটকের প্রতি তাঁর আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। কারণ কলকাতা নিকটের শহর হওয়ায় বইপত্র, নাটক ইত্যাদির সংস্পর্শে ছিলেন তিনি।  তাই, সাতক্ষীরার অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ আজও তাকে প্রভাবিত করে।
১০ মে সাতক্ষীরার রসুলপুর গ্রামের এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে জম্ম নেওয়া তারিক আনাম খান রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিলভার জুবলি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিএন স্কুল এন্ড কলেজ ও সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করার পর ঢাকা চলে এসে বোনের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। এবং মামুনুর রশীদ এর আরণ্যক নাট্যগোষ্ঠীর সাথে যুক্ত হয়ে অভিনয় শুরুর কয়েক বছর পরে বাংলাদেশ টেলিভিশনে অডিশনের মাধ্যমে নাট্য অভিনেতা হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বেশি দিন অভিনয় করতে পারেন নি। কারণ  সরকারি বৃত্তি পেয়ে দিল্লী ন্যাশনাল  স্কুল অব ড্রামায় উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে গমন করেন। দিল্লীতে পড়াশোনাই অভিনয়কে পেশা হিসাবে বেছে নেওয়ার জন্য তাঁকে উদ্বুদ্ধ করে।
দিল্লীতে পড়াশোনা শেষ করে ঢাকায় আসার পর আব্দুল্লাহ আল মামুন এর থিয়েটারে যুক্ত হয়ে তারিক আনাম খান কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে জীবনকে নতুন রুপে সাজিয়েছেন। এর মাঝে লাল সবুজের পালা, সুরুজ মিয়া, ঘুড্ডি অন্যতম। কিন্তু বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্রে নিজেকে মানিয়ে নিতে না পারার কারণেই তিনি বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র থেকে একটু দুরুত্ব বজায় রেখেছেন এবং বেছে বেছে কাজ করেছেন। তিনি চলচ্চিত্রের তুলনায় মঞ্চকে বেশি পছন্দ করেন।  তাই, নাটকের প্রতিষ্ঠান নাট্যকেন্দ্র ১৯৯০ সালের ১১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং বিজ্ঞাপন নির্মাণে জড়িয়ে পড়ার কারণে চলচ্চিত্র থেকে দূরে থাকলেও তার সু-খ্যাতি তাঁকে বিশ্ব দরবারে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
অভিনয় জীবনে সুরুজ মিয়া চলচ্চিত্রে সুরুজ মিয়া, জয়যাত্রা চলচ্চিত্রে তরফদার, মেড ইন বাংলাদেশ চলচ্চিত্রে ডিসি আখতার ঊদ্দিন খান, আহা! চলচ্চিত্রে মল্লিক সাহেব, দ্যা লাস্ট ঠাকুর চলচ্চিত্রে ঠাকুর, জাগো চলচ্চিত্রে কোচ, ঘেটুপুত্র কমলা চলচ্চিত্রে জমিদার চৌধুরী হেকমত আলী, দেশা-দ্যা লীডার চলচ্চিত্রে হাসান হায়দার চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালক হিসাবে পাঁচ শতাধিক টিভি নাটক পরিচালনা ও প্রায় এক হাজার রজনী মঞ্চ নাটক করেছেন।  এবং চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, আমেরিকা, ল-ন, ভারত, সুইডেন, থাইল্যান্ড, হংকং, মালেশিয়া সহ অসংখ্য দেশ ভ্রমণ করেছেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ টেলিভিশনে একজন নিয়মিত  নাট্য  অভিনেতা  হিসাবে  তালিকাভুক্ত আছেন। তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্র ও পরিচালিত নাটকগুলো মানুষের মনে চিরকাল গেঁথে থাকবে।
[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 218 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com