রাণীনগরে শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও প্রধান মন্ত্রীর ছবি টাঙ্গাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ

Print

 

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের অফিস কক্ষে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টাঙ্গানোর সময় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকসহ ৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এবিষয়ে সুষ্ট তদন্ত করে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাণীনগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।
গত মার্চ মাসে উপজেলার শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনাটি ঘটেছে এ নিয়ে ব্যাপক বিঃশৃংখলার সৃষ্টি হয়েছে ওই স্কুলে। এতে করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্কুলের কিছু শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীসহ স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় সুষ্ট তদন্ত করে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য ৮ই নভেম্বর স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অনুলিপি প্রদানসহ রাণীনগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

স্কুল, স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি গুলো পুরাতন হওয়াই প্রধান শিক্ষক দুইটা নতুন ছবি কিনে আনে ও পুরাতন ছবি খুলে নতুন ছবি গুলো টাঙ্গিয়ে দেন। পরে স্কুলের পিয়ন মো: আব্দুর রহমানকে পুরাতন ছবি গুলো ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের অফিস কক্ষে টাঙ্গাতে বলেন।

প্রধান শিক্ষকের অনুমতিতে স্কুলের পিয়ন সহকারী শিক্ষকদের অফিস কক্ষে বঙ্গবন্ধু ও প্রধান মন্ত্রীর ছবি টাঙ্গাতে গেলে পিয়নকে বিভিন্ন অজুহাতে সেখানে ছবি ঠাঙ্গাতে বাধা প্রদান করে ওই উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো: শামিমুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক মো: শফিউল ইসলাম, মো: খাইরুজ্জামান ও তাদের সহযোগী মো: আলতাব আলীসহ মোট ৪ জন শিক্ষক। সেই দিনেই ওই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহকারী শিক্ষকদের অফিস কক্ষে জোর করে বঙ্গবন্ধু ও প্রধান মন্ত্রীর ছবি টাঙ্গায়ে দেয়।

এর পর থেকে ব্যাপক বিঃশৃংখলা সৃষ্টি হয় স্কুলে। বিষয়টি জানাজানি হলে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে স্কুলের অন্যান্যে শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, অবিভাবকসহ স্থানীয়রা। তারপর থেকে প্রধান শিক্ষকের প্রতি অসদ আচরণসহ কারনে অকারনে বিরুদ্ধচারন করছেন এই ৪শিক্ষকরা। এতে করে স্কুলের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার আশংকা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। এদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী করেছেন অবিভাবকসহ স্থানীয়রা।

শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রী: হরেন্দ্রনাথ সরকার জানান, বিদ্যালয়ে আমার অফিস কক্ষে বঙ্গবন্ধু ও প্রধান মন্ত্রীর ছবি পুরাতন হওয়াই আমি বঙ্গবন্ধু ও প্রধান মন্ত্রীর দুইটা নতুন ছবি কিনে আনি এবং আমার কক্ষের পুরতন ছবি গুলো খুলে নতুন ছবি টাঙ্গিয়ে দিই। পরে পুরাতন ছবি দুইটা আমাদের সহকারী শিক্ষকদের অফিস কক্ষে টাঙ্গাতে বলি বিদ্যালয়ের পিয়ন মো: আব্দুর রহমানকে । পিয়ন ছবি গুলো টাঙ্গাতে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে সেখানে ছবি টাঙ্গাতে বাধা সৃষ্টি করেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো: শামিমুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক মো: শফিউল ইসলাম, মো: খাইরুজ্জামান ও তাদের সহযোগী মো: আলতাব আলীসহ ৪ জন শিক্ষক।তারপর থেকে আমার সাথে অসদ আচরণসহ কারনে অকারনে বিরুদ্ধচারন করছেন এই ৪ শিক্ষকসহ বিদ্যালয়ের সভাপতি। এ ঘটনার সুষ্ট তদন্ত করে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য ৮ নভেম্বর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবার একটি লিখিত অভিযোগ করেছি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অনুলিপি প্রদান করি।

শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ের পিয়ন মো: আব্দুর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষকের অনুমতিতে আমি সহকারী শিক্ষকদের অফিস কক্ষে বঙ্গবন্ধু ও প্রধান মন্ত্রীর ছবি দুটো টাঙ্গাতে যাই। ছবি টাঙ্গাতে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষক মো: শামিমুল ইসলাম, মো: শফিউল ইসলাম, মো: খাইরুজ্জামান, মো: আলতাব আলী শিক্ষকরা ছবি টাঙ্গাতে দিবে না বলে বাধা দেয়।

বঙ্গবন্ধু ও প্রধান মন্ত্রীর ছবি টাঙ্গানোর সময় বাধা প্রদান করার বিষয়ে অভিযুক্ত শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো: শামিমুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক মো: শফিউল ইসলাম, মো: খাইরুজ্জামান ও তাদের সহযোগী মো: আলতাব আলীসহ সব শিক্ষকের কাছে মুঠোফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা সবাই বলেন, এটা মিথ্যা। আমরা কোন বাধা দেয়নি।

এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আব্দুল জলিল বলেন, আমি লিখিত অভিযোগটি হাতে পাইনি। তবে বিষয়টি আমি মৌখিক শুনেছি। যদি এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আল মামুন বলেন, প্রধান শিক্ষক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন আমি তার অনুলিপি পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

 

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 87 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com