রোজ ৩টি খেজুরেই মিলবে স্ট্রোকসহ নানা রোগের সমাধান

Print

খেজুর আমাদের সবার প্রিয় এবং পরিচিত একটি ফল। শুধু এর স্বাদের জন্য নয় বরং খেজুরে কিছু অসাধারণ রোগ নিরাময় গুণও রয়েছে। সাধারণত বলা হয়ে থাকে, বছরের যতটি দিন রয়েছে খেজুরে তার চেয়ে বেশি গুণ রয়েছে। এমন কি উচ্চ রক্তচাপ এবং স্ট্রোকের হাত থেকে রক্ষা করবে খেজুর।

এটি খুবই উপকারী একটি খাবার। কেবল রোজার মাসেই নয় প্রতিদিন ৩ টি করে খেজুর খেলে শরীরে বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবেন। তাহলে সে বিষয়গুলো জেনে নেয়া যাক:

উচ্চ রক্তচাপ এবং স্ট্রোক প্রতিদিন ১০০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণ করা হলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে ১০%। আর খেজুরে ম্যাগনেসিয়াম থাকে বলে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। খেজুরে পটাসিয়াম ও থাকে যা হৃদপিণ্ডের কাজ স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ কমায়। প্রায় ৭ টির মত গবেষণায় প্রমাণ করা হয়েছে যে, ম্যাগনেসিয়াম স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। এই গবেষণাটি আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন এ প্রকাশিত হয়েছিলো এবং এতে স্পষ্টভাবেই দেখানো হয় যে, খেজুর স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও পলিফেনল যা রক্তে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ফলে সুস্থ থাকে আমাদের হৃদযন্ত্র। এছাড়া ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় খেজুর শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল (এল ডি এল) এর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এতে বিভিন্ন ধরনের হ্রদরোগের ঝুঁকি কমে যায়।

ব্যথা

খেজুরে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা অ্যান্টিইনফ্লামেটরি উপাদান হিসেবে কাজ করে বলে ব্যথা দূর করতে ও ফোলা কমাতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, খেজুরের ম্যাগনেসিয়াম ধমনীর ইনফ্লামেশন কমাতে সাহায্য করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এর পাশাপাশি অন্য ইনফ্লামেশনজনিত সমস্যা যেমন- আলঝেইমার্স, আরথ্রাইটিস ও অন্যান্য সমস্যার সমাধানে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

পুষ্টি

খেজুরে প্রচুর পুষ্টি উপাদান থাকে। দিনে ৩ টি করে খেজুর খেলে আপনার ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হবে। খেজুরে পাওয়া যায় কপার, পটাসিয়াম, ফাইবার, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন বি ৬ এবং ম্যাগনেসিয়াম। তাই আপনার পুষ্টির চাহিদা পূরণে অনন্য খেজুর।

পরিপাক

খেজুর হজম সহায়ক খাবার। যদি আপনার আইবিএস, কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল সমস্যা বা পরিপাকের অন্য কোন সমস্যা থাকে তাহলে খেজুর আপনাকে সহায়তা করতে পারে। খেজুরে উপস্থিত ফাইবার কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। অর্শ রোগের চিকিৎসায় খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

গর্ভাবস্থা

ফিলিপাইন এর ইউনিভার্সিটি অফ সান্তো টমাস এর করা গবেষণায় জানা যায় যে, খেজুর প্রসবকে সহজ হতে সাহায্য করে। গবেষকেরা ৬৯ জন নারীর উপর গবেষণা করেন। তারা দেখেন যে, যে নারীরা গর্ভাবস্থার শেষের ৪ সপ্তাহে খেজুর খান তাদের প্রসব সহজে হয়। প্রসব পরবর্তী ওজন কমাতেও সাহায্য করে খেজুর।

মস্তিষ্ক

খেজুরে উপস্থিত উপাদান নিয়ে গবেষণা হয়েছে এবং এতে দেখানো হয়েছে যে, এদের সাথে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক বিদ্যমান। আপনি যখন প্রচুর ভিটামিন বি ৬ গ্রহণ করবেন তখন আপনার মস্তিষ্ক ভালোভাবে কাজ করবে। অর্থাৎ আপনি ভালোভাবে ফোকাস করতে পারবেন, সঠিকভাবে মনে রাখতে পারবেন এবং তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে খুব দ্রুত কাজ করতে পারবেন। খেজুর আপনার মস্তিষ্ককে বা মনকে ধারালো হতে সাহায্য করবে এবং আপনাকে অনেক বেশি শিখতে সাহায্য করবে।

গ্লুকোজ

শতকরা ৮০ ভাগ শর্করা থাকায় খেজুর খুব দ্রুত শরীরে গ্লুকোজের অভাব পূরণে সক্ষম। ক্লান্ত শরীরে যথেষ্ট পরিমাণ শক্তির যোগান দিতে সক্ষম এই খেজুর।

কোষ্ঠকাঠিন্য

প্রচুর পরিমাণ ফাইবার থাকায় নিয়মিত খেজুর খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যসহ পেটের যেকোন রোগে এটি মহা ওষুধের কাজ করে। এছাড়া বদহজম, অন্ত্রে সংক্রমণ, হেমোরয়েড ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা হ্রাস পায়।

আয়রন

খেজুরে রয়েছে প্রচুর আয়রন। তাই এটি রক্তশূন্যতা পূরণে সাহায্য করে।

হাড়ের গঠন

এছাড়া প্রচুর খনিজ সম্পন্ন হওয়ায় এটি আমাদের হাড়ের গঠন মজবুত করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

খেজুরে রয়েছে এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 31 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com