লড়াই করে হারল বাংলাদেশ

Print

সাকিব আল হাসানের ফিফটিতে এক সময়ে বড় সংগ্রহের আশা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে শেষের ব্যাটিং ব্যর্থতায় গুটিয়ে যায় আড়াইশ রানের আগেই। মাঝারি পুঁজি নিয়ে লড়াই করলেন বোলাররা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। রোমাঞ্চকর ম্যাচে রস টেইলরের ফিফটিতে ২ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে নিউ জিল্যান্ড।

নিউ জিল্যান্ডের ২ উইকেটে জয়

বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় অধরাই রয়ে গেল বাংলাদেশের। লড়াই করে এবার ২ উইকেটে হেরেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

২৪৫ রানের লক্ষ্য ১৭ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে গেছে কেন উইলিয়ামসনের দল। বাংলাদেশের বিপক্ষে বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচেই লক্ষ্য তাড়া করে জিতল নিউ জিল্যান্ড।

টেইলরের ফিফটিতে এক সময়ে সহজ জয়ের পথেই ছিল তারা। দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলে বাংলাদেশ। তবে লোয়ার অর্ডারের ছোট ছোট অবদানে জয়ের হাসিতেই মাঠ ছাড়ে নিউ জিল্যান্ড।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৪৯.২ ওভারে ২৪৪ (তামিম ২৪, সৌম্য ২৫, সাকিব ৬৪, মুশফিক ১৯, মিঠুন ২৬, মাহমুদউল্লাহ ২০, মোসাদ্দেক ১১, সাইফ ২৯, মিরাজ ৮, মাশরাফি ১, মুস্তাফিজ ০*; হেনরি ৯.২-০-৪৮-৪, বোল্ট ১০-০-৪৪-২, ফার্গুসন ১০-০-৪০-১, ডি গ্র্যান্ডহোম , নিশাম ২-০-২৪-০, স্যান্টনার ১০-১-৪১-১)

নিউ জিল্যান্ড: ৪৭.১ ওভারে ২৪৮/৮ (গাপটিল ২৫, মানরো ২৪, উইলিয়ামসন ৪০, টেইলর ৮২, ল্যাথাম ০, নিশাম ২৫, ডি গ্র্যান্ডহোম ১৫, স্যান্টনার ১৭*, হেনরি ৬, ফার্গুসন ৪*; মাশরাফি ৫-০-৩২-০, মুস্তাফিজ ৭.১-০-৪৮-০, মিরাজ ১০-০-৪৭-২, সাইফ ৭-০-৪১-২, সাকিব ১০-০-৪৭-২, মোসাদ্দেক ৮-০-৩৩-২)

ফল: নিউ জিল্যান্ড ২ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: রস টেইলর

বোল্ড করে হেনরিকে ফেরালেন সাইফ

ফুলটস বলে বোল্ড করে ম্যাট হেনরিকে ফেরালেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।

বোলারের মাথার ওপর দিয়ে ওড়াতে চেয়েছিলেন ব্যাটসম্যান। কিন্তু বলে-ব্যাটে করতে পারেননি। এলোমেলো হয়ে যায় স্টাম্পস।

৮ বলে এক চারে ৬ রান করে ফিরেন হেনরি। ৪৭ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ২৪৪/৭। ক্রিজে মিচেল স্যান্টনারের সঙ্গী লকি ফার্গুসন।

নিশামকে ফেরালেন মোসাদ্দেক

দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে দেখে মোসাদ্দেক হোসেনকে আক্রমণে ফেরালেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। কাজে লেগে গেল তার বোলিং পরিবর্তন। এসেই জিমি নিশামকে ফিরিয়ে দিলেন মোসাদ্দেক।

অফ স্পিনারের ফুল লেংথ বল লং অফ দিয়ে ওড়াতে চেয়েছিলেন নিশাম। টাইমিং করতে না পেরে সৌম্যর হাতে ধরা পড়েন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

৩৩ বলে দুই চার ও এক ছক্কায় ২৫ রান করেন নিশাম। ৪৪ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ২২০/৭।

ডি গ্র্যান্ডহোমকে ফেরালেন সাইফ

বোলিংয়ে ফিরে কট বিহাইন্ড করে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে ফিরিয়ে দিলেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।

ডানহাতি এই মিডিয়াম পেসারের স্লোয়ার বাউন্সারে আপারকাট করতে চেয়েছিলেন ব্যাটসম্যান। বলে গতি না থাকায় যায়নি বেশি দূর। লাফিয়ে ক্যাচ গ্লাভসে জমান মুশফিকুর রহিম।

১৩ বলে ১৫ রান করে বিদায় নেন ডি গ্র্যান্ডোহম। ৪৩ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ২১৮/৬। ক্রিজে জিমি নিশামের সঙ্গী মিচেল স্যান্টনার।

বিপজ্জনক টেইলরকে ফেরালেন মোসাদ্দেক

মোসাদ্দেক হোসেনের আগের ওভার থেকে ১০ রান নিলো নিউ জিল্যান্ড। তবুও অফ স্পিনারকে বোলিংয়ে রাখলেন অধিনায়ক। আস্থার প্রতিদান দারুণভাবে দিলেন মোসাদ্দেক, ফিরিয়ে দিলেন বিপজ্জনক রস টেইলরকে।

বলটা অবশ্য খুব একটা ভালো ছিল না। লেগ স্টাম্পের বাইরে পরে বেরিয়ে যাচ্ছিল। ঠিক মতো খেলতে পারলেন না টেইলর, ব্যাটের কানায় লেগে ক্যাচ গেল মুশফিকুর রহিমের কাছে। ভুল করেননি এই কিপার, গ্লাভসে জমান ক্যাচ।

৯১ বলে নয় চারে ৮২ রান করেন টেইলর। ৩৯ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ১৯৩/৫। ক্রিজে জিমি নিশামের সঙ্গী কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম।

মিরাজের জোড়া আঘাত

শুরুতে মুশফিকুর রহিমের ব্যর্থতায় বেঁচে যাওয়া কেন উইলিয়ামসন লম্বা সময় ক্রিজে থাকলেও খুঁজে পাননি ছন্দ। মেহেদী হাসান মিরাজকে ওড়ানোর চেষ্টায় ক্যাচ দিয়ে শেষ হলো নিউ জিল্যান্ড অধিনায়কের নড়বড়ে ইনিংস। সেই ওভারেই টম ল্যাথামকে ফিরিয়ে দিলেন তরুণ অফ স্পিনার।

বেরিয়ে এসে অফ স্পিনারকে ফ্লিক করেছিলেন উইলিয়ামসন। টাইমিং করতে না পেরে ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। ভাঙে ১০৫ রানের জুটি।

তিনটি ডট বল খেলার পর মিরাজকে ওড়াতে চেয়েছিলেন টম ল্যাথাম। টাইমিং করতে পারেননি এই কিপার-ব্যাটসম্যান। অনেকটা দৌড়ে এসে ডিপ মিডউইকেটে সামনের দিকে ঝাঁপিয়ে চমৎকার ক্যাচ মুঠোয় নেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। চার বলে শূন্য রানে ফিরেন ল্যাথাম।

৩২ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ১৬২/৪। ক্রিজে রস টেইলরের সঙ্গী জিমি নিশাম।

উইলিয়ামসন-টেইলর জুটিতে একশ

দুই ব্যাটসম্যান খেলছেন দুই মেজাজের ক্রিকেট। বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে দ্রুত এগোচ্ছেন রস টেইলর। সাবধানী ব্যাটিং তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন কেন উইলিয়ামসন। তৃতীয় উইকেটে ১১৬ বলে শতরানের জুটি গড়েছেন নিউ জিল্যান্ডের দুই ব্যাটিং ভরসা।

৩০ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ১৫৮/২। ৬২ বলে টেইলর ৬৮ ও ৭০ বলে উইলিয়ামসন ৩৯ রানে ব্যাট করছেন।  জয়ের জন্য শেষ ২০ ওভারে আরও ৮৭ রান চাই তাদের।

আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে টেইলরের ফিফটি

ক্রিজে যাওয়ার পর থেকে বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছেন রস টেইলর। দ্রুত এগোনো এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ৪০ বলে তুলে নিয়েছেন ফিফটি। তার ক্যারিয়ারের ৪৮তম, বাংলাদেশের বিপক্ষে অষ্টম।

এই সময়ে টেইলের ব্যাট থেকে এসেছে সাতটি বাউন্ডারি। মার্টিন গাপটিল ও কলিন মানরোকে হারানোর ধাক্কা টেইলরের ব্যাটে সামাল দিয়েছে নিউ জিল্যান্ড।

২৫ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ১৩৮/২। টেইলর ৫৩ ও কেন উইলিয়ামসন ৩৫ রানে ব্যাট করছেন।

উইলিয়ামসন-টেইলর জুটিতে পঞ্চাশ

সাকিব আল হাসানের জোড়া আঘাতের ধাক্কা সামাল দিয়ে নিউ জিল্যান্ডকে এগিয়ে নিচ্ছেন কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর। দুই ব্যাটিং ভরসা ৫৪ বলে গড়েছেন পঞ্চাশ রানের জুটি।

শুরু থেকে নড়বড়ে উইলিয়ামসন টাইমিং করতে এখনও ভুগছেন। অন্য দিকে ক্রিজে যাওয়ার পর থেকে আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করছেন টেইলর। জুটিতে অগ্রণী তিনিই।

১৯ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ১০৫/২। অধিনায়ক উইলিয়ামসন ২৭ ও টেইলর ২৯ রানে ব্যাট করছেন।

মুশফিকের ব্যর্থতায় বাঁচলেন উইলিয়ামসন

কেন উইলিয়ামসনকে দ্রুত ফেরানোর একটা সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল মুশফিকুর রহিমের দৃষ্টিকটু ব্যর্থতায়। ঝুঁকিপূর্ণ এক রান নিতে গিয়ে বিপদ ডেকে এনেছিলেন নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক।

তামিম ইকবালের থ্রো সরাসরি স্টাম্পে যাচ্ছিল। আগ বাড়িয়ে ধরতে গিয়ে তালগোল পাকান মুশফিক। তার কনুইয়ে লেগে বল গ্লাভসে আসার আগেই পড়ে যায় বেলস। নিশ্চিত রান আউট থেকে বেঁচে যান সে সময় ৮ রানে ব্যাট করা উইলিয়ামসন। ৯ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ৬৭/২, টেইলর ও উইলিয়ামসন দুজনেই ৯ রানে ব্যাট করছেন।

মানরোকেও ফেরালেন সাকিব

মার্টিন গাপটিলের পর অন্য ওপেনার কলিন মানরোকেও ফেরালেন সাকিব আল হাসান।

বাঁহাতি স্পিনারকে স্লগ সুইপ করতে চেয়েছিলেন মানরো। বলের নিচে যেতে পারেননি বাঁহাতি এই ওপেনার। সামনের দিকে ঝাঁপিয়ে চমৎকার এক ক্যাচ মুঠোয় নেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

৩৪ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় ২৪ রান করে ফিরেন মানরো। ১০ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ৫৫/২। ক্রিজে কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে রস টেইলর।

এসেই গাপটিলকে ফেরালেন সাকিব

সাকিব আল হাসানকে সামলাতে বাড়তি প্রস্তুতি নিয়েছিল নিউ জিল্যান্ড। সেই সাকিব বোলিংয়ে এসেই মার্টিন গাপটিলকে ফিরিয়ে ভাঙলেন শুরুর জুটি।

মেহেদী হাসান মিরাজকে ছক্কায় স্বাগত জানিয়েছিলেন গাপটিল। একই কাজ করতে চেয়েছিলেন সাকিবের বেলায়ও। বাঁহাতি স্পিনারের অ্যাঙ্গেলে ভেতরে ঢোকা বল লং অফ দিয়ে ওড়াতে চেয়েছিলেন বিস্ফোরক ওপেনার। টাইমিং করতে না পেরে লং অনে ধরা পড়েন তামিম ইকবালের হাতে।

১৪ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় ২৫ রান করেন গাপটিল। ৬ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ ৪৩/১। ক্রিজে কলিন মানরোর সঙ্গী কেন উইলিয়ামসন।

হেনরির জোড়া আঘাতে থামল বাংলাদেশ

পরপর দুই বলে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনকে ফিরিয়ে ২৪৪ রানে বাংলাদেশকে থামিয়েছেন ম্যাট হেনরি।

৫০তম ওভারের প্রথম বল জায়গায় দাঁড়িয়ে ওড়াতে চেয়েছিলেন মাশরাফি। টাইমিং করতে পারেননি, থার্ড ম্যানে ক্যাচ মুঠোয় জমান বোল্ট। ২ বলে এক রান করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

পরের বলে ফুল লেংথ ডেলিভারিতে সাইফকে বোল্ড করেন হেনরি। নির্ধারিত ৫০ ওভারের চার বল বাকি থাকতে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ৩৪ বলে তিন চার ও ইনিংসের একমাত্র ছক্কায় ২৯ রান করেন সাইফ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৪৯.২ ওভারে ২৪৪ (তামিম ২৪, সৌম্য ২৫, সাকিব ৬৪, মুশফিক ১৯, মিঠুন ২৬, মাহমুদউল্লাহ ২০, মোসাদ্দেক ১১, সাইফ ২৯, মিরাজ ৭, মাশরাফি ১, মুস্তাফিজ ০*; হেনরি ৯.২-০-৪৭-৪, বোল্ট ১০-০-৪৪-২, ফার্গুসন ১০-০-৪০-১, ডি গ্র্যান্ডহোম ৮-০-৩৯-১, নিশাম ২-০-২৪-০, স্যান্টনার ১০-১-৪১-১)

মিরাজকে ফেরালেন বোল্ট

অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজকে কট বিহাইন্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নিলেন ট্রেন্ট বোল্ট।

বাঁহাতি পেসারের শর্ট বল বেরিয়ে এসে পুল করতে চেয়েছিলেন মিরাজ। ঠিকমতো খেলতে পারেননি, ব্যাটের কানায় লেগে ক্যাচ যায় কিপার টম ল্যাথামের কাছে।

৯ বলে ৭ রান করে ফিরেন মিরাজ। ৪৯ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ২৪৪/৮। ক্রিজে মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের সঙ্গী মাশরাফি বিন মুর্তজা।

বোল্টকে ওড়ানোর চেষ্টায় ফিরলেন মোসাদ্দেক

ট্রেন্ট বোল্টকে ছক্কা হাঁকিয়ে চাপ সরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন। পারেননি এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান, ফিরে গেছেন লং অনে ক্যাচ দিয়ে।

মোসাদ্দেকের টাইমিং হচ্ছিল না খুব একটা। বোল্টের যে বল ওড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন, টাইমিং করতে পারেননি সেটাতেও। বেশ উপরে উঠে যাওয়া ক্যাচ মুঠোয় জমান মার্টিন গাপটিল।

কোনো বাউন্ডারি ছাড়া ২২ বলে ১১ রান করে ফিরেন মোসাদ্দেক। ৪৭ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ২২৮/৭। ক্রিজে মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের সঙ্গী মেহেদী হাসান মিরাজ।

এবার পারলেন না মাহমুদউল্লাহ

শেষের ঝড়ের জন্য বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভরসা মাহমুদউল্লাহকে ফেরালেন মিচেল স্যান্টনার।

আঁটসাঁট বোলিংয়ে ব্যাটসম্যানদের বেঁধে রাখা বাঁহাতি এই স্পিনারকে কাভারে খেলেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। বল মাটিতে রাখতে পারেননি। সহজ ক্যাচ মুঠোয় জমান কেন উইলিয়ামসন।

কোনো বাউন্ডারি ছাড়া ৪১ বলে ২০ রান করেন মাহমদুউল্লাহ। ৪৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ২০২/৬। ক্রিজে মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গী মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।

রান বাড়ানোর চাপে আউট মিঠুন

ম্যাট হেনরির শর্ট বল পুল করে ওড়ানোর চেষ্টায় ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেলেন মোহাম্মদ মিঠুন।

রানের জন্য ছটফট করছিলেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। হেনরির বাউন্সারে বেরিয়ে এসে পুল করতে গিয়ে টাইমিংয়ে গড়বড় করে ফেলেন। ফাইন লেগে ক্যাচ মুঠোয় জমান কলিন ডি গ্রান্ডহোম।

৩৩ বলে তিন চারে ২৬ রান করেন মিঠুন। ৩৮ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১৮২/৫। ক্রিজে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গী মোসাদ্দেক হোসেন।

ফিফটি করে ফিরে গেলেন সাকিব

পঞ্চাশ করার পর বেশিক্ষণ টিকলেন না সাকিব আল হাসান। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বলে কাট করতে গিয়ে ফিরে গেলেন কট বিহাইন্ড হয়ে।

ডি গ্রান্ডহোমের বলে কিপিং করতে এগিয়ে এসে দাঁড়িয়েছিলেন টম ল্যাথাম। সাকিবের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে আসা ক্যাচ গ্লাভসে জমান তিনি। ভাঙে ৪১ রানের সম্ভাবনাময় জুটি।

৬৮ বলে সাত চারে ৬৪ রান করেন সাকিব। ৩১ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১৫৫/৪। ক্রিজে মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গী মাহমুদউল্লাহ।

সাকিবের টানা দ্বিতীয় ফিফটিদক্ষিণ আফ্রিকার পর নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষেও ফিফটি করলেন সাকিব আল হাসান। নিজের দুইশতম ওয়ানডেতে পেলেন ৪৪তম ফিফটি, বিশ্বকাপে সপ্তম।

৫৪ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন সাকিব। এই সময়ে তার ব্যাট থেকে আসে পাঁচটি চার। চাপ কাটিয়ে উঠতে মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

২৮ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১৩৭/৩। সাকিব ৫১ ও মিঠুন ১০ রানে ব্যাট করছেন।

মুশফিকের রান আউটে ভাঙল জুটি

আগের ম্যাচে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জুটি উপহার দেওয়া সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম খেলছিলেন দারুণ। তৃতীয় উইকেটে তাদের জমে যাওয়া জুটি ভেঙেছে মুশফিকের রান আউটে।

মিচেল স্যান্টনারের বল কাভারের দিকে ঠেলেই সিঙ্গেল নিতে চেয়েছিলেন মুশফিক। কিছুটা এগিয়ে থাকা সাকিব ফিরিয়ে দেন তাকে। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে, সময় মতো ফিরতে পারেননি কিপার ব্যাটসম্যান। মার্টিন গাপটিলের থ্রো পেয়ে বেলস ফেলে দেন কিপার টম ল্যাথাম। ভাঙে ৫০ রানের জুটি।

৩৫ বলে দুই চারে ১৯ রান করেন মুশফিক। ২৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১১০/৩। ক্রিজে সাকিব আল হাসানের সঙ্গী মোহাম্মদ মিঠুন।

সাকিবের তিন চারে বাংলাদেশের একশ

ইনিংসের শুরুতে একটু সাবধানী থাকা মুশফিকুর রহিম মেডেন খেলেছেন মিচেল স্যান্টনারের একটি ওভার। থমকে যাওয়া রানের গতিতে দম দেওয়ার চেষ্টা করছেন সাকিব আল হাসান।

জিমি নিশামকে ২৩তম ওভারের প্রথম তিন বল তিন বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের সংগ্রহ তিন অঙ্কে নিয়ে গেছেন তিনি। সেই ওভার থেকে আসে ১৭ রান।

২৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১০৮/২। সাকিব ৩৬ ও মুশফিক ১৮ রানে ব্যাট করছেন।

শর্ট বলে ফিরলেন তামিমশর্ট বলে তামিম ইকবালকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে বড় একটা ধাক্কা দিলেন গতিময় পেসার লকি ফার্গুসন।

ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার গতির বাউন্সার পুল করাতে ওড়াতে চেয়েছিলেন তামিম। গতির জন্যই হয়তো টাইমিং করতে পারেননি বাঁহাতি এই ওপেনার। ফিরে যান মিডউইকেটে ট্রেন্ট বোল্টকে সহজ ক্যাচ দিয়ে।

৩৮ বলে তিনটি চারে ২৪ রান করেন তামিম। ১৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৬২/২। ক্রিজে সাকিব আল হাসানের সঙ্গী মিডল অর্ডারের সবচেয়ে বড় ভরসা মুশফিকুর রহিম।

বোল্ড হয়ে ফিরলেন সৌম্য

শুরুর কঠিন সময়টা পার করার পর ফিরলেন সৌম্য সরকার। ম্যাট হেনরিকে ক্রস ব্যাটে খেলতে গিয়ে হলেন বোল্ড।

হেনরির আগের ওভারে অফ দিয়ে দুটি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন সৌম্য। পরের ওভারে লক্ষ্য করেছিলেন লেগ সাইড। ক্রস ব্যাটে খেলতে গিয়ে ঠিক মতো পারেননি। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল আঘাত হানে স্টাম্পে। ভাঙে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।

২৫ বলে তিন চারে ২৫ রান করেন সৌম্য। ৯ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৪৬/১। ক্রিজে তামিম ইকবালের সঙ্গী আগের ম্যাচের নায়ক সাকিব আল হাসান।

বাংলাদেশের সাবধানী শুরুইনিংসের শুরুতে সাবধানী ব্যাটিং করছেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। দুই বাঁহাতি ওপেনারের ধীরে এগোচ্ছে বাংলাদেশ।

৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ২২/০। দুই ব্যাটসম্যানই খেলেছেন ১৫ বল করে। দুই জনেরই রান ১১। সৌম্যর ব্যাট থেকে এসেছে একটি বাউন্ডারি, তামিমের ব্যাট থেকে দুটি।

অপরিবর্তিত নিউ জিল্যান্ড একাদশ

আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে টম ল্যাথাম জানিয়েছিলেন, একই একাদশ নিয়ে খেলবে নিউ জিল্যান্ড। তা-ই হয়েছে শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়া দলটি নিয়েই খেলছে তারা।

চোট থেকে সেরে না ওঠায় টানা দ্বিতীয় ম্যাচে একাদশের বাইরে আছেন টিম সাউদি ও হেনরি নিকোলস। তিন পেসার, দুই পেস বোলিং অলরাউন্ডার ও একজন স্পিনিং অলরাউন্ডার নিয়ে বাংলাদেশের মুখোমুখি হচ্ছে নিউ জিল্যান্ড।

নিউ জিল্যান্ড দল: মার্টিন গাপটিল, কলিন মানরো, কেন উইলিয়ামসন, রস টেইলর, টম ল্যাথাম, জিমি নিশাম, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, মিচেল স্যান্টনার, ম্যাট হেনরি, লকি ফার্গুসন, ট্রেন্ট বোল্ট।

একই একাদশ নিয়ে বাংলাদেশ

উইকেট ও প্রতিপক্ষ ভিন্ন হলেও একাদশে কোনো পরিবর্তন আনেনি বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানো একাদশই খেলছে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে ব্যবহৃত উইকেটে খেলা ও তাদের ব্যাটিং অর্ডারে বেশ কজন বাঁহাতি দেখে অফ স্পিনে বাড়তি বিকল্প হিসেবে নেওয়া হয়েছিল মোসাদ্দেক হোসেনকে। নিউ জিল্যান্ডের সম্ভাব্য ব্যাটিং অর্ডারেও প্রথম ছয়জনের মধ্যে তিন জন বাঁহাতি। মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে মোসাদ্দেকের অফ স্পিনও তাই কাজে লাগাতে চায় দল

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুস্তাফিজুর রহমান।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছেন নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিং পেয়েছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা জানান, টস জিতলে বোলিং নিতেন তিনিও। ব্যাটিং সহজ হবে না, ব্যাটসম্যানদের টিকে থাকার চেষ্টা করতে হবে।

বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম জয়ের সন্ধানে

ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের পর নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষেই প্রথম বাংলাদেশের জয় দুই অঙ্ক স্পর্শ করেছিল। কিউইদের দুটি সিরিজে হোয়াইটওয়াশের কীর্তি আছে তাদের। তবে বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় এখনও অধরাই রয়ে গেছে। পঞ্চম দেখায় সেই অপূর্ণতা ঘোচানোর অপেক্ষায় বাংলাদেশ।

লন্ডনের দা ওভালে বাংলাদেশ সময় খেলা শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়।

বিশ্বকাপে আগের চার ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে রান তাড়া করে জিতেছে নিউ জিল্যান্ড। প্রথম তিনটিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হয়নি। ২০১৫ আসরে লড়াই করে ৩ উইকেটে হারে বাংলাদেশ।

কিউই সুইং আর কিউই ঝড়ের চ্যালেঞ্জের সামনে বাংলাদেশ

এবারের নিউ জিল্যান্ড দলের বড় শক্তি পেস আক্রমণ। দারুণ স্কিলফুল ও বৈচিত্রময়। ট্রেন্ট বোল্টের গতিময় সুইং, ম্যাট হেনরির উইকেট শিকার করার প্রবণতা, লকি ফার্গুসনের গতি। মূল তিন পেসারের সঙ্গে পেস বোলিং অলরাউন্ডার কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ও জিমি নিশামের নিয়ন্ত্রণ ও ছোট ছোট সুইং।

যে কোনো উইকেটেই এই পেস আক্রমণ দুর্দান্ত। তবে যদি কন্ডিশন থাকে এ রকম পক্ষে আর উইকেটে থাকে ঘাস, এই পেস আক্রমণ ভয়ঙ্কর। প্রথম ম্যাচে কার্ডিফে সেটি টের পেয়েছে শ্রীলঙ্কা।

তাদের পেসাররা যেমন তোপ দাগান প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের দিকে, কিউইদের দুই ওপেনার আবার মুহূর্তেই এলোমেলো করে দেন প্রতিপক্ষ বোলারদের। কলিন মানরোর কাছে বল মানেই পেটানোর জিনিস। মার্টিন গাপটিল তো ওয়ানডেতে বিশ্বসেরা ওপেনারদেরই একজন। দুইজন বাংলাদেশের বিপক্ষে বেশ সফলও। তাই কঠিন চ্যালেঞ্জ মাশরাফি বিন মুর্তজার দলের সামনে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 47 বার)


Print
bdsaradin24.com