শার্শার প্রবীণ ১৫৩ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে মাইলফলক সম্মাননা

Print

মোঃ মুক্তার হোসেন,বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার অবহেলিত-ত্যাগী ৭০ এর উর্ধে বয়স ১৫৩ নেতা-কর্মীকে মাইলফলক সম্মাননা দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে শতবর্ষী নেতাও আছেন। যাদের লড়াই-সংগ্রামে এদেশ স্বাধীন হয়েছে এবং ৭৫ পরবর্তীতে অত্যাচার-নির্যাতন উপেক্ষা করেও আওয়ামী লীগের রাজনীতি বাংলার মাটিতে টিকিয়ে রেখেছিলেন সেই নেতাকর্মীদের সম্মাননা জানাতে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বিশেষ কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপন সমাবেশ করেন। প্রবীণ এসব রাজনীতিবিদদের উত্তরীয় পরিয়ে দেন মেয়র লিটন। একই সাথে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পরে নিজ হাতে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে অভিনন্দন জানান মেয়র লিটন। এসময় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন প্রবীণ রাজনীতিবিদরা। তারা সমাবেশকে মেয়র লিটনের অনন্য উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেন। সমাবেশ প্রবীণ-নবীনদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। সমাবেশস্থল ছাড়াও সড়কে জনতা অবস্থান করেন।

শনিবার বিকেলে বেনাপোল কেন্দীয় শহীদ মিনার ও বলফিল্ড মাঠে এ ব্যতিক্রর্মী এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও উলাশী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল আলম।

কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপন সমাবেশে আশরাফুল আলম লিটন বলেন, গত শতাব্দির প্রবীণ ও বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যারা বয়সের ভারে ন্যুজ, যাদের লড়াই আর সংগ্রামে আমরা পেয়েছিলাম একটি ভূখ-,তারা আজ সমস্ত আলো আর আলোচনার বাইরে। যারা এক সময় ছিলেন শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রাণ, সততা সাথে সাংগঠনিক নেতৃত্ব, গৌরবজ্জল ইতিহাস আজ তারা অভিমানে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। এই প্রবীণ নেতারা নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের জন্য লড়াই করেছিলেন। তাদের অবদানের জন্যই আজ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। তাদের কারণেই দলের নেতাকর্মীর এখন সসুময় যাচ্ছে। অথচ আমরা তাদের ভুলে গেছি।

মেয়র লিটন কৃতজ্ঞতা জানানোর কারণ জানিয়ে বলেন, দেরিতে হলেও যারা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, তাদেরকে কৃতজ্ঞতা জানাতে আজ সমাবেশের আয়োজন করেছি। এ কৃতজ্ঞতার মধ্য দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আত্মা শান্তি পাবে। কারণ আপনারা তার আদর্শের রাজনীতি করেছিলেন। আপনারা তার কন্যাকে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ এনেছিলেন। আপনারা রাজনীতি করে তার কন্যাকে এদেশে প্রতিষ্ঠিত করে আজ পদ্মা সেতু নির্মাণে অবদান রেখেছেন। কৃতজ্ঞতাতো আপনাদের জানাতে হবেই; তা না হলে সুন্দরের বড় অবক্ষয় হবে। আজ আমরা ক্ষমতার লোভে হানাহানি করি। আমরা অত্যাচারী হয়ে উঠি। আমরা অর্থ সম্পদের ভাগাভাগিতে একে অপরকে ক্ষতবিক্ষত করে তুলি। আমরা জাতির জনকের আদর্শ ভুলে গেছি। কিন্তু আপনাদের মধ্যে এসব কিছুই ছিল না।
যুব ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য মেয়র লিটন বলেন, আজ এই মঞ্চে শতবর্ষী প্রবীণ নেতা ডাক্তার হানেফ আলী এসে সভাকে অলংকৃত ও সম্মানিত করেছেন। আমার সেই জন্য সবচেয়ে বেশী আনন্দ হচ্ছে। এ সভাকে তিনি ধন্য করেছেন। এই মঞ্চে যে মানুষ গুলো এসেছেন, তারা এক সময় তোমাদের মত তেজস্বী ছিল। এদের যৌবন ছিল, শক্তি ছিল। মানুষকে সম্মান করতেন। তাই তোমরাও মানুষকে সম্মান করবে।

আওয়ামী লীগের বিপথগামীদের সমালোচনা করে আশরাফুল আলম লিটন বলেন, আজ শার্শায় আওয়ামীলীগ ছিনতাই হয়ে গেছে। নেতৃত্ব দিচ্ছে জামাত বিএনপি।
তিনি বলেন, বিএনপির যে কর্মীর নেতৃত্বে নাভারণে মতিয়া চৌধুরীর মঞ্চ ভাঙ্গা হয়েছিল, তাদের মধ্যে কেউ এখন নৌকা প্রতীকের শার্শার চেয়ারম্যান, শার্শা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। পুনর্বাসিত সেই বিএনপির কর্মীরা শার্শায় প্রকৃত আওয়ামী লীগ প্রেমীদের আঘাত করছে। আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এদের প্রতিহত করতে হবে। শার্শা থেকে দানবের রাজনীতি প্রতিহত করে প্রকৃত আওয়ামলীগারদের হাতে রাজনীতি তুলে দিতে হবে।

কৃতজ্ঞতা সমাবেশে সম্মান পাওয়া প্রবীণ রাজনীতিবিদ বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ মাস্টার বলেন, আজ যে ব্যাতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান দেখছি, সেটি আগে কখনো দেখি নাই। এটা মাইল ফলক হিসাবে থাকবে।

শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা আহসান ফিরোজ বলেন, এখনো এরকম শ্রদ্ধা জানাতে আওয়ামীলীগে নেতা আছে, ভাবতে আমার চোখে পানি আসছে। আমরা আজ গর্বিত। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সম্মানিত হলাম, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভুলব না। আমরা এই জনপদে বেনাপোল মেয়রকে আগামী দিন এমপি হিসাবে দেখতে চাই।

শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি মিনহাজ উদ্দিন বলেন, আজ শার্শায় আমরা ভালো নেই। কারণ আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব আওয়ামী লীগের হাতে নেই। ডিহি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, আজ আমরা পোড় খাওয়া নেতা কর্মীরা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে বেঁচে আছি। শার্শার আওয়ামী লীগকে বনদস্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।

লক্ষ্মণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা সালাউদ্দিন বলেন, আমরা যে সম্মানে আজ সম্মানিত হলাম, এটা আমাদের চাওয়ার চেয়ে পাওয়া বেশী হয়েছে। আজ শার্শার আওয়ামী লীগ ছিনতাই হয়েছে। এটাকে উদ্ধার করে প্রকৃত আওয়ামী লীগ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য মেয়র লিটন ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুুুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আহ্বান জানান।

এই কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপন সমাবেশে শার্শার ১১টি ইউনিয়নের হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা বন্দর নগরী বেনাপোলের বিভিন্ন সড়ক দিয়ে মিছিল নিয়ে বেনাপোল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বলফিল্ডে সমবেত হন। আওয়ামী লীগ পরিবারের নবীন-প্রবীণের মিলনমেলায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাবেক ছাত্র নেতা তুহিন ইসলাম ফারাজি।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 254 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ