শুদ্ধি অভিযানে মন্ত্রী-এমপিরা আতঙ্কিত

Print

চলমান শুদ্ধি অভিযানে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সরকারের দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী ও এমপিরা। অভিযুক্ত এসব মন্ত্রী ও এমপির তালিকা প্রধানমন্ত্রী ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর হাতে রয়েছে। চাঁদাবাজি, টেন্ডার, কমিশন, মাদক ও ক্যাসিনোসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ইতোমধ্যে কয়েকজন এমপির ব্যাংক হিসাব তলব এবং স্থগিত করা হয়েছে। কয়েকজনের বিদেশযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বিতর্কিত এসব কর্মকাণ্ডের সাথে অনেকের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেলেও ঠিক কার কার নাম পরবর্তী তালিকায় রয়েছে তা নিয়ে আতঙ্কিত এমপি-মন্ত্রীরা।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘চলমান শুদ্ধি অভিযান লোক দেখানো নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। অনেক এমপি, নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী নজরদারিতে রয়েছেন। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। সময়মতো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতিকে কখনো প্রশ্রয় দেননি এবং ভবিষ্যতেও দেবেন না। সে জন্য চলমান শুদ্ধি অভিযানের ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত কঠোর। অনেকে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে, দলীয় পদ-পদবি ব্যাবহার করে নানা অপকর্ম করছেন। এতে দলের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। এক্ষত্রে যত প্রভাবশালীই হোকনা কেন, কেউ পার পাবে না। আর অভিযুক্তরা আতঙ্কিত হবেন এটাই স্বাভাবিক।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ থেকে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠার পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর তাদের অব্যাহতি দিয়ে পরবর্তী দুইজনকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেন সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক (বহিষ্কৃত) খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে আকস্মিকভাবে শুরু হয় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একে একে যুবলীগ নেতা জি কে শামীম, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল ইসলাম ফিরোজ, যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী স¤্রাটকে গ্রেফতার করা হয়। রিমান্ডে তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী নানা অভিযোগের মুখে যুবলীগের প্রভাবশালী চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দিয়ে তার পরিবারের সব ব্যাংক হিসাব স্থগিত এবং বিদেশ যাত্রার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ব্যাংক হিসাব স্থগিত করে বিদেশ যাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকেও। বহিষ্কার করা হয়েছে যুবলীগের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক আনিসুর রহমান ও ঢাকা দক্ষিণের যুগ্ম সম্পাদক কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদকে। পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোল্লা আবু কাউছার ও সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেব নাথ এমপিকে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 55 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com