শুদ্ধি অভিযান চলবে আওয়ামী লীগে

Print

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে শুরু হওয়া শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকবে। ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতার অপসারণ এবং যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার গ্রেফতারের পর এ তালিকায় রয়েছেন আরো কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। দল ও সরকারের ইমেজ রক্ষায় তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন সরকারপ্রধান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তারই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রবেশের অনুমতিপত্র বাতিল করা হয়েছে অনেকের। আওয়ামী লীগ ও সরকারের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সূত্রগুলো জানায়, টানা সরকারে থাকায় ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতারা বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়েছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগায় চলত মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, জুয়া, ক্যাসিনোসহ অসামাজিক ননা কার্যক্রম। কিন্তু প্রশাসন ম্যানেজ থাকায় কেউ কোনো দিন বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। প্রভাবশালী এ মহলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে উল্টো নিজেরাই ফেঁসে যাওয়ার আতঙ্কে ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাঠ কর্মকর্তারা। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থানের পর সেই চিত্র বদলে গেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের টেন্ডার থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠার পর ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতাকে অপসারণ করে পরবর্তী দুইজনকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেন শেখ হাসিনা। দলের সভায় ছাত্রলীগের পাশাপাশি যুবলীগের কয়েক নেতার নাম ধরে তাদের নানা অপকর্ম তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের শীর্ষ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট এবং সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার চাঁদাবাজি, জুয়া ও ক্যাসিনোর কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। দলে কোনো অস্ত্রবাজ, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জুয়াড়িদের স্থান হবে না বলে হুঁশিয়ার করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান। সরকারের টানা ক্ষমতার সুবাদে কে কত টাকার মালিক বনে গেছেন, কে কোথায় কী করছেন সেই তথ্য আছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর এমন অবস্থানের পরপরই নড়ে চড়ে বসেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বুধবার ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের পরিচালিত একাধিক ক্যাসিনো বারে অভিযান চালায় র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয় একাধিক হত্যা মামলার আসামি যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে। গতকাল তার ১৪ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগ সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে। ক্যাসিনো, মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকেও যেকোনো সময় গ্রেফতার করা হতে পারে বলে সরকারের একাধিক সূত্র আভাস দিয়েছে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 34 বার)


Print
bdsaradin24.com