শুধু প্রাইমারী শিক্ষকের সন্তান কেন কর্মকর্তাদের সন্তানকেও পড়তে হবে প্রাইমারীতে।

Print

প্রাইমারী বনাম কিন্ডারগার্টেন

কর্তৃপক্ষ বলেছে প্রাইমারী শিক্ষকদের সন্তানকে প্রাইমারী স্কুলেই পড়াতে হবে।

এ নিয়ে সারাদেশে প্রাইমারী শিক্ষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

কেউ বলেছে,#আমার সন্তানকে আমি কোথায় পড়াবো সেটা একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার।”

কেউ কেউ স্বইচ্ছায়,ভালোলাগা থেকে তাদের সন্তানদের প্রাইমারী স্কুলে পড়ান বলে উল্লেখ করেছেন।

কেউ বলেছেন শুধু প্রাইমারী শিক্ষকের সন্তান কেন কর্মকর্তাদের সন্তানকেও পড়তে হবে প্রাইমারীতে।l

কেউ আবার খুব এপ্রিশিয়েট করেছে এ প্রস্তাব।

এ বিষয়ের উপর বিভিন্ন ক্রিয়া- প্রতিক্রিয়া দেখে আমি ভাবলাম এই টপিকস এর উপর কিছু লিখা প্রয়োজন।

প্রথমত বলতে চাই ” প্রাইমারী শিক্ষা সব শিক্ষার মূল ভিত্তি”।

এই লেভেলে স্কুল ভাগ হয়ে নাম হয়েছে কিন্ডার গার্টেন এবং সরকারী প্রাইমারী।

কিন্ডারগার্টেনে অভিভাবকরা টাকা দিয়ে সন্তানদের পড়ায়।

সরকারী স্কুলে শিক্ষার্থীরায় টাকা পায়।

পয়েন্ট নং-১

কিন্ডারগার্টেনে পড়া শিক্ষার্থীর বাবা-মা মোটামুটি স্বচ্ছল ও ধনী পরিবারের।

প্রাইমারী স্কুলে ৯৫% প্রায় শিক্ষার্থী নিম্নবিত্ত (ভ্যানওয়ালা, রিক্সাওয়ালা, মুড়িমাখাওয়ালা,দিনমজুর,কামলা, ইত্যাদি) পরিবারের।

পয়েন্ট নং-২

কিন্ডারগার্টেনের বাচ্চারা হয় নাদুস-নুদুস,পরিষ্কার,ঝকঝকে, তকতকে,সুন্দর সুগন্ধিযুক্ত।

পক্ষান্তরে প্রাইমারী বাচ্চাদের প্রায়শঃ পায়ে স্যান্ডেল নাই, উস্কো-খুশকো,নাক অপরিষ্কার,খেলতে খেলতে ধুলো মাখা গায়ে শার্ট পরে স্কুলে চলে আসে।( বিশেষ করে গ্রামের বাচ্চারা)

পয়েন্ট নং -৩

কিন্ডারগার্টেনের বাচ্চারা ২-৪টা প্রাইভেট তো পড়েই।

প্রাইমারীর বাচ্চারা সন্ধ্যাতেও বই খুলে পড়তে বসে কিনা ক্লাসে আসলে বুঝা যায়।

পয়েন্ট নং-৪

খুবই ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপার কিন্টারগার্টেনের অবকাঠামো খুব উন্নত

নয়।

বাট বর্তমান প্রাইমারী স্কুল গুলোতে রয়েছে সুসজ্জিত, মনোরম বিল্ডিং

পয়েন্ট নং-৫

উপরোক্ত চিত্রে কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে বলেনতো?

পরিবেশ।বাহ্যিক নয়, অভ্যন্তরীন।

যে কোনো পিতা-মাতা চায় তাদের সন্তানদেরকে একটু সুস্থ সুন্দর পরিবেশ দিতে।

বলতে পারেন তাহলে প্রাইমারী বাচ্চাদের আপনারা পরিবেশ শেখাননা?

১০০ বার বলবো হ্যাঁ শেখাই আমি তো বলবো এরা যতটুকু পরিবেশ পায় সব শিক্ষকদের কল্যানেই হয়।

কারনটা কি, পেটের দায় যেখানে মূখ্য সেখানে পরিবেশ নিয়ে ভাববার সময় কই এদের।

একজন প্রাইমারী শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের নিয়ে যখন অনেক বিষয়ে হতাশ হই। তখন মনে হয় শিক্ষার্থীদের আগে এদের বাবা-মায়েদের পড়াই,কিছু শিখাই।

বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলি, স্কুলে এক মাকে খুব স্বাভাবিকভাবে বললাম মেয়েকে বাসায় একটু দেখিয়েন, ও তো ক্লাসে পড়া দেয়না একদিনও।মহিলা আমাকে অবাক করে দিয়ে সেখানেই বাচ্চাটিকে গালি,মাইর দিতে শুরু করলো।আমি পুরাই আহম্মক।

শিশু জরিপে বাসায় বাসায় ঘুরছি এক দরজায় যেয়ে কড়া নাড়ছি দরজা খুলে এক মহিলা আসলো সংগে কমপক্ষে ২-৩ বছরের বাচ্চা এসেই আমাদের দুই কলিগকে দেখে বললো এই মাগী। আমি ‘থ’

একবার না কয়েকবার।পরে ওর মা ওকে থামালো।

চলে আসতে আসতে আমার কলিগ বললো বাচ্চারা পরিবারে যা দেখে তাই শিখে।

শুধু তাই নয় স্কুলেও আমাদের কানে আসে শিশুদের অশ্নীল গালি।

আমরা শিক্ষকরা যতক্ষণ তাদের কাছে থাকি সেটা থাকে তাদের কাছে স্বপ্নের জগৎ।

বিদ্যা- বুদ্ধি , আচার-আচরণ,নৈতিকতা সব ধারন করে কিন্তু পরিবার,তাদের দারিদ্রতা, চোখের সামনে দেখা বড়দের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ আবার তাদেরকে সব ভুলিয়ে দেয়।

এভাবে ওরা বড় হয়। কেউ নিজেকে বের করতে পারে, কেউ হারিয়ে যায়।

এখন প্রশ্ন হলো আমরা শিক্ষকরা চাইলেই আমাদের সন্তানদের এখানে পড়াতে পারি। ইনফ্যাক্ট আমার জানা অনেক শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণ তাদের সন্তানকে প্রাইমারীতে পড়ায়। সেটা তাদের নিজস্ব ইচ্ছাতেই।কর্তৃপক্ষের চাপে নয়।

আবার কেউ কেউ পড়ায়না। তাতে কি সেটা তাদের ইচ্ছা তারা তাদের বাচ্চাদের কোথায় পড়াবে।

হঠাৎ করে এই অমূলক চাপ কেন?

যদি আপনাদের উদ্দেশ্য হয় যে প্রাইমারীতে ধনী-দরিদ্র সবায় মিলে সকল বৈষম্য দূর করে সকল শিশু সুস্থ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে লেখাপড়া শিখে বড় হবে। তাহলে দেশের সকল কিন্ডারগার্টেন বন্ধ করে দিন।

অথবা শুধু প্রাইমারী শিক্ষকরা কেন, প্রাইমারী সকল কর্মকর্তার সন্তানেরাও প্রাইমারী স্কুলে পড়ুক।

এত এত গবেষণা যারা করেন এই ডিপার্টমেন্ট নিয়ে।

তারা কি মনে করেন এই প্রাইমারী শিক্ষকদের আর তাদের পরিবারকে,গবেষণার আলামত দেখলেই বুঝা যায়।

সবশেষে বলি কোনো কঠোর আইনের ভয়ে নয়,চোখ রাংগানীতে নয় আল্লাহ যখন এই পেশাতেই রিজিক লিখেছেন তখন নিজের সততা দিয়ে নিজের সর্বোচ্চটা দিতে চেষ্টা করি শিশুদেরকে।

জগতের সকল শিশু সুখী হোক,নিরাপদ পরিবেশে মানুষ হয়ে উঠুক।

শিরীন বকুল
সহঃশিক্ষক
সপ্রাবি, দিনাজপুর

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 197 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com