সম্মেলন ঘিরে টানটান উত্তেজনা

Print

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের আসন্ন কেন্দ্রীয় সম্মেলন ঘিরে এখন টানটান উত্তেজনা। টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে কারা আসবেন এ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সারা দেশের উৎসুক নেতা-কর্মীরা গভীর কৌতূহলে নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায়। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব। দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশাও তা-ই। আওয়ামী লীগের পাশাপাশি চার সহযোগী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরেও রয়েছে নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য। মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীরা চান নেতৃত্বে গুণগত পরিবর্তন। সেই লক্ষ্য নিয়েই পদপ্রত্যাশী নেতারা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। সূত্রমতে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলমান আপসহীন নেতৃত্ব নেতা-কর্মীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। বিতর্কিত নেতাদের বাদ দিয়ে ত্যাগী ও যোগ্যদের নিয়ে দলকে ঢেলে সাজাতে চান শেখ হাসিনা। এর মধ্যে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার সঙ্গে বৈঠকসহ গণভবনে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনেও শেখ হাসিনা ইঙ্গিত দিয়েছেন দলে বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই হবে না। দলের উচ্চপর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এবার আওয়ামী লীগে প্রাধান্য দেওয়া হবে তরুণ নেতৃত্ব। নেতৃত্ব নির্বাচনে পারিবারিক রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং দলের দুঃসময়ে ভূমিকা রেখেছেন তাদের ঠাঁই দেওয়া হবে দলে। অনেক প্রবীণ নেতার এবার জায়গা হবে দলের উপদেষ্টা পরিষদে। পাশাপাশি অনেক হেভিওয়েট নেতা ছিটকে পড়তে পারেন কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে। সরকার ও দলকে আলাদা করার পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত। সে কারণে মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যকেও কেন্দ্রীয় কমিটির বাইরে রাখা হতে পারে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দলের আসন্ন সম্মেলন নিয়ে সবাই চিন্তিত। চলমান অভিযান নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন দেখা দিলেও সম্মেলনের মাধ্যমে এমন নেতৃত্ব খুঁজে বের করতে হবে, যাতে করে আমাদের ইমেজ বৃদ্ধি পায়। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের ঠাঁই দেওয়া হবে দলে।’ সূত্রমতে, আওয়ামী লীগের ১৭ সদস্যের প্রেসিডিয়ামে এবার বড় চমক আসতে পারে। বর্তমানে দায়িত্বে থাকা অনেকেই ছিটকে পড়তে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বয়সের ভারে পড়ন্ত কেউ কেউ ছিটকে যাবেন প্রেসিডিয়াম থেকে। আবার যারা নানাভাবে বিতর্কিত হয়েছেন তাদের কেন্দ্রীয় কাঠামোতে স্থান নাও হতে পারে। তারুণ্যনির্ভর কয়েকজন নেতা ভাগ্যক্রমে স্থান পেতে পারেন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামে। প্রেসিডিয়াম সাজাতে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে এবার।

সম্পাদকম-লীর মধ্যে যুগ্ম ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আসবে চমক। পরিচ্ছন্ন ইমেজের পাশাপাশি দক্ষ সংগঠক ও মেধাবীরাই বিবেচনায় আসবেন এ পদে। মাঠের ত্যাগী নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের প্রত্যশা পূরণের বিষয় শেখ হাসিনার সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। সব মিলিয়ে এবার হবে এক অন্যরকম কমিটি।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 42 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com